সারা বাংলা

কুষ্টিয়ায় পাটের ভালো ফলনের আশা

কুদরতে খোদা সবুজ, কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়ায় গত বছরের তুলনায় এবার পাটের চাষ বেড়েছে। ধানের লোকসান পোষাতে এবার অনেক কৃষক পাটের চাষ করেছেন। সেইসঙ্গে ভালো ফলনেরও আশা করছেন তারা।
জেলা মুখ্য পাট পরিদর্শকের কার্যালয়ের তথ্যমতে, চলতি বছর কুষ্টিয়ায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৩৫ হাজার ১০ হেক্টর জমি। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে পাট চাষ হয়েছে ৩৬ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় দুই হাজার ২৫০ হেক্টর, কুমারখালি উপজেলায় চার হাজার ৬৭৫ হেক্টর, খোকসা উপজেলায় তিন হাজার ৭৪০ হেক্টর, মিরপুর উপজেলায় চার হাজার ৪৫ হেক্টর, ভেড়ামারা উপজেলায় তিন হাজার ৮৯০ হেক্টর এবং দৌলতপুর উপজেলায় ১৭ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছে। এ বছর পাটের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে চার লাখ ৭০ হাজার ৯৫১ বেল (১৮০ কেজিতে এক বেল)।
দৌলতপুর উপজেলার লালনগর গ্রামের পাটচাষি মেহবাহ উদ্দিন জানান, এ বছর চার বিঘা জমিতে পাটের চাষ করেছেন। পাটের ফলন বেশ ভালো হয়েছে। তবে এবার পোকামাকড়ের অক্রমণ অন্যান্য বছরের তুলনায় একটু বেশি। এছাড়া প্রচণ্ড দাবদাহের কারণে জমিতে বেশি সেচ দিতে হয়েছে। এতে গতবারের চেয়ে পাটের উৎপাদন খরচ বেশি হয়েছে। আশা করছি বাজারে পাটের ন্যায্য দাম পাবেন।
একই গ্রামের সামসুল প্রামাণিক জানান, এ অঞ্চলে অনেক কৃষক পাটের আবাদ করেছেন। এক বিঘা জমিতে পাট চাষ থেকে শুরু করে ধুয়ে শুকানো পর্যন্ত খরচ হবে প্রায় ১২ হাজার টাকা।
মিরপুর উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামের পাটচাষি ইদ্রিস আলী জানান, গত বছর পাটের ফলন ভালো হওয়ায় এবং চাষিরা কিছুটা ভালো দাম পাওয়ায় এবারও পাট চাষের দিকে ঝুঁকেছেন। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পাটের ভালো ফলনের আশা করা হচ্ছে।
একই উপজেলার চিথলিয়া গ্রামের পাটচাষি সেলিস হোসেন জানান, এবার প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ধানসহ বেশ কিছু রবিশস্যের ক্ষতি হয়েছে। তা ছাড়া ধানের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় অনেক কৃষক পাট আবাদে ঝুঁকেছেন। গত মৌসুমে কৃষক পাটের দামও ভালো পেয়েছেন। এ কারণে পাট চাষে আগ্রহটা এবার বেশি। সরকার ন্যায্য দাম দিলে কৃষক পাট চাষে আরও বেশি আগ্রহী হবেন।
সদর উপজেলার বড়আইলচারা গ্রামের নাজমুল ইসলাম জানান, এখন প্লাস্টিকের বস্তার পরিবর্তে চটের বস্তার ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় পাটের চাহিদা বেড়েছে। ফলে পাটের ভালো দাম পাওয়ায় পাট আবাদে আগ্রহী হয়ে উঠছে কৃষক। এ ছাড়া পাটকাঠির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
পাট ব্যবসায়ী সাবদেল আলী জানান, এখনও নতুন পাট ওঠা শুরু হয়নি। এ মাসের শেষের দিক থেকেই পাট কিনতে পারবেন।
কুষ্টিয়ার মুখ্য পাট পরিদর্শক সোহরাব উদ্দিন বিশ্বাস জানান, গত বছর কৃষক পাটের ন্যায্য দাম পাওয়ায় এবার আগ্রহ বেড়েছে। এ ছাড়া আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার মাঠে পাটের ব্যাপক ফলন হয়েছে। এ মাসের মধ্যেই সরকারিভাবে পাট ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হবে। এরপর বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজিএমসি) নিয়ন্ত্রণাধীন কুষ্টিয়ার একটি পাটক্রয় কেন্দ্রে সরকারিভাবে পাট কেনা শুরু হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..