সারা বাংলা

কুড়িগ্রামে তিস্তার তীরবর্তী এলাকায় ব্যাপক ভাঙন

আমানুর রহমান খোকন, কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামে তিস্তা নদীর তীরবর্তী এলাকায় ব্যাপক ভাঙন চলছে। গত দুই মাসে ৪৩০টি বাড়িসহ প্রায় ৫০০ একর আবাদি জমি বিলীন হয়ে গেছে। নদী তীরবর্তী মানুষ কয়েকবার বসতবাড়ি সরিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছে। ভাঙন রোধে প্রকল্প প্রস্তাবনা জমা দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
জানা গেছে, জেলার উলিপুর উপজেলার চরবজরা, চিলমারী উপজেলার চরপাত্রখাতা, পার্শ্ববর্তী সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের পাড়াসাদুয়া, লখিয়ারপাড়া, মাদারীপাড়াসহ তিস্তা নদীর দুই পাড়ের বেশ কিছু এলাকায় ভাঙন চলছে। সে সঙ্গে রাজারহাট উপজেলার রতিগ্রামসহ বেশ কয়েকটি স্থানে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে।
গত দুই মাসে তিস্তা নদীর ভাঙনে এসব এলাকার ৪৩০ বাড়িসহ প্রায় ৫০০ একর আবাদি জমি বিলীন হয়ে গেছে। সে সঙ্গে এসব এলাকার গৃহহীন পরিবারগুলোর বেশিরভাগই পার্শ্ববর্তী প্রতিবেশীর জমিতে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। বজরা এলাকার পাউবো বাঁধের বেশ কিছু অংশ এরই মধ্যে বিলীন হয়েছে। ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে কাশিমবাজার হাট, সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন, উলিপুর-চিলমারী ভায়া বজরা পাকা সড়ক, চিলমারী-হরিপুর তিস্তা সেতুর প্রস্তাবিত সংযোগ সড়ক।
উলিপুর উপজেলার চরবজরা গ্রামের মর্জিনা বেগম জানান, এ পর্যন্ত তৃতীয়বারের মতো নদীভাঙনের শিকার হয়েছে তার পরিবার। এবার আর ঘর তোলার জায়গাটুকুও নেই। কোথায় যাবে, তার কোনো উপায় নেই।
তিস্তাপাড়ের কাশিমবাজার এলাকার খৈমুদ্দিন মিয়ারও একই অবস্থা। তিনি জানান, গত কয়েক দিনে এ এলাকার ৭০টি বাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। এখন কোথায় তাদের ঠিকানা হবে, তা বলতে পারছেন না। একই এলাকার আকরাম হোসেন, রোস্তম আলীসহ অনেককেই দেখা গেছে তাদের ঘরবাড়ি ও আসবাবপত্র সরাতে ব্যস্ত। কেউ তাদের বসতভিটার গাছ কাটছেন।
পূর্ব বজরা এলাকার ফরহাদ আলী সরকার জানান, এ এলাকার নদীভাঙন রোধে এলাকাবাসী স্ব-উদ্যোগে বাঁশের বান্ডিল ও গাছের গুঁড়ি ফেলে রক্ষার চেষ্টা করছে। এখন পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ড কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
নদী নিয়ে কাজ করা উন্নয়ন সংগঠন জীবিকার পরিচালক মানিক চৌধুরী জানান, তিস্তায় ডালিয়া পয়েন্টে ব্যারাজ নির্মাণ করলেও কখনই এ নদী খনন করা হয়নি। ফলে পলি ও বালি জমে তিস্তার তলদেশ ভরাট হয়ে উঠেছে। এ কারণে সামান্যতেই তিস্তার পানি ওভার ফ্লো হয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করে। সৃষ্টি হয় বন্যার। ডুবে যায় ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি। এছাড়া তিস্তা হয়ে উঠছে ভাঙনপ্রবণ। পানি কমতে শুরু করলেও ভাঙছে। আবার পানি বাড়তে থাকলেও শুরু হয় ভাঙন। ফলে প্রতিবছর বিলীন হয়ে যাচ্ছে বিস্তীর্ণ জনপদ।
চিলমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শওকত আলী, বীর বিক্রম জানান, পাত্রখাতা, ডাঙারচর ও পাশের কাশিমবাজারে তিস্তার তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে এ ব্যাপারে জানানো হয়েছে; কিন্তু বরাদ্দ না থাকায় কোনোরকম কাজ শুরু হচ্ছে না।
এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জানান, ওই এলাকায় কয়েক দিন আগে গিয়ে নদীভাঙন দেখে এসেছেন। ওই এলাকায় তিস্তার ভাঙন থেকে রক্ষার জন্য স্থায়ী ব্যবস্থা জরুরি। তারা কুড়িগ্রামসহ তিস্তা তীরবর্তী চার জেলায় স্থায়ীভাবে নদী খনন, তীর সংরক্ষণসহ বাঁধ নির্মাণের জন্য আট হাজার ১০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা জমা দিয়েছেন। আশা করছেন খুব শিগগির এটি একনেকে পাস হবে এবং স্থায়ীভাবে কাজ করা সম্ভব হবে। জরুরি ভিত্তিতে বেশ কিছু এলাকায় কাজ চলছে। উলিপুর উপজেলার চরবজরা, চিলমারী উপজেলার চরপাত্রখাতা, পার্শ্ববর্তী সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের পাড়াসাদুয়া, লখিয়ারপাড়া, মাদারীপাড়া এলাকা তিস্তার ভাঙন থেকে রক্ষার জন্য জরুরি প্রটেকশন ওয়ার্কের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

সর্বশেষ..