সারা বাংলা

কুড়িগ্রামে ধীরগতিতে চলছে গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের নির্মাণকাজ

আমানুর রহমান খোকন, কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামের আবাসন ও আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলো বসবাসের উপযুক্ততা হারিয়ে ফেলছে। বন্যায় পানির নিচে তলিয়ে থাকায় জীর্ণতার সৃষ্টি হয়েছে সরকারের এসব প্রকল্প। দীর্ঘদিন মেরামত না হওয়ায় হুমকিতে রয়েছে প্রকল্পে বসবাসরত মানুষগুলো। অপরদিকে, নির্মাণাধীন গুচ্ছগ্রামগুলোর কাজ ধীরগতিতে হওয়ায় আহাজারি বাড়ছে প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত প্রত্যাশীদের।
সরেজমিনে উলিপুর উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নে সোহরাব হোসেন চাঁদ আশ্রয়ণ প্রকল্পে গেলে সেখানকার বাসিন্দা জোলেখা বেওয়া, বেলাল হোসেন ও ছকিয়ত মিয়া বলেন, আমরা ১৬ বছর ধরে এই আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাস করছি। প্রতি বছর বন্যায় তলিয়ে যায় এ প্রকল্পসহ আশেপাশের এলাকা। ব্যারাকের ভেতর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় ঘরের
ভেতর অনেক খানাখন্দও তৈরি হয়েছে। ঘরের টিনের বেড়ায় মরিচা ধরে খসে পড়ছে।
তারা বলেন, প্রকল্প নির্মাণের পর থেকে একবারও মেরামতের কাজ করা হয়নি। এ প্রকল্পে আমরা ১০টি ব্যারাকে মোট ১০০ পরিবার বসবাস করছি। আশ্রয়ণ প্রকল্পের পুকুরটি দীর্ঘদিন যাবৎ সংস্কার না হওয়ায় পাড়গুলো ভেঙে গেছে। পুকুরপাড়ে হরহামেশাই দুর্ঘটনা ঘটছে।
একই অবস্থা রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের জয়কুমোর আশ্রয়ণ প্রকল্প, সদর উপজেলার আরাজি পলাশবাড়ী আবাসন প্রকল্পসহ জেলার ৯ উপজেলার সব আশ্রয়ণ ও আবাসন প্রকল্পের।
জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলায় রয়েছে দুটি, ফুলবাড়ীতে আটটি, নাগেশ্বরীতে আটটি, চিলমারীতে দুটি, উলিপুরে একটি, কুড়িগ্রাম সদরে দুটি, চররাজীবপুরে একটি আশ্রয়ণ প্রকল্প। মোট ২৪টি প্রকল্পে ৩১১টি ব্যারাকে দুই হাজার ৪২০টি পরিবার বসবাস করছে।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় একটি, ফুলবাড়ীতে একটি, ভুরুঙ্গামারীতে একটি, রাজারহাটে তিনটি, চিলমারীতে পাঁচটি, নাগেশ্বরীতে একটি, রৌমারীতে দুটি আবাসন প্রকল্প রয়েছে। মোট ১৪টি আবাসন প্রকল্পে ৫৭ ব্যারাকে ৫৭০টি পরিবার বসবাস করছে।
এছাড়াও নির্মাণকাজ চলছে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে কুড়িগ্রাম সদরে চারটি, নাগেশ্বরীতে চারটি, ভুরুঙ্গামারীতে তিনটি, ফুলবাড়ীতে একটি, উলিপুরে তিনটি, রৌমারীতে একটি ও রাজীবপুর উপজেলায় একটি গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের।
২০১৮-১৯ অর্থবছরে কুড়িগ্রাম সদরে তিনটি, নাগেশ্বরীতে ১০টি, উলিপুরে একটি, রাজারহাটে একটি, ভুরুঙ্গামারীতে একটি, ফুলবাড়ীতে একটি গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের নির্মাণকাজ চলছে। গৃহ নির্মাণ বরাদ্দ পাওয়া
যায়নি রাজারহাটের দুটি, ফুলবাড়ীতে তিনটি, রৌমারীতে দুটি, নাগেশ্বরীতে পাঁচটি, ভুরুঙ্গামারীতে তিনটি, উলিপুরে চারটি গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের। প্রকল্পগুলোর কাজ সম্পন্ন হলে নতুন করে ১৩ হাজার ৯৫টি পরিবারের পুনবার্সন সম্ভব হবে।
নির্মাণাধীন গুচ্ছগ্রাম এলাকার স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, প্রকল্পগুলোর কাজ ধীরগতিতে এগোচ্ছে। কিছু কিছু প্রকল্পের মাটি ভরাট করে রাখা হলেও স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু হয়নি।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন বলেন, জেলার ৯ উপজেলায় আবাসন ও আশ্রয়ণ প্রকল্পে অনেক পরিবার বসবাস করছে। কিছু কিছু প্রকল্প বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তদন্ত করে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যারাকগুলো মেরামত করা হবে।

সর্বশেষ..