সারা বাংলা

কুড়িগ্রামে যত্রতত্র গড়ে উঠছে ইটভাটা

আমানুর রহমান খোকন, কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামের ৯ উপজেলায় যত্রতত্র গড়ে উঠেছে অবৈধ পন্থায় ইটভাটা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাটবাজার, সড়ক ও মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা এসব ইটভাটার কারণে পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে। ইট তৈরির জন্য জমির উপরিভাগের মাটি কেটে নেওয়ায় উর্বরতা হারাচ্ছে কৃষি জমি। ইটের দাম, গুণগত মান ও আকার নিয়ে ক্রেতাদের আছে ক্ষোভ।

জানা গেছে, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইন (১৯৭৯) অনুযায়ী ৯ উপজেলায় প্রায় ৩০টি ইটভাটার কার্যক্রম চলে আসছিল। পরে ২০১৩ খ্রিস্টাব্দে ভাটা আইনের কিছুটা পরিবর্তন হলে প্রায় ১৪টি ইটভাটার কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ ছিল। বাকি ১৬টি ইটভাটা হাইকোর্টের রিটের মাধ্যমে ইট পোড়ানোর কাজ চালিয়ে আসছে। সাময়িক বন্ধ থাকা ভাটাগুলো সামান্য সংযোজন দেখিয়ে পূর্ব স্থাপিত ভাটাগুলোতেই ইট পোড়ানোর কার্যক্রম চালাচ্ছে।

বর্তমানে জেলায় ইটভাটার সংখ্যা ৯০ ছাড়িয়ে গেছে। ভাটাগুলোর কার্যক্রম চালানো হচ্ছে জনবসতিপূর্ণ এলাকায়। প্রায় সব ভাটাই আবাদি জমিতে স্থাপিত হয়েছে। কিছু কিছু ভাটার স্থাপনা রয়েছে খাসজমিতে। হাইকোর্টের রিটকৃত ও সামান্য সংযোজিত ইটভাটায় ইট পোড়ানোর কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে আস্ত গাছ কিংবা লাকড়ি। আবাদি জমির উপরিভাগের মাটি কেটে কাঁচা ইট প্রস্তুত করা হচ্ছে।

গ্রাহকদের অভিযোগ, ভাটা মালিকরা ইটের দাম নিচ্ছে ইচ্ছা অনুযায়ী। এছাড়াও বেশি লাভের জন্য ইটের আকার মনগড়াভাবে ছোট করছে। কুড়িগ্রাম টগরাই হাট রেলস্টেশন এলাকায় রেলের খাসজমিতে গড়ে তোলা হয়েছে ডিকে ব্রিকস নামক ভাটা। ১৯৭৯ সালের আইন অনুযায়ী স্থাপিত এ ভাটায় সামান্য সংযোজন দেখিয়ে কৌশলে ইট পোড়ানো হচ্ছে। এই ভাটায় ইট পুড়তে ব্যবহার করা হচ্ছে লাকড়ি। ইট কিনতে আসা আইয়ুব আলী জানান, কুড়িগ্রামের ইটের সাইজ অনেক ছোট ও গুণগত মান অনেক খারাপ, তাই ক্রেতারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। একই সঙ্গে অন্য গ্রহকরাও অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

অপরদিকে, নাগেশ্বরী উপজেলার কুড়িগ্রাম-ভূরুঙ্গামারী সড়কের পাশে নতুন করে স্থাপন করা হয়েছে কয়েকটি ভাটা। এর মধ্যে সততা ফিলিং স্টেশনের পাশে স্থাপন করা হয় এমএইচটি নামের একটি ভাটা। পাম্প সংলগ্ন এলাকায় ভাটা স্থাপন হওয়ায় ওই এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ভীতি কাজ করছে।

সদর হলোখানায় আরাজী পলাশবাড়ী শিশু কিশোর গুচ্ছ গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে এ বছর স্থাপন করা হয়েছে এএম ব্রিকস নামের একটি ইটভাটা। এ ভাটার কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং জনবসতিপূর্ণ এলাকার মানুষের স্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাপ হোসেন জানান, ইট পোড়ানোর কালো ধোঁয়া ও যানবাহনের চলাচলের সময় সড়কের ধুলায় বিদ্যালয়ে টেকা দায়।

কুড়িগ্রাম-চিলমারী প্রধান সড়কের পাশ ঘেঁষে স্থাপন করা হয়েছে একাধিক ইটভাটা। যত্রতত্র গড়ে উঠা ইটভাটার ইট ও কাঁচামাল পরিবহনের কারণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে সড়ক। একই অবস্থা জেলার সব উপজেলায়।

জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক গোলাম মোস্তফা জানান, নতুন গড়ে ওঠা ভাটাগুলো সমিতিভুক্ত নয়। তাই তাদের কোনো কাগজপত্র আছে কিনা তা জানা নেই।

জেলা প্রশাসক অফিস সূত্র জানায়, জেলায় লাইসেন্স প্রাপ্ত ভাটার সংখ্যা ৪০টি, হাইকোর্টে রিট রয়েছে ১৫টি, নতুন আবেদন রয়েছে ১৫টি ইটভাটার জন্য। এবার আটটি ইটভাটা নতুন লাইসেন্স পেয়েছে। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যেই সব উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপনের (নিয়ন্ত্রণ) ২০১৩ অনুযায়ী ভাটার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সদর ইউএনও আমিন আল পারভেজ জানান, ভাটা আইনের নিয়ম না মেনে এবং যে সব ইটভাটা লাইসেন্স ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালনা করছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..