প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

কুয়াশায় সাবধানে গাড়ি চালান

 

 

পৌষ-মাঘ মাসে দেশে শীত ও কুয়াশা বাড়ে। এ সময় শিশু ও বয়স্করা ভোগে শীতজনিত রোগব্যাধিতে। এমন ভোগান্তি থেকে তাদের রক্ষায় সম্ভব সব পদক্ষেপই নেওয়া দরকার। এ সময়ে কুয়াশায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে অন্য সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। বিশেষ করে, দূরপাল্লার বাস-ট্রাক চলাচলে। প্রতি বছর এ সময় দূরপাল্লার বাসে ঘটে উল্লেখ করার মতো দুর্ঘটনা। এতে প্রাণহানি বেড়ে যায়। দুর্ঘটনায় পঙ্গুত্ব বরণ করেন অনেকে। সড়ক দুর্ঘটনায় দ্রুত ও যথাযথ চিকিৎসাসেবা প্রদানে আমাদের ঘাটতি অনেক। এ অবস্থায় যারা পঙ্গুত্ব বরণ করে, তাদের সিংহভাগ হয়ে পড়ে পরিবারের বোঝা।

এ সময়ে নৌযানও পড়ে দুর্ঘটনায়। সারা বছরই কম-বেশি দুর্ঘটনা ঘটে, তবে শীতে এটা বাড়ে উল্লেখযোগ্যভাবে। এর পেছনে কিছু কারণ রয়েছে বৈকি। অভিযোগ বাস, ট্রাক ও নৌযান চালকদের বিরুদ্ধে তারা মনোযোগ সহকারে চালান না। বাসচালকরা বলেন, কুয়াশার কারণে ভালোভাবে দেখা যায় না। এ সময়ে দুর্ঘটনা বেশি হওয়ার জন্য দেশে হাইওয়ে পুলিশের দুর্বল উপস্থিতিও কম দায়ী নয়। তারা যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন না করার অভিযোগও রয়েছে।

কুয়াশার কারণে পণ্যবাহী নৌচলাচলেও ব্যাঘাত ঘটে। বিশেষ করে, রাতে নদীতে বেশি কুয়াশা পড়ে। অনেক নৌযান চরে আটকা পড়ে তখন। এতে যেসব নৌযানে পচনশীল পণ্য থাকে, তা অনেক ক্ষেত্রে নষ্ট হয়ে যায়। একই সময়ে সড়কপথে পণ্যবাহী যান চলাচল ব্যাহত হলে তার সম্মিলিত প্রভাব পড়ে বাজারে। নিত্যপণ্যের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়তেও দেখা যায়।

বাস-ট্রাক ও নৌযান দুর্ঘটনা এড়াতে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। চালকরা স্বাভাবিক গতিতে গাড়ি চালালে অনেকাংশে দুর্ঘটনা কমে আসবে। কুয়াশায় পথঘাট পিচ্ছিল হয়ে পড়ার সময়ে এটা বিশেষভাবে জরুরি। এ সময়ে গাড়িতে ফগ লাইট ব্যবহার করলে দুর্ঘটনা কমবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। এ ধরনের লাইট ব্যবহারে ঘন কুয়াশায়ও দূরের বস্তু ভালো দেখা যায়। অভিযোগ, বাস-ট্রাকে এ লাইট ব্যবহারে উৎসাহী নন অনেক চালক-মালিক। শীতকালে ফগ লাইট ব্যবহারে তাদের উৎসাহী করে তোলাও দরকার। যানবাহন মালিক সমিতিকেও এক্ষেত্রে রাখতে হবে ইতিবাচক ভূমিকা। এ সময়ে দুর্ঘটনা এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মনিটরিং বাড়াবে, এটাও প্রত্যাশিত। এ ব্যাপারে গণমাধ্যমও ভূমিকা রাখতে পারে।