আজকের পত্রিকা সম্পাদকীয়

কৃষককে আদর্শ মানুক সব ঋণগ্রহীতা

শিল্পে অভ‚তপূর্ব উন্নয়ন হলেও বাংলাদেশ এখনও কৃষিনির্ভর। শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, রাস্তা তৈরি ও প্রশস্তকরণ, বাড়িঘরসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ এবং নদীভাঙনে আবাদি জমি কমেই চলেছে। এরই মধ্যে লোকসংখ্যা অনেক বেড়ে গেলেও আমাদের কৃষক শস্য উৎপাদনে সাফল্যের পরিচয় দিয়ে চলেছেন। প্রায় ১০০ বছর আগে কবি কৃষককে ‘সব সাধকের বড় সাধক’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, ‘দধীচি কি তাহার চেয়ে সাধক ছিল বড়/পুণ্য অত হবে নাক সব করিলেও জড়।’ একালেও কৃষককে নিয়ে সাধারণ মানুষের এহেন স্তুতি এতটুকু কমেনি। এখনও তারা ‘মুক্তিকামী মহাসাধক’।

কৃষক উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পান না। আবার প্রয়োজনের সময় বেশি দাম দিয়ে তাদের খাদ্যশস্য কিনতে হয়। ভাগ্যবিড়ম্বিত কৃষককে দিন এনে দিন খেতে হয়। কষ্টে-সৃষ্টে মানবেতর জীবন যাপন করলেও এখনও তাদের নৈতিকতাবোধ প্রশসংনীয়। কভিডকালে অন্য পেশাজীবীদের অনেকের চারিত্রিক দীনতা সামনে এসেছে। গতকাল শেয়ার বিজের ‘বিতরণের চেয়ে আদায় বেশি: ঋণ পরিশোধে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন দেশের কৃষক’ শীর্ষক প্রতিবেদনে প্রতীয়মান হয়, এখনও কৃষক স্বমহিমায় ভাস্বর। খবরে বলা হয়, কভিড পরিস্থিতিতে অর্থনীতি বিপর্যস্ত। বড় ব্যবসায়ীরা ঋণ পরিশোধে বাড়তি সময় চাচ্ছেন।

নানা ছাড়ে ঋণ আদায় কম হওয়ায় ব্যাংকগুলো দিশাহারা। ঠিক তখন ঋণ পরিশোধে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কৃষক। কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বক্তব্যকে একধরনের স্বীকৃতিই বলা যায়। তিনি বলেছেন, কৃষকরা সবসময়ই ভালো গ্রাহক। কৃষিঋণ কখনও বিফলে যায় না। কভিডকালে ঋণ পরিশোধের তাগিদ না দিলেও স্বপ্রণোদিতভাবে পরিশোধ করেছেন তারা।

বিপুল জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের বাইরে রেখে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। এসব বিবেচনায় রাষ্ট্র কৃষককে প্রণোদনা দিয়ে থাকে। সন্দেহ নেই, তারা এ প্রণোদনার সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করে থাকেন। ব্যাংকগুলোর উচিত, যথানিয়মে কৃষিঋণ বিতরণ করা। ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা যেন সম্পূর্ণ অর্জিত হয়। বেসরকারি কোনো ব্যাংক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হলে অনর্জিত অংশ বিনা সুদে এক বছরের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রাখার বিধানও বহাল রয়েছে। সুদহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় অনেক ব্যাংকই আমানত পাচ্ছে না।

অর্থ সরবরাহের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙা করা এবং খাদ্য নিরাপত্তা সৃষ্টিতে কৃষি ও পল্লিঋণ বড় ভ‚মিকা রাখে। শুধু এটির বিতরণ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নয়, প্রকৃত কৃষকই যেন এ ঋণ পান, তা নিশ্চিত করতে হবে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে। কড়া নজরদারি এবং প্রতিমাসেই বিতরিত ঋণের হালনাগাদ তথ্য যাচাই করা গেলে কৃষি ও পল্লিঋণ বিতরণ লক্ষ্য অর্জিত হবে বলেই আমরা মনে করি। সহজ-সরল কৃষক ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করার কথা কিন্তু কল্পনাও করেন না। ফলে ঋণ পরিশোধে অন্য ঋণগ্রহীতাদের জন্য অনুসরণীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন তারা। তাই কৃষিঋণ বিতরণে ব্যাংক কর্মকর্তাদের অনীহা-উদাসীনতা কাম্য নয়।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..