সারা বাংলা

কৃষকের জমি দখল করে সরকারি রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ!

মীর কামরুজ্জামান মনি, যশোর: যশোরের মনিরামপুরে কৃষকের পুকুরপাড়ের জমি দখল করে সরকারি রাস্তা পাকাকরণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ করা হচ্ছে, রাস্তার জন্য বরাদ্দ জমি ফেলে রেখে উপজেলার শেখপাড়া গ্রামের কৃষক মীর নওশের আলীর জমি দখল করে রাস্তা পাকাকরণের কাজ শুরু করেছেন ঠিকাদার। কাজটি দেখভাল করছেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।

কৃষক মীর নওশের আলী তার জমি ফেরত পেতে জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন। কিন্তু এ ব্যাপারে এখনও কোনো প্রতিকার করা হয়নি। বরং অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়ায় ঠিকাদার ওই জমির মালিক নওশের আলীকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরে সরকার খুলনা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতাধীন মনিরামপুর উপজেলার রোহিতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে রোহিতা বাজার পর্যন্ত মোট দুই কিলোমিটার (২২০ মিটার) কাঁচা সড়কটি পাকাকরণের জন্য এক কোটি ৯৪ লাখ টাকা বরাদ্দ করে। সে মোতাবেক স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) থেকে টেন্ডার আহ্বান করা হয়। টেন্ডারে কাজটি পান ঝিনাইদহ জেলার ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ইমন এন্টারপ্রাইজের মালিক আলতাফ হোসেন।

গত মার্চে ঠিকাদারকে ওয়ার্কওর্ডার দেওয়া হয়। সে মোতাবেক ঠিকাদার ইতোমধ্যে সড়কের কাজ শুরু করেছেন। কিন্তু রোহিতার কৃষক মীর নওশের আলীর অভিযোগ, সড়কের জন্য সরকারি জমি নির্ধারিত থাকলেও তার ব্যক্তিমালিকানাধীন পুকুরপাড়ের তিন শতক জমি দখলের পর সড়ক নির্মাণ শুরু করেছেন ঠিকাদার। তিনি বাধা দিলেও ঠিকাদার কর্ণপাত না করে নির্মাণকাজ চলমান রেখেছেন। ফলে নওশের আলী প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন।

উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর অফিস থেকে জানা যায়, এ কাজটি ইমন এন্টারপ্রাইজের নামে থাকলেও মূলত: বাস্তবায়ন করছেন মনিরামপুরের সিদ্দিকুর রহমানসহ কয়েকজন ঠিকাদার। তারা ইমন এন্টারপ্রাইজের কাছ থেকে কাজটি ক্রয় (নেগোশিয়েসন) করেন।

তবে নওশের আলীকে হুমকি-ধামকি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে স্থানীয় ঠিকাদার সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে ওই সড়ক দিয়ে (নওশের আলীর পুকুর পাড়) জনসাধারণ চলাচল করে আসছে। ফলে ওই স্থানে পাকাকরণের কাজ শুরু করা হয়েছে।’ তবে তিনি জানান, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে যতদূর সম্ভব নওশের আলীর পুকুরপাড়ের জমি বাদ দিয়ে নির্মাণ করা হবে।

অবশ্য রোহিতা ইউপি চেয়ারম্যান আবু আনসার সরদারও নওশের আলীর পক্ষে সুপারিশ করে জানান, সড়কের মূল (সরকারি) জমি রয়েছে স্থানীয় ইউনুচ আলী নামে এক ব্যক্তির দখলে। সরকারি জমি ছেড়ে দিতে বার বার অনুরোধ করা হলেও তিনি আমলে নেননি।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) রবিউল ইসলাম বলেন, জমি নিয়ে স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা হলে সড়কের স্থান পরিবর্তন করা সম্ভব।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ জাকির হোসেন বলেন, ‘ইতোমধ্যে অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করতে উপজেলা প্রকৌশলীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..