প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

কৃষিঋণে অংশগ্রহণ কমেছে শরিয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংকগুলোর

নিজস্ব প্রতিবেদক:চলতি ২০১৯ সালের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে (এপ্রিল-জুন) ব্যাংক খাতে আমানত, বিনিয়োগ ও রেমিট্যান্স আহরণে অংশগ্রহণ কিছুটা বাড়লেও কৃষিঋণ বিতরণের দিক শরিয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংকগুলোর অংশগ্রহণ অনেকাংশে কমে এসেছে।
শরিয়াহ্্ভিত্তিক ব্যাংকগুলোকে নিয়ে করা বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, আলোচিত ত্রৈমাসিকে দেশের ব্যাংক খাতের বিতরণ করা কৃষিঋণের স্থিতি ছিল ৪২ হাজার ৯৭৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে শরিয়াহ্্ভিত্তিক ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা কৃষিঋণের পরিমাণ ছিল মাত্র ১২৬ কোটি ১০ লাখ টাকা। যা ব্যাংক খাতের মোট বিতরণ করা কৃষিঋণের মাত্র তিন দশমিক ৩১ শতাংশ। অথচ বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে (জানুয়ারি-মার্চ) ব্যাংক খাতের মোট বিতরণ করা কৃষিঋণের মধ্যে শরিয়াহ্্ভিত্তিক ব্যাংকগুলোর অংশগ্রহণ ছিল ৯ দশমিক শূন্য ছয় শতাংশ।
তবে আলোচিত সময়ে দেশের ব্যাংক খাতের মোট আমানতে শরিয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংকগুলোর অংশগ্রহণ কিছুটা বেড়ে ২৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ হয়েছে। এর আগের ত্রৈমাসিকে (জানুয়ারি-মার্চ) মোট আমানতে শরিয়াহ্্ভিত্তিক ব্যাংকগুলোর অংশগ্রহণ ছিল ২৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল-জুন সময়ে দেশের ব্যাংক খাতের মোট আমানতের স্থিতি ছিল ১০ লাখ ৬৪ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে শরিয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংকগুলো অংশগ্রহণ ছিল দুই লাখ ৫৩ হাজার ৫৮ কোটি টাকা।
একইভাবে এপ্রিল-জুন সময়ে ব্যাংক খাতের মোট বিনিয়োগের মধ্যে শরিয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগের অংশগ্রহণ কিছুটা বেড়ে হয়েছে ২৪ দশমিক ২৬ শতাংশ। জানুয়ারি-মার্চ সময়ে শরিয়াহ্ভিত্তিক বিনিয়োগের অংশগ্রহণ ছিল ২৪ দশমিক ১৬ শতাংশ। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আলোচিত সময়ে ব্যাংক খাতের ১০ লাখ ১০ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা মোট বিনিয়োগের মধ্যে শরিয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ ছিল দুই লাখ ৪৫ হাজার ১৮৮ কোটি টাকা।
এছাড়া আলোচিত ত্রৈমাসিকে রেমিট্যান্সে শরিয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংকগুলোর অংশগ্রহণ বেড়ে হয়েছে ২৫ দশমিক ২৭ শতাংশ। এর আগের ত্রৈমাসিকে রেমিট্যান্সে শরিয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংকগুলোর অংশগ্রহণ ছিল ২২ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
পরিসংখ্যান ঘেটে দেখা যায়, বর্তমানে দেশে ৫৯টি ব্যাংকের মধ্যে পুরোদমে শরিয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংকিং কার্যক্রম চালাচ্ছে আটটি ব্যাংক। এছাড়া প্রচলিত ধারার ৯টি ব্যাংকের ১৯টি শাখা এবং সাতটি ব্যাংকের ৪১ উইন্ডোর মাধ্যমে শরিয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংকিং চলছে। সব মিলিয়ে জুন শেষে এ খাতের ব্যাংক শাখার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ২৬১টিতে। ২০১৮ সালের একই সময়ে এর সংখ্যা ছিল এক হাজার ১৭৮টি।
প্রাপ্ত তথ্যে আরও দেখা যায়, গত বছরের জুনে শরিয়াহ্্ভিত্তিক ব্যাংকগুলোর আমানতের পরিমাণ ছিল দুই লাখ ২৪ হাজার ৭৫৬ কোটি টাকা। সুতরাং বছরের ব্যবধানে শরিয়াহ্্ভিত্তিক ব্যাংকিংয়ে আমানতের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এছাড়া ২০১৮ সালের জুনে এ খাতের ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল দুই লাখ ১৬ হাজার ৮২৭ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে এ খাতের বিনিয়োগ বেড়েছে ১৩ দশমিক শূন্য আট শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, বাংলাদেশের সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সমর্থন ও গ্রাহকের উচ্চ চাহিদার ফলে শরিয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংকিং দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিশ্বে শরিয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংকের চাহিদা অনেক বেশি থাকায় ২০১৮ সাল শেষে বিশ্বব্যাপী এ খাতের ব্যাংকিংয়ের সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ১৯ হাজার কোটি ডলার। ২০১৭ সাল শেষে এ খাতের সম্পদ ছিল দুই লাখ পাঁচ হাজার ২২০ কোটি ডলার।
তবে গত কয়েক মাসে দেশের ব্যাংক খাত কিছুটা তারল্য সংকটের মধ্যে দিয়ে যায়। যে কারণে ইসলামিক ব্যাংকিংয়ে উদ্বৃত্ত তারল্যের পরিমাণও আগের বছরের তুলনায় কমছে। ২০১৮ শেষে শরিয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য ছিল ছয় হাজার ৪৬৫ কোটি টাকা, ২০১৯ শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার ৯৯৭ কোটি টাকায়। তবে জানুয়ারি-মার্চ সময়ে তারল্য পরিস্থিতি আরও খারাপ ছিল। সেই হিসেবে জুনে এ খাতের তারল্য ৫৮ শতাংশ বেড়েছে।
বর্তমানে শরিয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংকিংয়ে মোট জনশক্তি রয়েছে ৩৫ হাজার ৩৪১ জন। যা আগের বছরের চেয়ে দুই হাজার ৭৬২ জন বেশি। ২০১৮ সালের জুন শেষে শরিয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংকিংয়ে মোট জনশক্তি ছিল ৩২ হাজার ৫৭৯ জন।
বাংলাদেশের আটটি পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংক হলো; ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, ফার্স্ট সিকিউরিটিজ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক লিমিটেড, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশ লিমিটেড (এক্সিম), সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড ও ইউনিয়ন ব্যাংক লিমিটেড।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ »

সর্বশেষ..