সম্পাদকীয়

কৃষিঋণে শরিয়াহ্ ব্যাংকের অনীহা অগ্রহণযোগ্য

আর্থসামাজিক নানা ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন এলেও এদেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ এখনও কৃষির ওপর নির্ভরশীল। ফলে অর্থনীতি এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ হলেও কৃষি খাতের গুরুত্ব কমেনি। কৃষির আধুনিকায়ন, উন্নত যন্ত্রপাতি ক্রয় এবং যুগোপযোগী চাষপদ্ধতি গ্রহণের জন্য অর্থের প্রয়োজন। সে কারণে কৃষিঋণ বিতরণে ব্যাংকগুলোর প্রতি নির্দেশনা রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের। এক্ষেত্রে শরিয়াহ্ভিত্তিক ইসলামী ব্যাংকের অবস্থা হতাশাজনক। কৃষি ও কৃষকের জীবনমান উন্নয়নে কৃষিঋণ বিতরণ বৃদ্ধির বিকল্প নেই।
গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে ‘কৃষিঋণে অংশগ্রহণ কমেছে শরিয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংকগুলোর’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। খবরটিতে বলা হয়েছে, চলতি বছরের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে কৃষিঋণ বিতরণের দিক দিয়ে শরিয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংকগুলোর অংশগ্রহণ অনেকাংশে কমে এসেছে। উল্লিখিত সময়ে শরিয়াহ্্ভিত্তিক ব্যাংকগুলোর কৃষিঋণের পরিমাণ ছিল মাত্র ১২৬ কোটি ১০ লাখ টাকা, যা মোট বিতরণ করা কৃষিঋণের মাত্র তিন দশমিক ৩১ শতাংশ। প্রথম ত্রৈমাসিকে অংশগ্রহণ ছিল ৯ দশমিক শূন্য ছয় শতাংশ। অথচ ব্যাংক খাতে আমানত, বিনিয়োগ ও রেমিট্যান্স আহরণে অংশগ্রহণ কিছুটা বেড়েছে। এক্ষেত্রে কৃষিঋণ বিতরণে ব্যাংকগুলোর অনীহা দেখাচ্ছে, সেটি স্পষ্ট।
পল্লি ও প্রত্যন্ত এলাকায় এখনও নিম্ন আয়ের বিপুলসংখ্যক মানুষের আয়ের প্রধান উৎস কৃষি। তাদের চাহিদার পরিমাণ কম হলেও তা পূরণ করতে গিয়েই হিমশিম খেতে হয়। এর মধ্যে কোনো কারণে চাষকাজ ব্যাহত হলে তাদের দুঃখ-দুর্দশার শেষ থাকে না। তারা সামান্য পৃষ্ঠপোষকতা পেলে স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারেন। এক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা কৃষিঋণ তাদের জন্য ভালো সহায়ক হতে পারে। কিন্তু রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংকগুলোর এ ধরনের ঋণ বিতরণে অনাগ্রহী হওয়াটা উদ্বেগজনক। এতে কৃষি কর্মকাণ্ড ব্যাহত হলে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে অর্থনীতিতেও। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সরকারের যে পরিকল্পনা, তাও ব্যাহত হবে বৈকি।
খবরেই উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে দেশে ৫৯টি ব্যাংকের মধ্যে শরিয়াহ্ভিত্তিক কার্যক্রম চালাচ্ছে আটটি ব্যাংক। এ ছাড়া প্রচলিত ৯টি ব্যাংকের ১৯টি শাখা এবং সাতটি ব্যাংকের ৪১ উইন্ডোর মাধ্যমে শরিয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংকিং চলছে। সব মিলিয়ে এ খাতের শাখা এক হাজার ২৬১টিতে। এই বিপুলসংখ্যক শাখা কৃষিঋণ বিতরণে পিছিয়ে পড়লে কৃষি খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সন্দেহ নেই। এক্ষেত্রে শরিয়াহ্ভিত্তিক ব্যাংকগুলো কৃষিঋণ বিতরণে আরও আগ্রহী ও দায়িত্বশীল হবে বলে আমাদের প্রত্যাশা। অবশ্য ক্ষুদ্রঋণ নিরাপদ হলেও ঝুঁকিপূর্ণ বড় ঋণ বিতরণে দেশের সব ব্যাংকের আগ্রহ বাড়ছে। নিরাপদ আর্থিক ব্যবস্থাপনার স্বার্থে নিরাপদ ও কৃষির মতো ক্ষুদ্রঋণ বিতরণে ব্যাংকগুলো আগ্রহী হবে বলে আমরা আশা করি।

সর্বশেষ..