দিনের খবর শেষ পাতা

কৃষি খাতে প্রণোদনার ঋণ আরও তিন হাজার কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক: কৃষি খাতের জন্য নতুন করে তিন হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। করোনা মহামারি থেকে উদ্ভূত চলমান অর্থনৈতিক মন্দা থেকে কৃষকদের রক্ষা করতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষিঋণ বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

দেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, দ্বিতীয় পর্যায় বিশেষ প্রণোদনায় পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় কৃষি খাতের জন্য তিন হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব এ তহবিলের মেয়াদ হবে আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত।

পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় ঋণ সুবিধা নিতে ইচ্ছুক তফসিলি ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে একটি অংশগ্রহণমূলক চুক্তি স্বাক্ষর করবে। ব্যাংকগুলোর কৃষি ও পল্লিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা এবং ঋণ বিতরণের সক্ষমতার ভিত্তিতে কৃষিঋণ বিভাগ তহবিল বরাদ্দ দেবে।

এ স্কিমের আওতায় অংশগ্রহণকারী ব্যাংক নিজস্ব নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কৃষক ও গ্রাহক পর্যায়ে ঋণ বিতরণ নিশ্চিত করবে। কৃষি ও পল্লিঋণ নীতিমালার আওতাভুক্ত খাতে বিতরণ করা ঋণের বর্তমান গ্রহীতাদের মধ্য থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও গ্রাহককে অংশগ্রহণকারী ব্যাংক নিজ ব্যাংক থেকে প্রদত্ত বিদ্যমান ঋণ সুবিধার অতিরিক্ত ২০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ (সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা) এ স্কিমের আওতায় বিতরণ করতে পারবে। ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও বর্গাচাষিদের অনুকূলে শস্য ও ফসল চাষের জন্য এককভাবে জামানতবিহীন (শুধু ফসল দায়বন্ধনের বিপরীতে) সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করা যাবে।

গৃহস্থালি পর্যায়ে গাভী পালন ও গরু মোটাতাজাকরণ খাতে ব্যক্তিগত গ্যারান্টির বিপরীতে ঋণ প্রদানে অগ্রাধিকার দিতে হবে। শস্য ও ফসল ঋণ ব্যতীত অন্যান্য খাতের ঋণে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে ন্যূনতম জামানত ও সহায়ক জামানত নিতে পারবে। এ স্কিমের ঋণ কোনোভাবেই গ্রাহকের পুরোনো ঋণ সমন্বয়ের জন্য ব্যবহার করা যাবে না। ঋণখেলাপিরা এ স্কিমের আওতায় ঋণ পাবে না।

এ স্কিমের আওতায় ব্যাংকগুলো এক শতাংশ সুদে

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অর্থ নিতে পারবে। কৃষক পর্যায়ে সুদ বা মুনাফা হার হবে সর্বোচ্চ চার শতাংশ (সরল হারে)। এ সুদহার নতুন ও পুরোনো সব গ্রাহকের জন্য প্রযোজ্য হবে।

কৃষি ও পল্লিঋণ নীতিমালার অন্তর্ভুক্ত শস্য ও ফসল খাতের আওতাভুক্ত দানাশস্য, অর্থকরী ফসল, শাকসবজি, কন্দাল ফসল (আমদানি বিকল্প ফসল, যথাÑডাল, তৈলবীজ, মসলাজাতীয় ফসল ও ভুট্টা চাষে গ্রাহক পর্যায়ে চার শতাংশ সুদ হারে ঋণ বিতরণের পৃথক স্কিম চালু থাকায় এ খাত ব্যতীত), ফল ও ফুল চাষ, মৎস্য চাষ, পোলট্রি ও প্রাণিসম্পদ খাত, কৃষি ও সেচ যন্ত্রপাতি এবং বীজ উৎপাদন খাতগুলোয় ঋণ বিতরণ করা যাবে। ব্যাংকের বরাদ্দ করা তহবিলের ন্যূনতম ৩০ শতাংশ শস্য ও ফসল খাতে বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে।

অংশগ্রহণকারী ব্যাংক পুনঃঅর্থায়ন গ্রহণের তারিখ থেকে অনধিক ১৮ মাসের মধ্যে আসল এবং সুদ বা মুনাফা (বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত এক শতাংশ সুদ/মুনাফা হারে) পরিশোধ করবে। কৃষক পর্যায়ে শস্য ও ফসল খাতে বিতরণ করা ঋণের সর্বোচ্চ মেয়াদ হবে ১২ মাস। এছাড়া অন্যান্য খাতে বিতরণকৃত ঋণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মেয়াদ হবে ন্যূনতম তিন মাস গ্রেস পিরিয়ডসহ ১৮ মাস।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..