কেডিএস লজিস্টিক লিমিটেডের পণ্য পরিবহন শুরু

সাইদ সবুজ, চট্টগ্রাম: অবশেষে কেডিএস লজিস্টিক লিমিটেড থেকে আমদানি-রপ্তানি পণ্য পরিবহন সংকট নিরসন হয়েছে। ছয় দিন বন্ধ থাকার পর চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে উদ্ভূত পরিস্থিতির সমাধান হয়।

মঙ্গলবার রাতে পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও মালিকপক্ষ নিয়ে বৈঠকে বসেন বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বন্দরের নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান, ট্রাপিক বিভাগের প্রধান, সিএমপির বন্দর বিভাগের পুলিশের ডেপুটি কমিশনার, ট্রাপিক পুলিশ বিভাগের ডেপুটি কমিশনার এবং গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা। তিন দফা বিরোধ নিয়ে বসা ওই বৈঠক শেষ হয় রাত সাড়ে ১০টায়। ত্রিপক্ষীয় সভায় দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে সমস্যা সমাধান হয়। চুক্তিতে বলা হয়, প্রাথমিকভাবে কেডিএস লজিস্টিকে কর্মরত তিনজন প্রাইম মুভার ট্রেইলারের ড্রাইভারকে নিয়োগপত্র প্রদান করা হবে এবং বাকিদের ৪৫ দিনের মধ্যে আইনগত দিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে উভয় পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জানা যায়, পরিবহন শ্রমিকদের নিয়োগপত্রসহ বেশ কয়েকটি দাবিতে গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে চট্টগ্রামের বেসরকারি কনটেইনার ডিপো (অফডক) কেডিএস লজিস্টিক লিমিটেডে আমদানি-রপ্তানির পণ্য পরিবহন বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত দেড় হাজারের অধিক টিইইউস (টোয়েন্টি ফুট ইকুয়েভেলেন্ট ইউনিট) রপ্তানি পণ্য রেখেই বিদেশি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দর ত্যাগ করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিপিং কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, বেসরকারি অফডকগুলোর মধ্যে কেডিএস লজিস্টিক পণ্য পরিবহনে প্রায় ৩০ শতাংশ সাপোর্র্ট দিয়ে থাকে। গত কয়েকদিন এই ডিপোতে পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকায় আমারদের কনটেইনারসহ অন্যান্য শিপিং কোম্পানিরগুলোর দেড়-দুই হাজার রপ্তানি পণ্যের কনটেইনার আটকা পড়েছে। ফলে বিদেশি জাহাজগুলো রপ্তানি পণ্যের কনটেইনার ছাড়া চট্টগ্রাম বন্দর ছেড়ে গেছে। যার ফলে বিদেশি বায়ারদের কাছে আমাদের দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। আর এই শ্রমিক অন্তোষের প্রভাব যদি অন্যান্য ডিপোগুলোতে পড়ে তাতে আমাদের রপ্তানিতে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। 

সূত্রে জানা যায়, কেডিএস গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান কেডিএস লজিস্টিক লিমিটেডে (আইসিডি) আমদানি-রপ্তানি পণ্য পরিবহনে প্রায় ১৮০টি নিজস্ব প্রাইম মুভার ব্যবহার করা হয়। এসব ট্রেইলরে এলাইট নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিবহন শ্রমিক নিয়োগ দেয়া হয়। শ্রমিকদের দাবি, তাদের কেডিএস লজিস্টিকের নামে নিয়োগপত্র দিতে হবে। এ বিষয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনায় বসেন শ্রমিক প্রতিনিধিরা। কিন্তু ইতিবাচক কোনো সিদ্ধান্তে আসতে না পারায় ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ডিপো থেকে আমদানি-রপ্তানি পণ্য পরিবহন বন্ধ করে দেন শ্রমিকরা। এতে রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়। ইমেজ সংকটে পড়ে চট্টগ্রাম বন্দর। কেডিএস কর্তৃপক্ষ সমস্যা নিরসন করতে না পারায় উভয়পক্ষকে নিয়ে সোমবার বিকালে বৈঠকে বসেন বন্দর চেয়ারম্যান। কিন্তু তাতে কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি কোনো পক্ষ। তারপর মঙ্গলবার রাতের বৈঠকে সমস্যা সমাধান করা হয়।

প্রাইমমুভার ট্রেইলার শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ মাইনুদ্দিন শেয়ার বিজকে বলেন, মালিকপক্ষকে নিয়ে বন্দর চেয়ারম্যান বৈঠক করেছেন। বৈঠকে কেডিএসের সঙ্গে একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি হয়। চুক্তিটি আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে বাস্তবায়নেরও কথা হয়েছে। ফলে আমরা ওই রাত থেকেই পণ্য পরিবহন শুরু করেছি।

কেডিএস ডিপো থেকে পণ্য পরিবহন নিয়ে উদ্ভূত সংকট সমাধান হয়েছে জানিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর সচিব ওমর ফারুক শেয়ার বিজকে বলেন, দেশের অর্থনীতির স্বার্থে উভয়পক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে সমস্যা সমাধন করা হয়েছে। বৈঠকে চেয়ারম্যানসহ বন্দরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি পুলিশ, পিজিএফআই, এনএসআইয়ে কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। এই ছয় দিনে প্রায় দেড় হাজারের টিইইউসের কাছাকাছি রপ্তানি পণ্যের কনটেইনার আটকা পড়তে পারে। আশা করছি পরিবহন শুরু হওয়ায় এ জট থাকবে না।

কেডিএস লজিস্টিক লিমিটেডের ডিজিএম মিজানুর রহমান বলেন, এলাইট নামের প্রতিষ্ঠানটিও কেডিএসএর অন্য একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান। সম্ভাবত শ্রমিকরা এই বিষয়টি জানতো না। তবে আমরা বলেছি এলাইট কেডিএস গ্রুপের অধীনে পরিচালিত হয়। তাদের সঙ্গে আমাদের একটি চুক্তি হয়েছে। ফলে প্রাথমিকভাবে তিনজনকে এবং বাকিদের আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে কেডিএস অথবা এলাইটের মাধ্যমে নিয়োগের আলাপ-আলোচনা হবে। ফলে কনটেইনার পরিবহন শুরু হয়েছে। গত রাতেই প্রায় ১০০টির মতো কনটেইনার বন্দরে পাঠানো হয়েছে। তবে ছয় দিন বন্ধ থাকায় কি পরিমাণ লোকশান হয়েছে এখনও বলা যাচ্ছে না।


সর্বশেষ..