প্রচ্ছদ প্রথম পাতা বাজার বিশ্লেষণ

কেনার চাপে সব খাতের শেয়ারদরে উল্লম্ফন

রুবাইয়াত রিক্তা: টানা ছয় কার্যদিবসের পতনের পর বিনিয়োগকারীরা আন্দোলন শুরু করলে পুঁজিবাজার চিত্র পাল্টে যায়। গতকাল বাজারে গত কয়েক দিনের তুলনায় একেবারে বিপরীত চিত্র দেখা গেছে। গতকাল লেনদেনের শুরু থেকে শেয়ার কেনা শুরু হলে সব খাতের শেয়ারদরে উল্লম্ফন ঘটে। এদিন ৮৮ শতাংশ কোম্পানির দর ইতিবাচক হয়। এর ফলে দুর্বল-সবল সব ধরনের কোম্পানির শেয়ারদর বাড়তে দেখা যায়। এতে করে একদিনেই সূচক বেড়েছে ১১০ পয়েন্ট বা দুই দশমিক ৩৪ শতাংশ। আমাদের দেশের পুঁজিবাজারে শেয়ারের অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধির যেমন কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। তেমনি টানা দরপতনেরও কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। সব সময়ই বাজারের এ রহস্যময় আচরণের কারণও আর সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জানা হয়ে ওঠে না।

গতকাল মাত্র সাত শতাংশ বা ২৪টি কোম্পানির দর কমেছে। ছোট বড় সব খাতেই প্রায় সব কোম্পানির দর বেড়েছে। বৃহৎ খাতগুলোতে হাতে গোনা কয়েকটি কোম্পানির দরপতন হয়। লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে ওষুধ ও রসায়ন খাত। এ খাতে লেনদেন হয় মোট লেনদেনের ১৮ শতাংশ। এ খাতে ৯৪ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। সাড়ে ১৩ কোটি টাকা লেনদেন হয়ে শীর্ষে উঠে আসে স্কয়ার ফার্মা। শেয়ারটির দর এক টাকা বেড়েছে। বীকন ফার্মার সোয়া ১০ কোটি টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে ৭০ পয়সা। এছাড়া ওয়াটা কেমিক্যালের প্রায় সাত কোটি লেনদেনের পাশাপাশি দর বেড়েছে ১১ টাকা। জেএমআই সিরিঞ্জের ছয় কোটি টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে প্রায় দুই টাকা। প্রকৌশল খাতে লেনদেন হয় ১৭ শতাংশ। এ খাতে একটি কোম্পানি দরপতনে ছিল। ন্যাশনাল টিউবসের সাড়ে ১২ কোটি টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে পাঁচ টাকা ১০ পয়সা। ১০ শতাংশ বেড়ে বেঙ্গল উইন্ডসর থার্মোপ্লাস্টিকস দর বৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে। বিবিএস কেব্লসের দর ৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ বেড়েছে। ১৩ শতাংশ লেনদেন হয় বিমা খাতে। এ খাতে দুটি কোম্পানি দরপতনে ছিল। মার্কেন্টাইল ইন্স্যুরেন্স দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশে অবস্থান করে। এছাড়া ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের সাড়ে সাত কোটি টাকা লেনদেন হয়, দর বেড়েছে সাড়ে চার টাকা। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত শতভাগ ইতিবাচক ছিল। লেনদেন হয় ১১ শতাংশ। এ খাতের সামিট পাওয়ারের প্রায় ৯ কোটি টাকা লেনদেন হয়, দর বেড়েছে ৫০ পয়সা। ইউনাইটেড পাওয়ারের সাড়ে সাত কোটি টাকা লেনদেনের পাশাপাশি দর বেড়েছে ১০ টাকা ২০ পয়সা। দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশে উঠে আসে শাহজিবাজার পাওয়ার। বস্ত্র খাতে ৯১ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। এ খাতে লেনদেন হয় ১০ শতাংশ। প্রায় ১০ শতাংশ করে বেড়ে দেশ গার্মেন্ট, এ্যাসকোয়ার নিট দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশের মধ্যে উঠে আসে। সিরামিক খাতের স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকের সাড়ে আট কোটি টাকা লেনদেন হলেও দরপতন হয় ৩১ টাকা ৮০ পয়সা। অন্যদিকে ১০ শতাংশ বেড়ে মুন্নু সিরামিক দর বৃদ্ধিতে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে আসে। এছাড়া প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে বসুন্ধরা পেপার মিলস দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশের মধ্যে উঠে আসে। গ্রামীণফেনের সাড়ে ১৬ টাকা দর বৃদ্ধি সূচকে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। 

সর্বশেষ..