সম্পাদকীয়

কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তাদের দুর্নীতি দুর্ভাগ্যজনক

অনিয়ম, দুর্নীতি, কেলেঙ্কারি, জালিয়াতি ও অব্যবস্থাপনায় বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ডুবতে বসেছে, এমন খবর প্রায়ই গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এসব খবরের মূল বিষয় হলো যারা ঋণ পাওয়ার যোগ্য নন, তারা ঋণ পাচ্ছেন। যাচাই-বাছাই ছাড়াই আগ্রাসীভাবে ঋণ দেয়া হয়, লাগামহীন খেলাপি ঋণের প্রভাব পড়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর মূলধনে। আধুনিক যুগে প্রতিদিনই ঋণতথ্য তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্ভারে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব। তাই কোনো ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের না জানার কথা নয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণতথ্য নিয়মিতই পর্যালোচনা করে। তাহলে ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি হয় কীভাবে? দেশের এনবিএফআইগুলোকে লাল, হলুদ ও সবুজ রঙে চিহ্নিত করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর পরও অনিয়ম-দুর্নীতি চলতে থাকলে এটিই প্রতীয়মান হয়Ñহয় সংশ্লিষ্টতা, নয় উদাসীনতা রয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থার।

‘পিপলস-ইন্টারন্যাশনাল লিজিং কাণ্ড: ফেঁসে যাচ্ছেন এসকে সুর ও শাহ আলম’ শীর্ষক যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে গতকালের শেয়ার বিজে, তা পাঠকদের মনোযোগ কাড়বে বলেই ধারণা। খবরে বলা হয়, ঘুষের বিনিময়ে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাটের তথ্য চাপা দেয়ার অভিযোগ ওঠায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব থেকে নির্বাহী পরিচালক শাহ আলমকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। আবার কেলেঙ্কারির মূল হোতা পিকে হালদারের সহযোগী হিসেবে কাজ করার অভিযোগে সাবেক ডেপুটি গভর্নর এসকে সুরের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকালই একটি সহযোগী দৈনিকের প্রতিবেদনে বলা হয়, এখনও চার আর্থিক প্রতিষ্ঠান প্রশান্ত কুমার (পিকে) হালদারের নিয়ন্ত্রণে। আমরা মনে করি, কেন্দ্রীয় ব্যাংক যথাযথভাবে তদারকি করলে অব্যবস্থাপনার শিকার হতো না দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। নিয়ন্ত্রক সংস্থার উদাসীনতায় আর্থিক কেলেঙ্কারি সংঘটিত হচ্ছে। এখন সরকারি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ!

গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর এক পর্যবেক্ষণে উচ্চ আদালত বলেছেন, ‘ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান দেখভালের দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বিশেষ করে ডিজিএম, জিএম, নির্বাহী পরিচালক ও ডেপুটি গভর্নররা ঠগবাজ, প্রতারক ও অর্থনৈতিক দুর্বৃত্তদের প্রশ্রয় দিচ্ছে।’ আদালতের পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনাগুলো আমলে নিলে ব্যাংক খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হতো।

নৈতিকতা ব্যাংকের মূল পুঁজি। একসময়কার ডেপুটি গভর্নর এএফএম নুরুল মতিন এক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত হতে পারেন। অবশ্য প্রতি বছর বিআইবিএম তার স্মরণে স্মারক বক্তৃতার আয়োজন করে। সেখানে জ্ঞানগর্ভ আলোচিত হয়। তা ব্যাংক খাতে নৈতিকতাবোধ জাগ্রত করতে কতটা ভূমিকা রেখেছে, সেটি এখন বড় প্রশ্ন। অনেকে বলেন, ব্যাংক থেকে নৈতিকতা কবেই বিদায় নিয়েছে!

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আওতাভুক্ত সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং বিনিয়োগ ও আমানতের স্বার্থ রক্ষার কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দায়িত্ব বাংলাদেশ ব্যাংকের। এখন বাংলাদেশ ব্যাংককেই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নিতে হবে। টেকসই উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে প্রতারণা-লুটপাটের সহযোগীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..