প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

কেন ভুলপথে বারবার ছোটা?

 

‘অতিমূল্যায়িত হয়ে পড়ছে অখ্যাত কোম্পানির শেয়ার’ শিরোনামে গতকালের শেয়ার বিজে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি আমাদের উদ্বিগ্ন না করে পারে না। সেখানে আমাদের প্রতিবেদক জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানি মেঘনা পিইটির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১২ টাকা ৬০ পয়সায়। বিশ্লেষণে দেখা যায়, সংখ্যাটি গত দুই বছরে আলোচ্য প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের সর্বোচ্চ দর। প্রাপ্ত তথ্যমতে, এ দুবছরে মেঘনা পিইটির শেয়ার সর্বনি¤œ চার টাকা ৯০ পয়সায়ও লেনদেন হয়েছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, নি¤œ পর্যায়ভুক্ত এ কোম্পানির শেয়ার অতিমূল্যায়িত হয় বৃহস্পতিবার। নানা কারণে বাজারে কোনো একটি কোম্পানির শেয়ার অতিমূল্যায়িত হতে পারে। তবে সাম্প্রতিক এ ঘটনায় কিছু অস্বাভাবিকতা রয়েছে বলে প্রতীয়মান। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) কোম্পানি প্রোফাইলে দুবছরে ওই কোম্পানির শেয়ার ১৩ টাকায় লেনদেন হয়েছে বলে উল্লিখিত রয়েছে। অথচ এ তথ্যের সঙ্গে গ্রাফের গরমিল প্রকট। এদিকে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ বলছে, তাদের হাতে এমন কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই যা দ্বারা সাম্প্রতিক দর বৃদ্ধির ব্যাখ্যা মেলে। অবশ্য কেবল মেঘনা পিইটি নয়, বৃহস্পতিবার অতিমূল্যায়িত হয় আরও কয়েকটি নি¤œ পর্যায়ভুক্ত কোম্পানির শেয়ার। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কয়েক মাস আগেও যেখানে ফু-ওয়াং ফুডের শেয়ারদর ছিল ১২ টাকা ৪০ পয়সা, সেখানে বৃহস্পতিবার এর লেনদেন হয়েছে সর্বোচ্চ ২৪ টাকা ৮০ পয়সা দরে। বেশিদিন আগে নয়, যখন রহিমা ফুডের শেয়ার বিক্রি হতো ৩৬ টাকায়; সে শেয়ার বাজারের শেষ কার্যদিবসে বিক্রি হয় ১৬২ টাকায়। আবার এক বছর আগের ছয় টাকা ৬০ পয়সা দামের মেঘনা কনডেন্সড মিল্কের শেয়ার ১৫ টাকা ৫০ পয়সায় বিক্রি হয়েছে বৃহস্পতিবার। এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকতে বলেছেন, তারা যেন ওইসব কোম্পানির অতিমূল্যায়িত শেয়ারে বিনিয়োগ করে বিপদে না পড়েন। আমরা আশা করি, প্রত্যেক বিনিয়োগকারী ওই ধরনের শেয়ারে বিনিয়োগের আগে অবশ্যই যথেষ্ট যাচাই-বাছাইপূর্বক সিদ্ধান্ত নেবেন। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকেও (বিএসইসি) সতর্ক থাকতে হবে, যেন পরিস্থিতি বেশিদূর এগোতে না পারে। ২০১০-১১ সালে অস্বাভাবিক মাত্রায় অখ্যাত কোম্পানির অতিমূল্যায়িত শেয়ার লেনদেন হয়েছিল বাজারে বিপর্যয় ঘটার পূর্বমুহূর্তে।

দুর্ভাগ্য, নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ, বিশেষজ্ঞ ও গণমাধ্যমের তরফ থেকে বারবার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে দেওয়া হচ্ছে, তারা যেন ভালোমতো না ভেবে ও তথ্য যাচাই-বিশ্লেষণ না করে কেবল গুজবের বশবর্র্তী হয়ে বাজারে বিনিয়োগ না করেন। তারপরও কেন জানি একই ভুল পথে ছুটছেন তারা। ২০১০-১১ সালের বিপর্যয়ের পর অনেকবার ঘটেছে একই ঘটনা। এমনকি গত বছর বাজার যখন স্থিতিশীলভাবে চাঙা হচ্ছিল, তখনও হঠাৎ করে এতে ছন্দপতন ঘটে অখ্যাত কোম্পানির অতিমূল্যায়িত শেয়ার লেনদেনে। ঘটনাটি বোধকরি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে, সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এখনও তেমন সচেতন নন বা হননি। একই সঙ্গে তা ঘটনাগুলোর উৎসমূল উদ্ঘাটনে কর্তৃপক্ষের অসাফল্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। এ অবস্থায় বিনিয়োগকারীদের বাজার সম্পর্কে শিক্ষিত করে তোলায় অধিক যত্নবান হওয়া প্রয়োজন। সেজন্য নীতিনির্ধারকদের কী করণীয়, তা অজানা থাকার কথা নয়। আমরা আশা করি, তারা দ্রুতই এ ব্যাপারে অধিক য বান হবেন। পাশাপাশি ওই ঘটনাগুলোর উৎসমূল চিহ্নিতকরণে অধিকতর উদ্যোগ নেওয়া উচিত হবে তাদের। সেক্ষেত্রে কারও আইনবহির্ভূত আচরণের প্রমাণ মিললে তার বিরুদ্ধে নিতে হবে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা।