সম্পাদকীয়

কেবল প্রতিশ্রুতি নয়, বাজেট বাস্তবায়নের রূপরেখা জরুরি

জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের (২০১৯-২০) বাজেট প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে বৃহস্পতিবার। গতকাল গণমাধ্যমে এটি ছিল প্রধান খবর। যথারীতি শেয়ার বিজেরও প্রধান খবর ছিল বাজেট নিয়ে। ‘প্রতিশ্রুতির মোড়কে কর্মপরিকল্পনাহীন বাজেট: বড় খাতে বাড়তি সুবিধা, চাপে ছোটরা’ শীর্ষক প্রতিবেদন পাঠকের মনোযোগ কাড়বে।
শেয়ার বিজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘রাজহাঁস থেকে পালক ওঠাও যতটা সম্ভব ততটা, তবে সাবধান রাজহাঁসটি যেন কোনোভাবেই ব্যথা না পায়।’ নিজের প্রথম বাজেটের শুরুর দিকেই ফ্রান্সের রাজা চতুর্দশ লুইয়ের অর্থমন্ত্রী জে্যাঁ ব্যাপটিস্ট কোলবার্টের উক্তিকে উদ্ধৃত করেন অর্থমন্ত্রী। রাজস্ব ব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী এ সময় আরও বলেন, করদাতার ওপর বোঝা হিসেবে কর চাপিয়ে দেওয়ার বিপক্ষে সরকারের নীতিগত অবস্থান। যদিও ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে ঠিক উল্টো চিত্রই দেখা গেছে। বাজেটে ধনীদের স্বার্থ রক্ষিত হবে বলেই ধারণা। কারণ প্রস্তাবিত বাজেটে সাধারণ করদাতাদের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হয়নি। অথচ তবে ধনীদের সারচার্জমুক্ত সম্পদের সীমা বাড়ানো হয়েছে। আবার কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ অবারিত করে সুবিধা দেওয়া হয়েছে ধনীদের।
যেখানে প্রতিবছরই বাজেট বাস্তবায়নের হার কমছে, ঘাটতি বাড়ছে; সেখানে নতুন কিছু থাকা জরুরি। বাস্তবায়নের হার বাড়ানো এবং ঘাঁটিতে কমাতে তো নতুন কিছু থাকতেই হবে। নতুন কিছু না থাকা মেনে এটি পূর্ববর্তী বাজেটের অবিকল প্রতিরূপ। ফলে এটি হবে গতানুগতিক বাজেট, যা দিয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব নয় বলেই বিশেষজ্ঞদের মত।
ঘোষিত বাজেট আশাহত হবে সাধারণ মানুষ। যখন ন্যায্য দাম না পেয়ে উৎপাদিত শস্য পুড়িয়ে দিচ্ছে কৃষক, যখন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সীমিত আয়ের মানুষ দিশাহারা, তখন শস্যবিমার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, বাড়ানো হয়নি করমুক্ত আয়সীমা। আবারও সর্বজনীন পেনশনের আশ্বাস দেওয়া হলেও সুস্পষ্ট রূপরেখা নেই। একদিকে ঋণখেলাপিদের বিষয়ে নমনীয়তা, অন্যদিকে সীমিত আয়ের লোকজন ও মধ্যবিত্তের দুঃসময়ের ভরসা সঞ্চয়পত্রে মুনাফা কেটে রাখার ঘোষণা। আবার এসব কারণে আমাদের মনে হয়, অর্থবছরের বাজেটের রূপরেখা প্রণয়নে সংশ্লিষ্টরা পরিকল্পনা, বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া, খাতভিত্তিক বরাদ্দ ও সমস্যা নির্ধারণ বিবেচনায় নেননি।
ঘোষিত হওয়ার পর আমলাতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সংশোধিত বাজেট সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী, সংসদে উপস্থাপনের সঙ্গে সঙ্গেই প্রায় আলোচনা ছাড়াই আইনে পরিণত হয়। কেন সংশোধনের প্রয়োজন হলো বা কেন বাস্তবায়িত হলো না, তা নিয়ে অর্থবহ আলোচনা-বিতর্ক হয় না। জনবান্ধব ও উন্নয়ন অগ্রগতির সহায়ক করে তুলতে বাজেট প্রণয়ন, সংশোধন কিংবা পাস করার পদ্ধতিকে ঢেলে সাজানো আবশ্যক।

 

সর্বশেষ..