প্রচ্ছদ শেষ পাতা

কেরানীগঞ্জে আগুনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩

তদন্ত কমিটি গঠন

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকার কেরানীগঞ্জে প্লাস্টিক সামগ্রী তৈরির কারখানায় আগুনে দগ্ধ আরও ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যভ বেড়ে দাঁড়াল ১৩। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বুধবার রাতে ও বৃহস্পতিবার সকালে তাদের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া।

বুধবার বিকালে কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া এলাকায় প্রাইম পিইটি অ্যান্ড প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ওই ঘটনা ঘটে। দগ্ধ আরও ১৮ জন ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন। তাদের অবস্থাও ভালো নয় বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

বাচ্চু মিয়া বলেন, ওই কারখানার ধ্বংসস্তূপ থেকে ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা বুধবার এক যুবকের পোড়া দেহ উদ্ধার করেছিল। তার নাম জাকির হোসেন, বয়স ২২ বছর। এছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে ও সকালে মারা যান ওই কারখানার কর্মী খালেক, সালাউদ্দিন, ইমরান, বাবলু, রায়হান, সুজন, জিনারুল, আলম, জাহাঙ্গীর, ফয়সাল, ওমর ফারুক ও রায়হান।

বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক সামন্ত লাল সেন বলেন, ‘বাকি ১৮ জনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। তাদের মধ্যে শরীরের শতভাগ দগ্ধ রোগীও রয়েছেন। ১১ জনকে শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়েছে।’

বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে প্রাইম পিইটি অ্যান্ড প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড কারখানায় আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট সোয়া এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। একতলা টিনশেড ওই কারখানায় ওয়ান টাইম প্লেট, কাপসহ প্লাস্টিকের বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করা হতো। কোম্পানির মালিকের নাম নজরুল ইসলাম।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয় সংসদ সদস্য জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বুধবার রাতে সাংবাদিকদের বলেন, ওই কারখানার কোনো অনুমোদন ছিল না।

এদিকে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষতির পরিমাণ জানতে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোল্লা জালাল উদ্দিনকে প্রধান করে গঠিত কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশসহ প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

গতকাল শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের শ্রম শাখা থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করে অফিস আদেশ জারি করা হয়। তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেনÑযুগ্ম সচিব (শ্রম) এটিএম সাইফুল ইসলাম, শ্রম অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের ঢাকার উপমহাপরিদর্শক আহমেদ বেলাল ও উপমহাপরিচালক (সেইফটি) মো. কামরুল হাসান। কমিটির সদস্যরা এরই মধ্যে কাজও শুরু করেছেন বলে শ্রম মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে।

কমিটিকে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের পরিদর্শকের মাধ্যমে ওই এলাকায় বিগত বছরে কতগুলো প্লাস্টিক কারখানা পরিদর্শন করা হয়েছেÑএসব পরিদর্শন প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবায়ন হয়েছে কি না; না হয়ে থাকলে তার কারণ এবং ওই এলাকার প্লাস্টিক কারখানাগুলোর ঝুঁকি নির্ধারণ, ঝুঁকি নিরসনের সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে।

এদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, ‘মালিকের গাফিলতির কারণেই কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়ায় প্লাস্টিক কারখানায় অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। তাই মালিকপক্ষই ক্ষতিপূরণ দেবে। এই ক্ষতিপূরণ আদায়ে কাজ করবে সরকার। রাষ্ট্র দগ্ধদের চিকিৎসা দিচ্ছে।’ বৃহস্পতিবার ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে কেরানীগঞ্জের অগ্নিদগ্ধদের অবস্থা পরিদর্শনের পর তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

বেলা পৌনে ১১টার দিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেকে আসেন। সোয়া ১১টার দিকে তিনি দগ্ধদের দেখে বের হন। এ সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘দগ্ধদের সবার অবস্থাই খুব ক্রিটিক্যাল। দু’একজন ছাড়া সবারই ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত পুড়ে গেছে। ইতোমধ্যে ঢামেকের বার্ন ইউনিট থেকে ১১ জনকে শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়েছে। দরকার হলে আরও রোগী সেখানে স্থানান্তর করা হবে।’

বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, ‘আমার জীবনে দেখা সবচেয়ে ভয়াবহ ইনজুরি এটি। বদ্ধ ঘরের ভেতরে ছিল আগুন। যেহেতু প্লাস্টিকের কারখানা, তাই মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ঘরের ভেতরে ছড়িয়ে পড়েছে।’

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
ট্যাগ »

সর্বশেষ..