মার্কেটওয়াচ

কোনো খাত বাদ দিয়ে বাজার গতিশীল করা যাবে না

প্রতি রবি থেকে বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজারের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে এনটিভি ‘মার্কেট ওয়াচ’ অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ে শেয়ার বিজের নিয়মিত আয়োজন ‘এনটিভি মার্কেট ওয়াচ’ পাঠকের সামনে তুলে ধরা হলো:

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যাংকের শেয়ারের দাম গত দুদিন ধরে বাড়ছে। এসব শেয়ারের দর গত দু-এক মাসের তুলনায় ২০-৩০ শতাংশ কমে গিয়েছিল। বর্তমানে ব্যাংক খাত গতিশীল হওয়ার কারণ, সামনে ডিসেম্বর ক্লোজিং। ২০১৭ সালের জুলাই থেকে আগস্টে ব্যাংক ও বস্ত্র খাত ভালো অবস্থানে ছিল। আগামী বছরও এগুলো মিলেমিশে চলবে। তবে কোনো খাতকে বাদ দিয়ে পুঁজিবাজারকে গতিশীল করা যাবে না। গতকাল মঙ্গলবার এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়। খুজিস্তা নূর-ই-নাহারীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক ছিলেন আইআইডিএফসি ক্যাপিটাল লিমিটেডের সিইও মো. সালেহ আহমেদ এবং ইমপ্রেস ক্যাপিটাল লিমিটেডের সিইও মীর সাজেদ উল বাসার।

মো. সালেহ আহমেদ বলেন, মার্কেট যখন ধীরগতিতে থাকে তখন জেড গ্রুপের বিনিয়োগকারীরা সুযোগ নেন। জেড গ্রুপের কোম্পানির পেইড আপ ক্যাপিটাল অনেক কম। তখন ওইসব কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ে। আর যখন ভালো কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়তে থাকে, তখন জেড গ্রুপের শেয়ারের চাহিদা কমে যায়। যে কারণে জেড গ্রুপের শেয়ারের দাম আজ (গতকাল) একটু কম ছিল। এখন ব্যাংকের শেয়ারের দাম বাড়ছে। ব্যাংকের শেয়ার গত মাসে বা তার আগের মাসে যে দামে ছিল তার চেয়ে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কমে গিয়েছিল। এখন বিনিয়োগকারীরা ব্যাংক খাতের দিকে ঝুঁকছেন। তিনি আরও বলেন, ২০১৭ সালের জুলাই থেকে আগস্টে ব্যাংক ও বস্ত্র খাত ভালো অবস্থানে ছিল। আগামী বছরও এগুলো মিলেমিশেই চলবে কিন্তু কোনো খাতকে বাদ দিয়ে পুঁজিবাজারকে গতিশীল করা যাবে না। ব্যাংক খাত গতিশীল হচ্ছেÑকারণ সামনে ডিসেম্বর ক্লোজিং হবে। বেশিরভাগ ব্যাংক ভালো করছে। আর কিছু বহুজাতিক কোম্পানি রয়েছে, যাদের আর্থিক অবস্থা বরাবরই ভালো। তাই যখন সব খাত মিলে একটি বাজার পরিচালিত হবে, তখনই পুঁজিবাজার গতিশীল হবে।

তিনি আরও বলেন, ২০১০ সালের পর থেকে বিনিয়োগকারীরা সেভাবে বাজারে আসছেন না। বর্তমানে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো ডিপিএস জাতীয় কিছু পণ্য এনেছেন মার্কেটে। একজন বিনিয়োগকারী এককভাবে বাজারে পাঁচ-ছয় হাজার টাকা বিনিয়োগ করে তেমন লাভ করতে পারবেন না। মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর লক্ষ্য, তাদের কাছ থেকে প্রতি মাসে পাঁচ-ছয় হাজার করে টাকা নিয়ে একটি ফান্ড গঠন করা। কয়েক বছর পর যখন ফান্ডটি ম্যাচিউরড হবে। তখন সেই ফান্ডের অর্থ নতুন করে বাজারে বিনিয়োগ করার সম্ভাবনা থাকবে।

তিনি আরও বলেন, ২০১৮ সাল নির্বাচনের বছর। দেখে-শুনে, বুঝে ভালো কোম্পানিতে বিনিয়োগ করলে অবশ্যই লাভ হবে। আর ওটিসি ও কম ক্যাপিটালের কোম্পানিগুলোকে সঠিকভাবে আইন-কানুন তৈরি করে মার্কেটে নিয়ে আসতে হবে।

মীর সাজেদ উল বাসার বলেন, আমাদের পুঁজিবাজারের মূলধন ৫২  বিলিয়ন  ডলার। তার মধ্যে ২০ শতাংশই ব্যাংক খাতের। অন্যান্য খাতের তুলনায় ব্যাংকিং খাতের নিয়ন্ত্রণ কঠোর। তাই সবাই ব্যাংক খাতেই অধিক আস্থা রাখেন। সূচকের গ্রোথ ২০১৭ সালে ৩২ শতাংশ হলেও টার্নওভার ধীরে ধীরে কমে গেছে। গড়ে ৭০০ থেকে ৮০০  কোটি টাকার টার্নওভার হলেও তা এখন ৩০০ থেকে ৪০০ কোটির ঘরে নেমে গেছে। কিন্তু সূচকের পতন সেভাবে হয়নি। ফলে সূচক ও লেনদেনের মধ্যে ব্যবধান তৈরি হয়েছে। বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের জন্য অনেক বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা এখন ফান্ডামেন্টাল শেয়ারের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। এতে করে লেনদেন কমলেও সূচক কমছে না। তবে এ সময়টিতে আর্থিক খাতে লেনদেন কম হয়ে থাকে। কারণ সামনে ডিসেম্বর ক্লোজিং। ওষুধ ও রসায়ন এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত সম্পর্কে তিনি বলেন, আমাদের দেশে ওষুধ খাতের ৯৭ শতাংশ কোম্পানি স্থানীয় বাজার দখল করে ফেলেছে। এছাড়া বিশ্ববাজারে স্কয়ার, বেক্সিমকো এবং অন্যান্য ওষুধ কোম্পানির পণ্যের চাহিদা রয়েছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে অনেক কাজ হচ্ছে। সরকার ইতোমধ্যে তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ঘোষণা দিয়েছেন। বিদ্যুৎ সেক্টর ধীরে ধীরে উন্নতি করছে। কাজেই এ দুই খাতে বিনিয়োগ করার অনেক সুযোগ রয়েছে।

 

 

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..