Print Date & Time : 20 October 2021 Wednesday 8:53 am

‘কোনো বিদ্যুৎ প্রকল্পই কয়লাভিত্তিক করা যাবে না’

প্রকাশ: January 7, 2018 সময়- 12:11 am

 

শেয়ার বিজ ডেস্ক: উন্নয়নে কয়লা যতটা না ভূমিকা রাখছে, তার চেয়ে পরিবেশের ক্ষতি করছে বেশি। এজন্য কোনো প্রকল্পই কয়লাভিত্তিক করা যাবে না মতামত দিয়েছেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সহসভাপতি ও বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ। তিনি বলেন, কোন জায়গায়, কীভাবে ও কতটুকু কয়লা ব্যবহার হতে পারেÑতা নিয়ে সরকারের উচিত বিশেষজ্ঞ ও সচেতন মহলের সঙ্গে আলোচনা করা। গতকাল শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলা ট্রিবিউন।

‘বাংলাদেশে কয়লার ব্যবহার: গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব’ শীর্ষক এ আয়োজন করেছে যৌথভাবে বাপা ও ওয়াটারকিপারস বাংলাদেশ।

সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘উন্নত দেশগুলোতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। অন্যান্য দেশের মধ্যে চীন সাম্প্র্রতিক সময়ে বিপুলসংখ্যক কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে আমরা সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বলতে চাই, আমাদেরও উচিত কয়লাভিত্তিক কোনো প্রকল্প না করা। কয়লা ছাড়াও সভ্যতার উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে আরও অনেক উপাদান।

তিনি বলেন, আমরা উন্নয়ন চাই। কিন্তু তা মানুষের ক্ষতি করে নয়। আমরা অর্থনৈতিক উন্নয়ন করব, তবে পরিবেশকে অবশ্যই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। উন্নয়ন ও পরিবেশের মধ্যে পরিবেশকে অগ্রাধিকার দেওয়া দরকার। কেউ যদি বলে, আমরা ধারাবাহিকভাবে মানুষ ও পরিবেশের ক্ষতি করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবো, তাহলে তা হবে বুদ্ধিহীনতার পরিচয়।

অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ওয়াটারকিপারস বাংলাদেশের সমন্বয়কারী ও বাপার যুগ্ম সম্পাদক শরীফ জামিল। তিনি বলেন, কয়লা একটি মারাত্মক দূষক। বস্তুত একটি ৫৫০ মেগাওয়াট সুপার ক্রিটিক্যাল কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদনকালে ১৫ মিলিয়ন টন কার্বন-ডাই অক্সাইড, চার লাখ ৭০ হাজার টন মিথেন, সাত হাজার ৮০০ কেজি লেড, সাত হাজার ৬০ কেজি মার্কারি, ৫৪ হাজার টন নাইট্রোজেন অক্সাইড, ৬৪ হাজার টন সালফার অক্সাইড, ১২ হাজার টন পার্টিকুলেটসসহ আরও অনেক দূষণযুক্ত বর্জ্য বের হয়।

বাপার এ যুগ্ম সম্পাদক মনে করেন, কয়লার দূষণ প্রতিরোধে যেসব বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবস্থাপনা রয়েছে, তা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও শতভাগ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সক্ষম নয়। তিনি জানান, এক সমীক্ষায় দেখা যায় বছরে চীনে ছয় লাখ ৭০ হাজার, ভারতে ৮০ হাজার থেকে এক লাখ ১৫ হাজার, যুক্তরাষ্ট্রে ১৩ হাজার ও ইউরোপে ২৩ হাজার ৩০০ মানুষের অকাল মৃত্যুর কারণ কয়লা দূষণ। কয়লায় নানা পানি দূষণ হয়ে থাকে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার জন্য বিপুল পরিমাণ পানিরও প্রয়োজন হয়। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে ১২ কোটি ৭০ লাখ টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়, যা দিয়ে একটি ফুটবল স্টেডিয়াম ৬০ বার ভরাট করা সম্ভব!

ওয়াটারকিপারস বাংলাদেশের এ সমন্বয়কারীর মন্তব্য, বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্যান্য উপায় থাকা সত্ত্বেও কয়লার ব্যবহার ও অনিয়ন্ত্রিত শিল্পায়নে প্রাকৃতিক সম্পদগুলোর ওপর হুমকি সৃষ্টি হওয়া উদ্বেগজনক। এ তালিকায় আছে সুন্দরবন, কুয়াকাটা ও কক্সবাজার।

বাপার সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. আবদুল মতিনের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্কের (বেন) অস্ট্রেলিয়া শাখার সমন্বয়ক কামরুল আহসান খান।