দিনের খবর প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

কোনো সুবিধা পায়নি তিন ওষুুধ কোম্পানি

এইও সনদের ছয় মাস

* মেয়াদ আরও ছয় মাস মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে

* কাস্টমসসহ সেবা সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব

* বিআরবি, বাটা ও বার্জার এইও সুবিধা নিতে আগ্রহী

রহমত রহমান: সময় ও ব্যবসার খরচ সাশ্রয়ে অথরাইজড ইকোনমিক অপারেটর (এইও) ব্যবস্থা চালু করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সব শর্ত পূরণ শেষে দেশীয় তিন ওষুধ কোম্পানিকে ছয় মাসের জন্য সনদও দেওয়া হয়। কিন্তু ছয় মাসে তিন প্রতিষ্ঠান আমদানির ক্ষেত্রে কোনো সুবিধা পায়নি। সুবিধা না পাওয়ার পেছনে কাস্টমস, বন্দরসহ সব সেবা সংস্থার সমন্বয়হীনতাকে দায়ী করা হচ্ছে। তবে সুবিধা নিশ্চিত করতে তিন প্রতিষ্ঠানের সনদ মেয়াদ আরও ছয় মাস বৃদ্ধি করেছে এনবিআর।

এ ছয় মাসের মধ্যে আমদানিতে সুবিধা পাবে বলে এনবিআর প্রতিষ্ঠান তিনটিকে নিশ্চিত করেছে। এজন্য সহসাই কাস্টমসসহ সব সেবা সংস্থাকে নিয়ে সভা করা হবে। এনবিআর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

অপরদিকে, এইও সেবা নিতে অনেক প্রতিষ্ঠান আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এরই মধ্যে বহুজাতিক কোম্পানি বাটা, বার্জার পেইন্টস ও দেশীয় প্রতিষ্ঠান বিআরবি কেব্ল এ সেবা নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে এখনও আবেদন করেনি। তিন প্রতিষ্ঠানকে সনদ দেওয়ার পর সেবা নিশ্চিত হয় কি না, তা পর্যবেক্ষণ করে আসছে অনেক প্রতিষ্ঠান। এ তিন প্রতিষ্ঠান সেবা পেলে অনেক প্রতিষ্ঠান সেবা গ্রহণে আগ্রহ দেখাত বলে সূত্র জানিয়েছে।

এনবিআরের সমীক্ষা অনুযায়ী, বন্দরে একটি পণ্য খালাসে গড়ে ১১ দিন ৯ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট সময় লাগে। আর রফতানি প্রক্রিয়ায় জাহাজীকরণে সময় লাগে চার দিন ২২ ঘণ্টা ৩৮ মিনিট। আমদানির ক্ষেত্রে জাহাজ বন্দরে ভেড়ার পর পণ্য নামানো ও শুল্কায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাতে এবং রফতানির কোনো চালান বন্দরে পৌঁছার পর আনুষঙ্গিকতা শেষে তা জাহাজে ওঠাতে এ সময় ব্যয় হয়। এর ফলে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের সময় ও ব্যয় বেড়ে যায়। এতে ব্যবসায় প্রভাব পড়ে। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে আমদানি পণ্য দ্রুত খালাসে এইও ব্যবস্থা কার্যকরে উদ্যোগ নেয় এনবিআর।

সূত্র জানায়, যাচাই ও সব শর্ত পূরণ করায় গত ৫ মে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড ও ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডকে ছয় মাসের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে সনদপত্র দেওয়া হয়। সনদ অনুযায়ী, এইও ব্যবস্থা কার্যকরের ফলে জাহাজ থেকে খালাস হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পণ্য সরাসরি আমদানিকারকের নিজস্ব গুদামে চলে যাওয়ার কথা। শুল্ক কর্মকর্তারা গুদামে পণ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন। দু’পক্ষের সব যোগাযোগ হবে ই-মেইলে। এর ফলে সময় ও ব্যবসার খরচ দুই-ই সাশ্রয় হয়। কিন্তু ছয় মাসে একটি চালানেও তিনটি প্রতিষ্ঠান সুবিধা পায়নি। এ নিয়ে তিন প্রতিষ্ঠান কাস্টমস মূল্যায়ন ও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কমিশনারেটকে লিখিতভাবে জানায়। যাতে বলা হয়, এ লাইসেন্সের অধীনে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বেনাপোল কাস্টম হাউসে সুবিধা দিতে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তিনটি কাস্টম হাউস জানায়, এ বিষয়ে এনবিআর থেকে লিখিত কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। যদিও এইও সুবিধা নিয়ে এনবিআর এসআরও জারি করে। অভিযোগের পর কাস্টমস মূল্যায়ন ও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কমিশনারেট তিন প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে সভা করে। সভায় প্রতিষ্ঠান কর্মকর্তারা একই অভিযোগ করেন। কাস্টমস মূল্যায়ন থেকে বিষয়টি জানিয়ে ১০ অক্টোবর এনবিআর সদস্য (শুল্ক নিরীক্ষা, আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য) খন্দকার আমিনুর রহমানকে চিঠি দেওয়া হয়। চিঠিতে সেবা নিশ্চিত করতে কাস্টম হাউসকে নির্দেশনা দেওয়া ও লাইসেন্সের মেয়াদ আরও ছয় মাস বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়। সে অনুযায়ী তিন প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সের মেয়াদ ছয় মাস বৃদ্ধি এবং এইও সুবিধা নিশ্চিত করতে কাস্টম হাউসকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এতে বলা হয়, বাণিজ্য উদারীকরণ ও পণ্য খালাস প্রক্রিয়া দ্রুততর করার লক্ষ্যে এনবিআর দীর্ঘদিন ধরে উত্তমচর্চাকারী প্রতিষ্ঠানকে পণ্য চালান কায়িক ও দলিলাদি পরীক্ষণ ব্যতীত সরাসরি খালাস প্রদানের জন্য এইও সুবিধা চালু করেছে। আমদানি-রফতানি প্রক্রিয়া আরও গতিশীল করার মাধ্যমে ‘কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস’ সূচকে অগ্রগতি সাধন এইও সুবিধা প্রদানের অন্যতম লক্ষ্য। কিন্তু তিন প্রতিষ্ঠান এইও সুবিধা পাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে, যা অত্যন্ত অনভিপ্রেত। এইও সুবিধা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানকে কী কী সুবিধা দেওয়া হয়েছে, তা এনবিআরকে লিখিতভাবে জানাতে কাস্টম হাউসকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

কোনো সুবিধা দেয়নি উল্লেখ করে ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ডিজিএম সামছুল আরেফিন খান শেয়ার বিজকে বলেন, ‘লাইসেন্সিং অথরিটি একজন, প্রতিপালন করবেন আরেকজন। কাস্টম হাউসগুলো প্রতিপালন করবে। তাদের তো চূড়ান্ত অনীহা। আমরা খুবই হতাশ।’ তিনি বলেন, ‘আমরা এইও লাইসেন্সিং অথরিটি কাস্টমস মূল্যায়নকে জানিয়েছি। পরে এনবিআর থেকে কাস্টম হাউসকে চিঠি দেওয়া হয়। একটি যৌথ মিটিং করা উচিত।’

এ বিষয়ে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের উপব্যবস্থাপক মো. শাহ ইমরান শেয়ার বিজকে বলেন, ‘জটিলতার কিছুই নেই। ইমপ্লিমেন্টেশনে একটু সময় লাগে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে এসআরও অনুযায়ী কাস্টমস সুবিধাগুলো দেবে।’ তিনি বলেন, ‘ছয় মাসের মধ্যে প্রস্তুতির ব্যাপার থাকে। এটি কাস্টমস একা করতে পারবে না। কাস্টমসের সঙ্গে সিভিল এভিয়েশন, এয়ারলাইন্সসহ সব সংস্থার একটি কো-অর্ডিনেশনের ব্যাপার আছে। এই কো-অর্ডিনেশন একদিনে হবে না, সময় লাগবে। কো-অর্ডিনেশন সম্পন্ন হলে আশা করছি আগামী ছয় মাস সুবিধা পাব।’

এ বিষয়ে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা শেয়ার বিজকে বলেন, সুবিধা দিতে কাস্টম হাউসকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সনদের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। কাস্টমস, তিন প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে নিয়ে একটি সভা করা হবে। এছাড়া অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমে কাজ করা হবে। যাতে এইও সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের পণ্য এলে দ্রুত খালাস হয়ে যায়।

উল্লেখ্য, বিশ্বের ৬৭ দেশ এইও প্রক্রিয়া চালু করেছে। এর মধ্যে ১৪ দেশ কাজ শুরু করেছে। ১৩ দেশ প্রক্রিয়াধীন; যার মধ্যে বাংলাদেশ একটি। বাংলাদেশ ২০১২ সালে উদ্যোগ নিলেও ২০১৮ সাল থেকেই যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..