প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

কোম্পানিগুলো লভ্যাংশ পাঠায় নিশ্চিতকরণ বার্তা দেয় না

সাইফুল আলম, চট্টগ্রাম: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদের ব্যাংক হিসাবে প্রতিষ্ঠানগুলো নগদ লভ্যাংশ ইএফটিএন সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেয়, যা শেয়ারহোল্ডারদের ব্যাংক হিসাবে জমা হয়। ব্যাংক নিজস্ব খুদেবার্তার মাধ্যমে তা  জানিয়ে দেয়, কিন্তু সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কোনো ধরনের বার্তা দেয় না। ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা কোন প্রতিষ্ঠানের লভ্যাংশ পেয়েছে, তা নিয়ে বিভ্রান্তিতে থাকেন।

জানা যায়, সাধারণত জুন বা ডিসেম্বর ক্লোজিংয়ে পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো আয় ও সক্ষমতা অনুসারে শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ ঘোষণা করে, যা রেকর্ড দিনের পর একজন বিনিয়োগকারী নির্দিষ্ট সময়ের পর বুঝে পান।

এদিকে নগদ লভ্যাংশ হলে ব্যাংক হিসাবে প্রতিষ্ঠানগুলো নগদ লভ্যাংশ ইএফটিএন সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেয়, যা শেয়ারহোল্ডারের ব্যাংক হিসাবে জমা হয় এবং ব্যাংক নিজস্ব খুদেবার্তার মাধ্যমে জানায়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কোনো ধরনের বার্তা দেয় না। ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা কোন প্রতিষ্ঠানের লভ্যাংশ পেয়েছে, তা নিয়ে দ্বিধায় থাকেন। যদিও কোম্পানিগুলো ব্যাংকের মাধ্যমে লভ্যাংশ পাঠিয়ে থাকে, কিন্তু তা নিশ্চিত করে না।

এ বিষয়ে বিনিয়োগকারী ও মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন শেয়ার বিজকে বলেন, আমার পোর্টফোলিওতে ২০টির বেশি কোম্পানির শেয়ার রয়েছে। আমি ইদানীং ব্যাংকের মাধ্যমে বেশ কয়েকটি নগদ লভ্যাংশ পেয়েছি। কিন্তু কোন কোম্পানির কতটি শেয়ারের বিপরীতে এসব লভ্যাংশ পেয়েছি, তা বুঝতে পারছি না। ব্যাংক থেকে জানতে চাইলে তারা উত্তর দিতে পারে না। এগুলো নিয়ে দ্বিধায় পড়ে যাই, অথচ কোম্পানিগুলো একটি চিঠি বা ই-মেইল বা এসএমএসের মাধ্যমে বলতে পারে, আপনার এত শেয়ারের বিপরীতে আপনাকে এত টাকা নগদ লভ্যাংশ পাঠানো হলো। এতে আমাদের আর বুঝতে সমস্যা হয় না। অথচ কোম্পানিগুলো নানা কাজে কত টাকা খরচ করে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশনের নজর দেয়া উচিত।

এ বিষয়ে সিমেন্ট খাতের কোম্পানি কনফিডেন্স সিমেন্ট লিমিটেডের কোম্পানি সচিব দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমরা সাধারণ নোটিশ দিয়ে বিনিয়োগকারীদের জানিয়ে দিই। যাদের ই-মেইল আইডি আছে, তাদের ই-মেইলে জানিয়ে দিই। কেউ যদি হার্ড কপি চায়, তাদেরও দিই। এরপর এসএমএস জানিয়ে দেয়া হয়। তবে সবার এত সাপোর্ট নেই, ফলে তারা বিনিয়োগকারীদের জানাতে পারে না। এছাড়া ইএফটিএন এত বিস্তারিত তথ্য থাকে না। তবে বিনিয়োগাকারীদের বিস্তারিত তথ্য জানানো উচিত।

এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম শেয়ার বিজকে বলেন, লভ্যাংশ বিতরণের বিষয়ে কোম্পানিগুলো বিজ্ঞপ্তি ও ডিএসইর ওয়েবসাইটে তথ্য দেয়ার মাধ্যমে জানিয়ে থাকে। তবে সবাইকে ফোন বা এসএমএসের মাধ্যমে জানানোর বিষয়ে কোনো নির্দেশনা বা বাধ্যবাধকতা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে আমার জানা নেই। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কমিশনারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন তিনি।

পরে বিএসইসির এসআরএমআইসি বিভাগের কমিশনার ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদের সঙ্গে শেয়ার বিজ থেকে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তার হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ করা হলে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো উত্তর দেননি।