সম্পাদকীয়

কোম্পানি তালিকাভুক্তির নিয়ম কঠোরভাবে অনুসৃত হোক

প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে আগে পুঁজিবাজারে যেসব কোম্পানি এসেছে, সেগুলোর মধ্যে কিছু কোম্পানি আর্থিক প্রতিবেদনে জালিয়াতি করেছে বলে জানা যাচ্ছে। যে ধরনের অবস্থা দেখিয়ে কোম্পানি বাজারে এসেছে, প্রকৃতপক্ষে এর অবস্থা সে রকম নয়। এক্ষেত্রে আগে আইপিও নিয়ে কমিশনের কিছু ভুলভ্রান্তি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান।

বেশি কোম্পানি বাজারে আসা অবশ্যই সাফল্য। কিন্তু এ সাফল্য তখনই নিরঙ্কুশ সাফল্য হিসেবে পরিগণিত হবে, যখন কোম্পানিগুলো স্বচ্ছতার সঙ্গে ব্যবসা করবে; কোনো ধরনের জুয়ায় জড়িত হবে না। বেশিসংখ্যক কোম্পানি বাজারে আসা সত্ত্বেও না নির্জিব থাকার মতো পরিস্থিতি যেন না ঘটে, সে বিষয়ে খেয়াল রাখা জরুরি বলে মনে করি।

বিএসইসির চেয়ারম্যানের বক্তব্য প্রমাণ করে বর্তমান কমিশন কোনো ভুল করবে না। কিন্তু গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘আইপিও অনুমোদনের হিড়িক, বিশ্লেষকদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া’ শীর্ষক প্রতিবেদন নতুন বিনিয়োগকারীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলবে বলেই প্রতীয়মান।

বিএসইসিতে রদবদলের পর বিভিন্ন কোম্পানির আইপিও অনুমোদনের হিড়িক পড়েছে। মাত্র চার মাসে ১০টি কোম্পানির আইপিও অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। দ্রুত সময়ের মধ্যে কখনও এত কোম্পানির আইপিওর অনুমোদন দেখা যায়নি। সন্দেহ নেই, পুঁজিবাজারে ভালো শেয়ারের জোগান বাড়াতে এমন উদ্যোগ। কিন্তু কম সময়ে সব যথানিয়মে যাচাই করা গেছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আগেও আইপিও প্রাথমিক বাছাইয়ে বাতিলের পর তদবির করে নতুন করে অনুমোদন নিয়েছে অনেক কোম্পানি। প্রাথমিক পর্যালোচনায় কোনো কোম্পানির আইপিও বাতিল করার পর ইস্যু রেজিস্টার কোম্পানির চাপে আইপিও অনুমোদন দিতে বাধ্য হয় বিএসইসি। আইপিও বাতিলে বিনিয়োগকারীরা আবেদন জানালেও বিএসইসি কর্ণপাত করেনি। তাই বর্তমানে যেসব কোম্পানি বাজারে আসছে, সেগুলো যথানিয়মে বাজারে আসছে, সেটি নিশ্চিত করতে হবে বিএসইসিকে। 

আর্থিক প্রতিবেদনে গোজামিল থাকলেও অনেক কোম্পানির আইপিও অনুমোদন দিতে বাধ্য হয় বিএসইসি। আইপিও অনুমোদন নিতে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো বিএসইসির ওপর অনৈতিক চাপও দেয়। কতিপয় কোম্পানি নিয়ে এমন কথা বাজারে প্রচলিত আছে। শেয়ারের জোগান বাড়াতে গিয়ে যদি মানহীন কোম্পানি বাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে যায়, তাহলে তা বাজার ও বিনিয়োগকারীর জন্য ক্ষতিকর। সর্বোচ্চ সতর্কতা সত্ত্বেও এক-দুটি মানহীন কোম্পানি তালিকাভুক্ত হয়ে যেতেই পারে। সে ক্ষেত্রেই বিএসইসি বলতে পারে, গুঞ্জন-গুজবে প্রভাবিত না হয়ে মেধা খাটিয়ে ভালো মানের কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করুন।

আগের কমিশন বিতর্কিত হয়েছে মানহীন আইপিও অনুমোদন দেওয়ার জন্য। বর্তমান কমিশন বলছে, ‘কোনো কোম্পানিকে মানহীন মনে হলে বা কাগজপত্রে ঝামেলা থাকলে আবেদন বাতিল করা হচ্ছে। সব ঠিক থাকলেই কোম্পানির আইপিওর অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে।’ মানসম্মত ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানকে বাজারে তালিকাভুক্ত করতে বিএসইসি কোনো আপস করবে না এবং এক্ষেত্রে সরকার সহযোগিতা করবে বলেই আমরা আশাবাদী।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..