Print Date & Time : 26 May 2020 Tuesday 12:21 pm

কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করুন বিদেশফেরতদের

প্রকাশ: মার্চ ১৭, ২০২০ সময়- ১১:৩৫ পিএম

চীন থেকে ছড়ানো করোনাভাইরাস গোটা বিশ্বের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাত হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, বর্তমান ধারায় চলতে থাকলে আক্রান্তের সংখ্যা দুই লাখ ছাড়াবে শিগগিরই। মহামারি থেকে মুক্তি পায়নি বাংলাদেশও। এরই মধ্যে ১০ জন আক্রান্ত হয়েছেন, তিনজন অবশ্য সুস্থ হয়ে বাড়িও ফিরেছেন। তবে করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষায় দেশে যে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে সন্তুষ্ট নন অনেকে। বিশেষ করে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর প্রবাসী ও বিদেশফেরতদের কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এক্ষেত্রে তাদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পাশাপাশি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ রয়েছে। করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে হলে এ ধরনের অব্যবস্থাপনা অবিলম্বে দূর করতে হবে।

গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে ‘করোনাভাইরাস: বিদেশফেরত একজনসহ পরিবারের তিন সদস্য আক্রান্ত’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। খবরটিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ১০ জনের করোনাভাইরাস ধরা পড়েছে। গতকাল দুজন শনাক্ত হওয়ার আগে গত রোববার তিনজনের নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। আক্রান্তদের মধ্যে প্রবাসী ও তাদের পরিবারের সদস্য রয়েছেন। ইতালি, যুক্তরাষ্ট্র কিংবা জার্মানি থেকে ফেরা প্রবাসীদের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যরাও আক্রান্ত হয়েছেন। অর্থাৎ প্রবাসীদের মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়ানোর উচ্চ ঝুঁকি থাকলেও আমাদের সুরক্ষা ব্যবস্থা নাজুক, তা এতে স্পষ্ট। প্রবাসীদের আগমণ নিয়ন্ত্রণ ও কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার শঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

চীনসহ বিশ্বের যে দেশগুলো ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে, তার মধ্যে ইতালি, যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও জার্মানির মতো দেশ রয়েছে। অথচ দেশগুলোর চিকিৎসা ব্যবস্থা সবচেয়ে উন্নত। তারপরও দেশগুলোয় করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিদেশফেরত প্রবাসীরা যে ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করছেন, তা অপ্রত্যাশিত। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সন্দেহ নেই। তবে তাদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের মানুষকে ঝুঁকিতে ফেলাও গ্রহণযোগ্য নয়।

খবরেই উল্লেখ করা হয়েছে, ইতালি ও জার্মানিফেরত দুজনের মধ্যে ভাইরাস ধরা পড়ার পর তাদের একজনের মাধ্যমে পরিবারের তিন সদস্য আক্রান্ত হন। তাদের কারও অবস্থা সংকটজনক না হলেও দেশে আক্রান্ত সবাই যে প্রবাসীদের দ্বারা সংক্রমিত, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। এক্ষেত্রে যারা দেশে ফিরবেন তারা কোয়ারেন্টাইনে থাকার পাশাপাশি নিয়মানুযায়ী সরকারকে সহযোগিতা করবেন বলে প্রত্যাশা। পাশাপাশি যে দেশে অবস্থান করছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেখানেই তাদের অবস্থান করাটা কাম্য। এছাড়া কেউ সরকারের নির্দেশনা অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।