প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

কোরবানিতে যত্রতত্র পশুর হাট ঠেকাতে উদ্যোগ নিন

গত দুই বছর মহামারি কভিডের প্রাদুর্ভাবের কারণে ঈদুল আজহায় রাজধানীর হাটকেন্দ্রিক উৎসবের আমেজে ভাটা পড়েছিল। রাজধানীর সব পশুর হাটে জনসমাগম ছিল নিয়ন্ত্রিত। নির্ধারিত হাটের সংখ্যাও কমিয়ে এনেছিল ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। এ বছর পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় রাজধানীতে কোরবানির পশুর হাটকেন্দ্রিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে কিছুদিন আগে থেকেই। এ বছর রাজধানীতে মোট ১৯টি কোরবানির পশুর হাট বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। স্থায়ী দুটি হাটে বছরের অন্য সময়ও পশু বিক্রি হয়; ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে রয়েছে গাবতলী স্থায়ী হাট আর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে রয়েছে সারুলিয়া স্থায়ী হাট। এই হাট দুটি ছাড়া ১৭টি অস্থায়ী হাট বসানো হবে। অস্থায়ী হাটগুলোর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে বসবে ১০টি আর উত্তর সিটিতে বসবে সাতটি। কোরবানির ঈদে যত্রতত্র পশুর হাট ঠেকানোর উদ্যোগ নিতে হবে। কভিড প্রতিরোধী তিন ডোজ টিকা নিলেও স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে পরিপালন নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্বে আমাদের তৈরি চামড়াজাত পণ্যের বিপুল চাহিদা রয়েছে। কাঁচা চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে ঈদুল আজহায় চামড়া সংগ্রহে গুরুত্ব দিতেই হবে। চামড়ার কেনাবেচায় প্রধান সুবিধাভোগী হয় সমাজের দুস্থ, অসহায় মানুষ। চামড়া বিক্রির অর্থ কোরবানিদাতারা দুস্থ-এতিমদের দান করেন। তাই কোরবানির ধর্মীয় দিকের অর্থনৈতিক ও সামাজিক গুরুত্ব কম নয়। কিন্তু অপরিকল্পিতভাবে কোরবানির পশুর হাট বসানো হলে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দেশ লাখ লাখ গবাদি পশু রয়েছে খামারগুলোয় এবং ব্যক্তিগতভাবেও অনেকে পশু পালন করেন কোরবানির সময় বিক্রির জন্য। স্বীকার করতেই হবে, আমাদের দেশে মাঠে কোরবানির পশুর হাট বসিয়ে শারীরিক দূরত্ব এবং স্বাস্থ্যবিধি মানানো সম্ভব নয়। তবুও অসচেতনতায় যাতে সংক্রমণ বেড়ে না যায় সে লক্ষ্যে নাগরিকদের দায়িত্বপরারণ হতে হবে। অনলাইনে সীমিতসংখ্যক পশু বেচাকেনা হলেও প্রতারণা বা প্রকৃত তথ্য গোপনের আশঙ্কায় কোরবানির পশুর হাটই সাধারণ মানুষের ভরসা। নির্র্ধারিত হাটে কোরবানির পশু বেচাকেনা নিশ্চিত করা গেলে সংক্রমণ পরিবেশ দূষণ কিছুটা হলেও ঠেকানো সম্ভব। তাই কোনোভাবেই নির্ধারিত স্থানের বাইরে এবং আবাসিক এলাকায় পশুর হাট বসানো যাবে না। এজন্য রাজনৈতিক অঙ্গীকারও প্রয়োজন। অনেক ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক পরিচয়ে চাপে পড়ে ছাড় দিতে হয়। দেশের পণ্য রপ্তানি খাতকে দীর্ঘদিন ধরে একাই টেনে নিয়ে যাচ্ছে তৈরি পোশাকশিল্প। দেরিতে হলেও পোশাকের পর হোম টেক্সটাইল, কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য এবং চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যÑএ তিন খাতের রপ্তানি ১০০ কোটি বা ১ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলকে পৌঁছেছে। পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানিও শতকোটি ডলার ছুঁই ছুঁই করছে। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি বেশ কয়েক বছর পর শতকোটি ডলারের ঘরে ফিরেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে ১০১ কোটি ডলারের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের প্রধান কাঁচামাল গবাদিপশুর চামড়া। পুরো বছরের মোট চামড়ার প্রায় ৬০ শতাংশই সংগৃহীত হয় ঈদুল আজহায়। রপ্তানি বাণিজ্য বাড়াতে চামড়ায় মনোযোগ বাড়াতে হবে।