সারা বাংলা

কোরবানির পশু নিয়ে দুশ্চিন্তায় ঠাকুরগাঁওয়ের খামারিরা

শামসুল আলম, ঠাকুরগাঁও: কোরবানির ঈদের আর মাত্র ১৮ দিন বাকি। ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে, ঠাকুরগাঁয়ের পশু খামারিদের দুশ্চিন্তা ততই বাড়ছে। বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ না কমায় তারা উৎকণ্ঠায় পড়েছেন। খামারিরা পশু বাজারে তোলা নিয়ে দোটানায় পড়েছেন, বাজারে নিলেও ক্রেতা মিলবে কি না, ক্রেতা মিললেও ভালো দাম পাবেন কি না, এসব নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন। আর এদিকে গরুর আবার লাম্পি রোগ নিয়েও ভোগান্তিতে রয়েছেন তারা।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কৃষিবিদ আলতাফ হোসেন জানান, এবার ঠাকুরগাঁও জেলায় গরুর খামার ১১ হাজার ৭৮২টি। আর গরুর সংখ্যা প্রায় ৮০ হাজার ৪৫৯টি, এর প্রায় সবই কোরবানিযোগ্য। এবার বাজারে উঠবে অনেক গরু। কিন্তু গুটি রোগ এবং লাম্পি ডিজিজ রোগ দেখা দেওয়ায় তাতে ক্রেতা কম হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন।

জানা গেছে, বর্তমানে ঠাকুরগাঁও জেলায় অসংখ্য গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, হাঁস, মুরগির খামারও গড়ে উঠেছে। গ্রামের বিধবা মহিলা বা সাধারণ কৃষক থেকে শুরু করে ঘরে ঘরে শত শত মানুষ গরু, ছাগল, ভেড়া, হাঁস, মুরগি পালন করেন। এখন অনেক শিক্ষিত বেকার চাকরি না পেয়ে ডেইরি ফার্ম ও গরু মোটা তাজাকরণকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। যে কারণে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেক ছোট-বড় গরু, ছাগলের খামার গড়ে উঠেছে। সারা বছর কসাইদের কাছে বিক্রির পাশাপাশি কিছু কিছু স্পেশাল গরু তৈরি করা হয় কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে।

 ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ভেলাজান গ্রামের খামারি মো. সাদেকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সারা বছর গরু মোটাতাজা করে কোরবানির ঈদের অপেক্ষায় থাকি। খামারে ছোট ও বড় মিলে ৩০-৪০টির মতো গরু রয়েছে। বড় ও দেখতে সুন্দর গরুগুলো কোরবানিতে ভালো দামে বিক্রির আশায় উন্নত খাবার খাইয়ে লালন-পালনের পর যদি সেগুলো বিক্রি না হয়, তাহলে আমাদের প্রচুর লোকসানের মুখোমুখি হবো। এ নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় আছি।’

ঠাকুরগাঁওয়ের নিশ্চিন্তপুর হেডসের মোড়ের গরুর খামারি মোছা. মাসুমা খানমের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, করোনা নিয়ে তিনি এখনও দুশ্চিন্তামুক্ত হতে পারেননি। মূলত কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে সারা বছর গরু লালন-পালনে তারা বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করেন। তাই এখন পশু বিক্রি করতে না পারলে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়বেন তারা।

সদর উপজেলার চিলারং ইউনিয়নের নদীপাড়া গ্রামের খামারি মো. বাহাদুর আলী বলেন, ‘আমার খামারের ষাঁড় বাচ্চাগুলোর মধ্যে যেগুলো দেখতে সুন্দর সেগুলো কোরবানির জন্য লালন-পালন করি।’ এবার তিনি ২০টি গরু মোটাতাজা করেছেন বলে জানান। তিনি বলেন, কয়দিন আগে এক জোড়া গরু বাজারে নিয়ে গেলে দাম কম হওয়ার কারণে ফেরত নিয়ে আসি। এত টাকা বিনিয়োগ করে যদি কোরবানির ঈদে দাম ভালো না পাই, তাহলে আমাদের মতো খামারিদের দুঃখের সীমা থাকবে না। গরু পালন করতে গিয়ে অনেক লোন হয়েছে। ধার-দেনা করে কোরবানির আশায় গরু পালন করেছি। করোনার বর্তমান অবস্থায় এখন আতঙ্কের মধ্যে আছি।

এক প্রশ্নের জবাবে খামারি সাদেকুল ইসলাম বলেন, সারা বছর আমরা পরিশ্রম করে গরু পালন করি, কিন্তু আমরা বেশি লাভ করতে পারি না। কয়েক বছর ধরে ঢাকার বড় বড় ব্যবসায়ীরা আমাদের কাছ থেকে গরু কিনে অনলাইনে ছবি দিয়ে বিক্রি করে ফায়দা লোটে। তার মধ্যে এবার গো-খাদ্যের দাম অত্যধিক বেড়ে গেছে। এ কারণে গরু পালনে খরচও বেড়েছে। করোনা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অনেকেই গরুর হাটে আসবে না। এ অবস্থা যদি অব্যাহত থাকে তাহলে আমার ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা লোকসান হবে।

এ বিষয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের আলতাফ হোসেন বলেন, এ বছরও আমাদের দেশে যে পশু আছে তা কোরবানির জন্য যথেষ্ট। দেশের বাইরে থেকে গরু আনার কোনো প্রয়োজন নেই। গত বছর অমাদের কোরবানিযোগ্য পশু ছিল প্রায় এক লাখের ওপরে। আশা করি, খামারির এবারও তাদের কোরবানির পশুর ন্যায্য দাম পাবেন।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..