প্রচ্ছদ প্রথম পাতা

ক্যাঙ্গারু কমিশন কোনো কাজে আসবে না: টিআইবি

বাংলাদেশ ব্যাংকের নেতৃত্বে ব্যাংকিং কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

ব্যাংক খাত সংস্কারে বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে কমিশন গঠন করা অর্থহীন ও অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত হবে বলে মনে করছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলছে, স্বার্থের দ্বন্দ্বের কারণে এ ধরনের ‘ক্যাঙ্গারু’ কমিশনের পক্ষে নিরপেক্ষ ও নির্মোহভাবে ব্যাংকিং পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং কার্যকর সুপারিশ প্রণয়ন করা সম্ভব হবে না।

একটি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে গতকাল এ-সংক্রান্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবি এ মন্তব্য করে।

এতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘ক্রমবর্ধমান খেলাপি ঋণ ও ব্যাপক অনিয়মে জর্জরিত ব্যাংক খাতে কাক্সিক্ষত সংস্কারের জন্য গঠিত কমিশন হতে হবে স্বাধীন, যা এ খাতসংশ্লিষ্ট নিরপেক্ষ খ্যাতিসম্পন্ন ও গ্রহণযোগ্য বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠন করতে হবে। যারা বাস্তবতার নিরিখে সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্ত ও নির্মোহভাবে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা পেশ করবেন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকার কায়েমি স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে তা বাস্তবায়ন করবে। অন্যথায় এ ধরনের ক্যাঙ্গারু কমিশন গঠন কোনো কাজেই আসবে না।’

কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং সার্বিকভাবে ব্যাংক খাতই কায়েমি স্বার্থবাদী মহলের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে মন্তব্য করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, এ খাতের সংস্কারে টিআইবিসহ বিভিন্ন মহলের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন গঠনে সরকারের সিদ্ধান্ত ইতিবাচক। কিন্তু আমরা মনে করি বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে এ কমিশন গঠন হবে দায়সারা, অর্থহীন ও অপরিণামদর্শী একটি সিদ্ধান্ত।’

এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে থাকা ব্যাংক খাত নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন করতে পারেনি। অনেক ক্ষেত্রে যারা এ সংকটের জন্য দায়ী তাদের দ্বারাই প্রভাবিত হবার পরিচয় দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নেতৃত্বে ব্যাংকিং কমিশন গঠন করা হলে তা স্বার্থের সংঘাত তৈরি করবে এবং কমিশন গঠনের মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করবে।’

স্বাধীন কমিশন গঠনের গুরুত্ব তুলে ধরে ড. জামান আরও বলেন, ‘উচ্চ হারের প্রবৃদ্ধি অর্জিত হলেও তীব্র তারল্য সংকটসহ ব্যাংক খাতের এ দুরবস্থার মধ্যে দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিতে ব্যাংক খাতের সংস্কারে একটি স্বাধীন কমিশন কর্তৃক বস্তুনিষ্ঠ ও প্রভাবমুক্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রণীত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হলে অপরিণামদর্শিতার পরিচায়ক হবে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতে চাই, সরকার এ পরিস্থিতির গুরুত্ব যথাযথভাবে অনুধাবন করতে পারবেন এবং নিরপেক্ষ, যথাযথ যোগ্যতাসম্পন্ন, নিরপেক্ষ ও স্বার্থের দ্বন্দ্বমুক্ত বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে অবিলম্বে একটি স্বাধীন ব্যাংকিং কমিশন গঠন করবেন।’

সর্বশেষ..