প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ক্যাচ মিসের ম্যাচে জয়ের নায়ক ফরহাদ

ক্রীড়া প্রতিবেদক: সাব্বির রহমানের ব্যাটে ভর করে বিশাল স্কোরের দেখা পেয়েছিল সিলেট সিক্সার্স। বল হাতে দলটিকে শুরুতেই বিধ্বংসী ক্রিস গেইলের উইকেটও এনে দিয়েছিলেন মোহাম্মদ ইরফান। তাতে জয়ের মঞ্চটাই তৈরি হয়েছিল দলটির। কিন্তু অল্প সময়ের ব্যবধানে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা রাইলি রুশোর একাধিক ক্যাচ মিসে হতাশ হয়ে পড়ে ডেভিড ওয়ার্নারের দল। অন্যদিকে সাবেক দক্ষিণ আফ্রিকার এ ব্যাটসম্যানের রানআউটও মিস করে ওয়াকার ইউনিসের শিষ্যরা। এদিকে অ্যালেক্স হেলসও একবার জীবন পেয়ে যান সিøপে। শেষ পর্যন্ত ক্যাচে মিসের মাশুল ম্যাচ হেরেই দিতে হয়েছে স্বাগতিকদের। তবে অবশ্যই আলাদা করে বলতে হবে ফরহাদ রেজার কথা। কেননা এ ডানহাতির শেষে ঝড়েই ম্যাচের ভাগ্য নিজেদের দিকে নিয়েছে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল।
গতকাল সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে শ্বাসরুদ্ধশ্বাস ম্যাচটি রংপুর জিতে নিয়েছে ৪ উইকেটে। আগে ব্যাট করতে নেমে সাব্বির রহমান (৫১ বলে ৮৫) ও নিকলস পুরানের (২৭ বলে ৪৭) ব্যাটে ভর করে ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৯৪ রান করে সিলেট। জবাব দিতে নেমে শুরুতেই গেইলকে হারালেও প্রতিপক্ষের ক্যাচ ও রানআউট মিসের সুযোগগুলো কাজে লাগিয়ে রুশো (৩৫ বলে ৬১) ও শেষ দিকে ফরহাদ রেজার (৬ বলে ২ চার ও ১ ছয়ে ১৮*) ব্যাটে চড়ে ৩ বল আর ৪ উইকেট হাতে রেখে রংপুর জিতে যায়।
মোহাম্মদ ইরফানের হাত ধরে ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই পয়েন্টে সাব্বির রহমানের ক্যাচে ফিরেন বিধ্বংসী গেইল। এরপর দ্বিতীয় ওভারে তাসকিনের করা প্রথম বলেই ফিরতে পারতেন রাইলি রুশো। কিন্তু তার দেওয়া সহজ ক্যাচ উইকেটের পেছেনে ছাড়েন জাকির আলি। কিছুক্ষণ পর এ বাঁহাতি আবারও উইকেটরক্ষকের কল্যাণে বেঁচে যান। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে লামিচানের স্পিনে প্রলুব্ধ হয়ে আউট সাইড এজ হন রুশো। বল চলে যায় উইকেটের পেছনে। কিন্তু এবারও ক্যাচ মিস করেন জাকির। সেই রেশ থাকতে থাকতেই সাবেক প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানকে ফেরাতে পারত সিলেট। কিন্তু ষষ্ঠ ওভারে তার সহজ রানআউট মিস করে দলটি। এর এক বল পর মিড অফে তার ক্যাচ ছাড়েন পুরান। এক ম্যাচে যখন একজন ব্যাটসম্যান এতবার জীবন পান তখন তিনি তো হাত খুলবেনই। ঠিক সেটাই গতকাল করেছেন রুশো। যতক্ষণ ক্রিজে ছিলেন ততক্ষণ সিলেটের বোলারদের ওপর ঝড় তুলে দলকে সামনে দিকে নিয়েছিলেন তিনি। সেই পথ ধরেই এ বাঁহাতি ৩১ বলে চলতি টুর্নামেন্টের আরেকটি হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন। এর মাঝে অবশ্য কাপালির বলে সীমানায় সাব্বিরের ক্যাচে ফেরেন অ্যালেক্স হেলস। তাতে ভাঙে রুশোর সঙ্গে ইংলিশ ওপেনারের ৬৩ রানের জুটি।
গতকালই প্রথমবার রংপুরের জার্সিতে বিপিএলে নেমেছিলেন এবিডি ভিলিয়ার্স। নবম ওভারের প্রথম বলে কাপালিকে চার হাঁকিয়ে সীমানার দেখা পেয়েছিলেন এ ডানহাতি। এরপর ১১তম ওভারে মেহেদি হাসান রানার করা বলে লং অনের মাথার ওপর দিয়ে তিনি হাঁকান ছক্কা। সে সময় গ্যালিতে এবি এবি সুরে গর্জন তোলেন দর্শকরা। অন্য প্রান্তে অবশ্য একাধিক জীবন পাওয়া রুশো তার মতো করেই খেলছিলেন।
শেষ সাত ওভারে জিততে রংপুরের দরকার ছিল ৬৫ রান। ঠিক সে সময় তাসকিনের করা ১৪তম ওভারের প্রথম বলে রুশো ও শেষ ভিলিয়ার্স ফিরে যান। তাতে ম্যাচে উত্তেজনা বাড়ে। তবে পঞ্চম ওভারে মেহেদি হাসান রানার করা ওভারে দুটি চার হাঁকিয়ে রংপুরের জয়ের সমীকরণ কমিয়ে আনেন মোহাম্মদ মিথুন ও নাহিদুল ইসলাম। শেষ দিকে ৬ বলে ২ চার ও ১ ছয়ে ১৮ রান নিয়ে রংপুরকে ৩ বল হাতে রেখেই জেতাতে অবদান রাখেন ফরহাদ রেজা। এর ফলে পরপর দুটি জেতা ম্যাচ হাতছাড়া হয়ে গেল সিলেটের।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ওপেনার সাব্বির রহমান ঝড় তোলেন রংপুরের বোলারদের ওপর। এক পর্যায়ে এ ডানহাতি ৩৪ বলে হাফসেঞ্চুরির দেখা পেয়ে যান। অন্য প্রান্তে অবশ্য নিকলস পুরান ছাড়া কেউ বেশিক্ষণ তাকে সঙ্গ দিতে পারেননি। ওপেনার লিটন ফেরেন ১১ রানে। এদিকে আফিফ হোসেন ও ডেভিড ওয়ার্নার দুজনেই আউট হন ১৯ রান করে। তবে নিকোলাস পুরানকে সঙ্গে নিয়ে ৭৮ রানের জুটি গড়ে সাব্বির ২০০ ছুঁই ছুঁই সংগ্রহ এনে দেন সিলেটকে। কিন্তু ক্যাচ মিসের মহড়ায় শেষ পর্যন্ত সাব্বিরের সেই ইনিংসটি যেন মূল্যহীনই থেকে গেল। তাতে দোষটা আসলে কার?
সংক্ষিপ্ত স্কোর
সিলেট সিক্সার্স: ২০ ওভারে ১৯৪/৪ (লিটন ১১, সাব্বির ৮৫, আফিফ ১৯, ওয়ার্নার ১৯, পুরান ৪৭*, জাকির ৫*; নাজমুল ২-০-১৮-০, মাশরাফি ৪-০-৩১-২, শফিউল ৪-০-৪৩-১ ফরহাদ ৩-০-৩৫-০, নাহিদুল ২-০-১৬-০, গাজি ২-০-১৬-০, গেইল ৩-০-৩৪-০)।
রংপুর রাইডার্স: ১৯.৪ ওভারে ১৯৫/৬ (গেইল ০, হেলস ৩৩, রুশো ৬১, ডি ভিলিয়ার্স ৩৪, মিথুন ১৪, নাহিদুল ১৯, মাশরাফি ৫*, ফরহাদ ১৮*; ইরফান ৪-০-৩৪-১, তাসকিন ৪-০-৪২-৪, লামিচানে ৪-০-২১-০, রানা ৪-০-৫৭-০, অলক ৩.৪-০-৩৪-১)।
ফল: রংপুর রাইডার্স ৪ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচসেরা: রাইলি রুশো