ক্যানসার রোধে নারীদের করণীয়

নারীদের নানা ধরনের ক্যানসার হয়। তবে জরায়ু ক্যানসার ও স্তন ক্যানসারের প্রবণতা অনেক বেশি। চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নত হওয়ার কারণে এসব ক্যান্সারে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বা প্রগ্নোসিস রোগের সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে পূর্বাভাস) এখন বেশ ভালো। এ জন্য প্রথমেই গুরুত্ব দিতে হবে ক্যানসার প্রতিরোধ বিষয়ে। আগেভাগে ক্যানসার নির্ণয় করতে পারাটাও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ জন্য খুব জরুরি বিষয় হলো খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন, ওজন নিয়ন্ত্রণ, পরিমিত ব্যায়াম করা, পারিবারিক ইতিহাস জানা, সঠিক সময়ে বিয়ে আর সন্তান জন্মদান, নিয়মিত স্তন্যদান প্রভৃতি।

নিজে নিজের স্তন পরীক্ষা: স্তন ক্যানসার প্রাথমিকভাবে নির্ণয়ের জন্য নারীদের নিজের স্তন নিজেই পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ। ২০ বছর বয়স থেকে সব নারীর এই পরীক্ষাটা করা উচিত। সাধারণত মাসিক শুরু হওয়ার পর, প্রথম ১০ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে প্রতি মাসে অন্তত একবার করলে ভালো হয়। যদি কারও মাসিক না হয় তখন ক্যালেন্ডারের পাতায় দাগ দিয়ে রেখে যেদিন স্তন পরীক্ষা করা হবে সেদিন (সাধারণত ব্যথা যেদিন কম থাকে সেদিন) করানো যায়। পরের মাসগুলোয় এই দিনে নিয়মিত স্তন পরীক্ষা করুন। গর্ভবতী এবং স্তন্যদানের সময়ও স্তন পরীক্ষা করবেন। কারণ এই সময়ের ক্যানসার সাধারণত মিস হয় বেশি, যার কারণে বেশিরভাগ খারাপ হয়ে যায়। তাই এটি অভ্যাসে পরিণত করুন; নিজের খেয়াল নিজেই রাখুন।

জরায়ু মুখের ক্যানসার: বাংলাদেশে এই রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। কম বয়সে বিয়ে, অধিক সন্তান জš§দান, ঠিকমতো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় না রাখা, কিছু ক্ষেত্রে বহুবিবাহ বা বহু সঙ্গী থাকা ইত্যাদি এই ক্যানসারের অন্যতম কারণ। এ ছাড়া বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, অধিক সন্তান প্রসব নিরুৎসাহ করা, ধূমপান, পানের সঙ্গে জর্দা-সাদা পাতা-গুল বর্জন করা দরকার। সামাজিক অনুশাসন মেনে চলার পাশাপাশি নারীদের নিয়মিত পেপস স্মেয়ার টেস্টে অংশ নেয়া উচিত। এতে রোগ আগে শনাক্ত করা সম্ভব হয়। এখন জরায়ু ক্যানসার রোধে টিকাও আছে। কাজেই সন্তান ধারণের বয়সে টিকা নিন; রোগ প্রতিরোধ করুন। যদি প্রাথমিক পর্যায়ে নির্ণয় করা যায় তাহলে জরায়ু মুখের ক্যানসারের প্রগ্নোসিস খুবই ভালো। [বাকি অংশ আগামীকাল]

ডা. লায়লা শিরিন, সহযোগী অধ্যাপক

ক্যানসার সার্জারি বিভাগ, জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল

সর্বশেষ..