প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ক্যাবের প্রতিবেদন: ২০১৬ সালে জীবনযাত্রায় ব্যয় বেড়েছে ৬.৪৭%

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিদায়ী বছরে (২০১৬) দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে ছয় দশমিক ৪৭ শতাংশ। আর পণ্য ও সেবার মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে পাঁচ দশমিক ৮১ শতাংশ। গত বছর চাল-ডাল, মাংস-ডিম, লবণ, চা-চিনি, দেশি-বিদেশি কাপড়, বিদ্যুৎ ও পানিসহ বেশকিছু নিত্যপণ্য ও সেবার মূল্য বেড়েছে।

কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। গতকাল রোববার এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

ক্যাব জানায়, প্রতিবেদনে ১১৪টি খাদ্যপণ্য, ২২টি নিত্যব্যবহার্য সামগ্রী ও ১৪টি সেবার তথ্য পর্যালোচনা করা হয়েছে। এজন্য রাজধানীর ১৫টি বাজার থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

ক্যাব সভাপতি গোলাম রহমান স্বাক্ষরিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে সব ধরনের চাল ও ডালের দাম বেড়েছে। চালের দাম গড়ে দুই দশমিক ৮৭ শতাংশ এবং ডালের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। নিম্ন আয়ের মানুষের ব্যবহৃত মোটা চালের দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে আমদানি করা রসুনের, ৭৬ শতাংশ। দেশি রসুনে বেড়েছে ৪৭ শতাংশ, চিনির দাম বেড়েছে ৪৬ দশমিক পাঁচ শতাংশ, লবণে বেড়েছে ৩৭ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং চা পাতায় ১১ দশমিক ৭০ শতাংশ।

এছাড়া প্রতি লিটার গরুর দুধের দাম আট দশমিক ৬০ শতাংশ এবং  মাংসের দাম ছয় দশমিক ২৪ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া দেশি থানকাপড়ের দাম ১০ শতাংশ, শাড়িতে ১২ শতাংশ ও গেঞ্জি-তোয়ালে-গামছায় বেড়েছে প্রায় সাত শতাংশ বেড়েছে।

অবশ্য ক্যাবের প্রতিবেদন অনুসারে পেঁয়াজ, ধনিয়া, কাঁচামরিচ, আদা, পান-সুপারি, গুঁড়োদুধ, শাকসবজি, কাপড়কাচা সাবান, মাছ, ডালডা, ঘি, আটা ও ভোজ্যতেলের দাম কমেছে।

সংস্থাটি প্রতিবেদনে জীবনযাত্রার ব্যয় রোধ ও অন্যান্য বিষয়ে বেশকিছু সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে ধান-চালের মূল্য স্থিতিশীল রাখার এবং উৎপাদিত ফসলের উপযুক্ত মূল্য দেওয়ার লক্ষ্যে ধান কাটার মৌসুমে কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি সরকার নির্ধারিত মূল্যে ধান-চাল সংগ্রহ করা, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে জ্বালানি তেল ও এলপিজি গ্যাসের মূল্য হ্রাস করা, ওয়াসার পানি বৃদ্ধির উদ্যোগ পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এছাড়া সংগঠনটি স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি, ভেজাল-নকল-নিম্ন মানের পণ্য, ওষুধ প্রস্তুত ও বাজারজাতকরণের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ, ভোক্তা অধিকার আইন-২০০৯ দ্রুত বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেওয়া এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের ওপর শুল্ককর বা ভ্যাট আরোপ না করার আহ্বান জানিয়েছে।

রিপোর্টে বলা হয়, গ্যাস ও জ্বালানি উন্নয়ন তহবিলের ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা বৃদ্ধি প্রয়োজন এবং এ-সংক্রান্ত তহবিল সুব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে ভোক্তা প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করে শক্তিশালী ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন প্রয়োজন।

বিদায়ী বছরে ওয়াসার পানির মূল্য দুই দফায় ২২ শতাংশ বৃদ্ধির সমালোচনা করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়াসার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও উদাসীনতার অভিযোগের শেষ নেই।

বাসাভাড়া সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের জনগোষ্ঠীর মোট আয়ের সিংহভাগ বাড়িভাড়ায় ব্যয় হয়। ২০১৬ সালে বাসাভাড়া বেড়েছে আট দশমিক ৫৪ শতাংশ। মেসরুমে বেড়েছে সাত দশমিক ৯৫ শতাংশ এবং বস্তির ভাড়া বেড়েছে আট দশমিক ৯৭ শতাংশ। আয় বৃদ্ধির সঙ্গে বাসাভাড়া বৃদ্ধির এ হার অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অসঙ্গতিপূর্ণ। এ কারণে বাড়িভাড়া আইন-১৯৯১ পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

রিপোর্টে যাতায়াত ব্যয় সম্পর্কে বলা হয়, ২০১৬ সালে গণপরিবহনে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নতি হয়নি। ঢাকায় যানজট পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতেও সেবার মান অতীতের মতোই প্রশ্নবিদ্ধ ও ব্যয়বহুল উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও দক্ষ লোকবলের অভাব, প্রাইভেট হাসপাতালে দালালের প্রকোপ ইত্যাদি কারণে ভোক্তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। শিক্ষার মানের বিষয়েও ‘সন্তোষজনক পর্যায়ে অগ্রগতি হয়নি’ বলে উল্লেখ করা হয়। ভোক্তা স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য নকল ও ভেজাল পণ্য বিক্রি রোধে বিএসটিআই’র কার্যপরিধি বিস্তৃত করার জন্য সংস্থাটিতে জনবল নিয়োগ এবং বিধিবিধান প্রণয়নের আহ্বান জানানো হয়।