কোম্পানি সংবাদ

ক্রমাগত পতনে ডিএসইএক্স সূচক তিন বছর আগের অবস্থানে

নিজস্ব প্রতিবেদক: সপ্তাহের দ্বিতীয় দিয়েও পুঁজিবাজারে সূচকের বড় পতন হয়েছে। এর ফলে সূচক তিন বছর আগের অবস্থানে নেমে গেছে। এর আগে ২০১৬ সালের ১৭ নভেম্বর ডিএসইএক্স সূচক চার হাজার ৬৯৮ পয়েন্টে অবস্থান করে। সে সঙ্গে ৬৫ শতাংশ কোম্পানির দরপতন হয়। লেনদেন প্রায় একই অবস্থানে ছিল। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল লেনদেনের শুরুতে সূচক নেমে গেলেও আধঘণ্টার মধ্যে কেনার চাপ বাড়লে উত্থান হয়। আধঘণ্টা ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর ফের নেমে আসে। এরপর আরেকবার উত্থানের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর সূচক ক্রমশ নিচে নেমে যেতে থাকে। শেষ পর্যন্ত প্রধান সূচকের ৫০ পয়েন্ট বা এক দশমিক শূন্য ছয় শতাংশ পতন হয়। বাকি দুই সূচকও পতনে ছিল। চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) একই চিত্র লক্ষ করা গেছে।         

বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, গতকাল ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫০ দশমিক ৫৭ পয়েন্ট বা এক দশমিক শূন্য ছয় শতাংশ কমে চার হাজার ৭১১ দশমিক ৩০ পয়েন্টে অবস্থান করে।

ডিএসইএস বা শরিয়াহ্ সূচক ১৭ দশমিক ৮১ পয়েন্ট বা এক দশমিক ৬২ শতাংশ কমে           এক হাজার ৮১ দশমিক ৭৯ পয়েন্টে অবস্থান করে। আর ডিএস৩০ সূচক ১৯ দশমিক ২৭ পয়েন্ট বা এক দশমিক ১৪ শতাংশ কমে এক হাজার ৬৬৯ দশমিক ৮৯ পয়েন্টে অবস্থান করে। গতকাল ডিএসইর বাজার মূলধন তিন হাজার ৯১৩ কোটি টাকা কমে দাঁড়িয়েছে তিন লাখ ৫৫ হাজার ৭৯০ কোটি ২২ লাখ ৯৬ হাজার টাকায়। ডিএসইতে লেনদেন হয় ২৯৯ কোটি ৮৯ লাখ ৭৬ হাজার টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ২৯৮ কোটি ১৯ লাখ ৯৩ হাজার টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। এ হিসেবে লেনদেন বেড়েছে এক কোটি ৬৯ লাখ টাকা। এদিন ৯ কোটি ৬৪ লাখ ৫২ হাজার ৫১৮ শেয়ার ৯৮ হাজার ৮৭৫ বার হাতবদল হয়। লেনদেন হওয়া ৩৫২ কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৮০টির, কমেছে ২৩১টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৪১টির দর।

গতকাল টাকার অঙ্কে লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে ন্যাশনাল টিউবস। কোম্পানিটির ১৭ কোটি ১৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। দর কমেছে তিন টাকা ৫০ পয়সা। এরপর স্কয়ার ফার্মার ১১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা লেনদেন হয়। দর কমেছে এক টাকা ৮০ পয়সা। ওয়াটা কেমিক্যালের ১০ কোটি ৭৯ লাখ টাকা লেনদেন হয়। দর কমেছে ৪৯ টাকা ৭০ পয়সা। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের সাত কোটি ৮৪ লাখ টাকা লেনদেন হয়, দর কমেছে এক টাকা ৪০ পয়সা। সামিট পাওয়ারের সাত কোটি ৬৮ লাখ টাকা লেনদেন হয়, দর অপরিবর্তিত ছিল। এছাড়া বাংলাদেশ সাবমেরিন কেব্লসের ছয় কোটি ৭০ লাখ টাকা, জেএমআই সিরিঞ্জের ছয় কোটি ৪৭ লাখ টাকা লেনদেন হয়। স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকের ছয় কোটি ৩৮ লাখ টাকা, মুন্নু জুট স্টাফলার্সের পাঁচ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, এটলাস বাংলাদেশের চার কোটি ৬২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়।                     

ছয় দশমিক ১৪ শতাংশ বেড়ে দর বৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে এমএল ডায়িং। নাহি অ্যালুমিনিয়াম ক্যাপিটালের দর ছয় দশমিক শূন্য দুই শতাংশ, শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজের চার দশমিক ৯৭ শতাংশ, নিউ লাইন ক্লথিংসের চার দশমিক ৭৬ শতাংশ, সিএপিএম বিডিবিএল মিউচুয়াল ফান্ডের তিন দশমিক ৬৫ শতাংশ, কোহিনূর কেমিক্যালের তিন দশমিক ৬৫ শতাংশ, ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের তিন দশমিক ৪০ শতাংশ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির দুই দশমিক ৮১ শতাংশ, বিডি ফাইন্যান্সের দুই দশমিক ৭৭ শতাংশ, ব্যাংক এশিয়ার দুই দশমিক ৭৪ শতাংশ বেড়েছে।        

১৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ কমে দরপতনের শীর্ষে উঠে আসে ইভিন্স টেক্সটাইল। ডরিন পাওয়ারের ১৪ দশমিক ১৪ শতাংশ, এগ্রো ডেনিমের ১২ দশমিক ৭২ শতাংশ, উসমানিয়া গ্লাসের আট দশমিক ২৪ শতাংশ, আরএন স্পিনিংয়ের সাত দশমিক ৬৯ শতাংশ, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকের সাড়ে সাত শতাংশ, দেশ গার্মেন্টসের সাত দশমিক ৪৪ শতাংশ, এএফসি এগ্রোর সাত দশমিক ৪২ শতাংশ, ওয়াটা কেমিক্যালের সাত দশমিক ৪০ শতাংশ এবং এপেক্স ফুটওয়্যারের দর সাত দশমিক ৩৯ শতাংশ কমেছে।                 

সিএসইতে গতকাল সিএসসিএক্স মূল্যসূচক ৬৪ দশমিক ২২ পয়েন্ট বা দশমিক ৭২ শতাংশ কমে আট হাজার ৭৫০ দশমিক ২১ পয়েন্টে এবং সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১০৬ দশমিক শূন্য তিন পয়েন্ট বা দশমিক ৭৩ শতাংশ কমে ১৪ হাজার ৪০৪ পয়েন্টে অবস্থান করে। গতকাল সর্বমোট ২৩৫ কোম্পানি এবং মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৫৯টির, কমেছে ১৪৫টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৩১টির দর।

সিএসইতে এদিন ১৩ কোটি ২০ লাখ ৬৩ হাজার ৯৫০ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ১৪ কোটি ৩৩ লাখ ৭৫ হাজার ৬৬৮ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। এ হিসেবে লেনদেন কমেছে এক কোটি ১৩ লাখ টাকা। সিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে অবস্থান করে ডরিন পাওয়ার। কোম্পানিটির এক কোটি ৮৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। বেক্সিমকো ফার্মার ৮২ লাখ টাকার, বেক্সিমকোর ৫৯ লাখ টাকার, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের ৫২ লাখ টাকার, এলআর গ্লোবাল মিউচুয়াল ফান্ড ওয়ানের ৪২ লাখ টাকার, বিডি ফাইন্যান্সের ৪১ লাখ টাকার, আইএফআইসি ব্যাংকের ৩৬ লাখ টাকার, সামিট পাওয়ারের ৩২ লাখ টাকার, বিএসসিসিএলের ২৮ লাখ টাকার, ওয়াটা  কেমিক্যালের ২৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়।

সর্বশেষ..