প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ক্রয় চাপে সূচকের উত্থান

নিজস্ব প্রতিবেদক: সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস গতকাল মঙ্গলবার প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) লেনদেনে অংশ নেয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। সেইসঙ্গে বেড়েছে সবকটি মূল্যসূচক। আগামী বৃহস্পতিবার প্রস্তাবিত ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট পাস হবে। বাজেট সামনে রেখে বাজারে ফিরছে প্রাতিষ্ঠানিক ও বড় বিনিয়োগকারীরা। বিনিয়োগকারীদের ক্রয়মুখী প্রবণতা থাকায় দুই দিন ধরে বাজার সূচক ও লেনদেনে ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরেছে। লেনদেনের শুরুতে দেখা দেয়া এ ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লেনদেনের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। তবে লেনদেনের শেষদিকে এসে দাম বাড়ার তালিকা থেকে কিছু প্রতিষ্ঠান পতনের তালিকায় নাম লেখায়।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেন শুরুর দুই মিনিটের মাথায় ডিএসইর প্রধান সূচক ১৩ পয়েন্ট বেড়ে যায়। আর লেনদেনের প্রথম ঘণ্টায় সূচকটি বাড়ে ১৯ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ৬০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান দাম বাড়ার তালিকায় নাম লেখায়।

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার শেয়ারবাজারে পতন হয়। ওইদিন প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সূচক পড়ে যায় ২৬ পয়েন্ট। দরপতনের পাশাপাশি সেদিন লেনদেনও নেমে আসে ৬০০ কোটি টাকার নিচে। অর্থাৎ দেশের অর্থনীতি উন্নয়নে বড় খবরেও শেয়ারবাজার ছিল গতিহীন।

তবে পরদিন সোমবার শেষ বেলায় বড় বিনিয়োগকারী ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ক্রয় চাপে হঠাৎ বাজার ঘুরে যায়। ওইদিন বাজারের সূচকও ইতিবাচক প্রবণতায় টার্ন নেয় এবং লেনদেনও ৭০০ কোটি টাকা পার হয়।

গতকাল মঙ্গলবারও আগের দিনের ইতিবাচকতার ধারায় বাজার আরও সামনে এগিয়েছে। ডিএসইর সূচক আরও ইতিবাচক অবস্থায় দেখা গেছে এবং লেনদেনও ৮০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। বাজারের সার্বিক পরিস্থিতিও ছিল অনেক ইতিবাচক। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২২ দশমিক ২৫ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৩৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছয় হাজার ৩৪২দশমিক ৫৯ পয়েন্টে। ডিএসইর অপর সূচকগুলোর মধ্যে শরিয়াহ্ সূচক ৪ দশমিক ৮৪ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৩৫ শতাংশ এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৯ দশমিক ৩৭ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৪১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে এক হাজার ৩৮৫ দশমিক ৬৫ পয়েন্টে এবং দুই হাজার ২৯৪ দশমিক ৫৮ পয়েন্টে।

টাকার পরিমাণে ডিএসইতে গতকাল লেনদেন হয়েছে ৮১৮ কোটি ৮২ লাখ টাকার, যা আগের কার্যদিবস থেকে ১১৮ কোটি ছয় লাখ টাকা বেশি। আগের কার্যদিবস লেনদেন হয়েছিল ৭০০ কোটি ৭৬ লাখ টাকার।

গতকাল ডিএসইতে ৩৮২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৯৯টির বা ৫২ দশমিক ০৯ শতাংশের শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে। দর কমেছে ১৩৩টির বা ৩৪.৮২ শতাংশের এবং ৫০টির বা ১৩ দশমিক ০৯ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দর অপরিবর্তিত ছিল।

এদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই এদিন ৫৪ দশমিক ৪১ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ২৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৬৭১ দশমিক ১৪ পয়েন্টে। সিএসইতে হাত বদল হওয়া ২৯৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ারদর বেড়েছে ১৬৬টির, কমেছে ৯১টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৩৬টির দর। সিএসইতে ৬০ কোটি ৩৭ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।