দিনের খবর প্রথম পাতা

ক্রিকেটের জন্য অশনিসংকেত

দেশের জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটাররা বলছেন, ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলার আগেই ফলাফল নির্ধারিত হচ্ছে। এটাকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের দুর্বল নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক ব্যর্থতা মনে করছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। এটা দেশের ক্রিকেটের জন্য অশনিসংকেত মনে করছেন বিজ্ঞজনরা

এটা দেশের ক্রিকেটের জন্য সুখকর নয়

জাহিদ আহসান রাসেল

প্রতিমন্ত্রী

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়

আমি দুদিন ধরেই বলছি, ক্রিকেটাররা এভাবে হার্ডলাইনে না গেলেও পারত। আবারও বলছি, সাকিব আল হাসানরা ধর্মঘটে না গিয়ে আলোচনা করতে পারত।  বোর্ডের সঙ্গে না বসতে চাইলে আমাকে জানাতে পারত। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর দরজা তো খোলা। কিন্তু তারা সরাসরি গণমাধ্যমের সামনে এসেছে। যাতে ক্রিকেটই শুধু নয়, দেশের ভাবমূর্তিও আন্তর্জাতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আমি কিন্তু ক্রিকেটারদের পুরো ১১ দফাই পড়েছি। আমিও স্বীকার করছি, কোনো দাবিই ফেলে দেওয়ার মতো নয়। এর মধ্যে বেশিরভাগ দাবি যৌক্তিক। কিন্তু আপনি যদি সমাধানে আসতে চান তাহলে তো বসতে হবে। আলোচনা করতে হবে। কিন্তু ক্রিকেটাররা সেটা করেনি।

দেখুন, সাকিব ঘরোয়া ক্রিকেটের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ম্যাচে যাওয়ার আগেই নাকি অনেক দল জেনে যায় কোন দল জিতবে, কোন দল হারবে। এই অভিযোগ যদি সত্য হয়, তবে সেটা দেশের ক্রিকেটের জন্য সুখকর কিছু নয়। এ বিষয়গুলো সিরিয়াসলি নিয়ে কাজ করতে হবে।

ক্রিকেটারদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আজ (মঙ্গলবার) পাপন ভাইয়ের কথাও শুনলাম। তিনি অভিমানের সুরে অনেক কিছুই বলেছেন। অভিভাবক হিসেবে তিনি এভাবে বলতেই পারেন। কারণ ক্রিকেটাররা তো তার কাছে দাবি নিয়ে যায়নি। তারপরও যা হয়েছে ইতি টানা উচিত। কারণ সামনেই ভারত সফর। হাতে সময় একেবারে নেই। আমি আবারও পাপন ভাইয়ের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলব।

ম্যাচ ফিক্সিং বোর্ডের জন্য লজ্জাজনক

আমিনুল ইসলাম বুলবুল

সাবেক অধিনায়ক

জাতীয় ক্রিকেট দল

অনেক দিন ধরেই দেশে থাকছি না আমি। পেশাদারি ব্যস্ততার কারণে বাইরে থাকলেও দেশের ক্রিকেটের সব খবরই কানে আসে। সাকিবদের ধর্মঘটের খবরটাও পেলাম। যৌক্তিক দাবি নিয়েই ওরা নেমেছে। অথচ ওদের তো এভাবে ধর্মঘটে যাওয়ার কথা ছিল না। আনুষ্ঠানিকভাবে বোর্ডের সঙ্গে এ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার জন্য ক্রিকেটারদের অ্যাসোসিয়েশন রয়েছে। অথচ সেই কোয়াবে প্রায় দশ-বারো বছর ধরে যারা আছেন, তারা রয়েছেন ক্রিকেট বোর্ডেও। ওদের ব্যর্থতার কারণেই সাকিব-তামিমরা বোর্ডের কাছে যেতে পারেনি।

দেশের শীর্ষ ক্রিকেটাররাই আন্দোলনে নেমেছে। ওদের দৃষ্টিতে যখন বোর্ডের সমস্যাগুলো ধরা পড়েছে, তার অর্থ বুঝতে হবে এই বোর্ডে যারা আছেন, তারা কাজ করতে ব্যর্থ। আর এ কারণেই খেলোয়াড়রা এখন আন্দোলনে নেমেছে। আমি বলব ক্রিকেটার-কর্মকর্তা সবার মিলেমিশে কাজ করা উচিত।

সাকিব প্রসঙ্গটা তুলল ঘরোয়া ক্রিকেটে ম্যাচে যাওয়ার আগেই নাকি অনেক দল জেনে যায় কোন দল জিতবে, কোন দল হারবে। পত্রিকায় দেখি একজন বোলার ওভারে ৯০ রান দিচ্ছে! আবার শুনতে হয় আম্পায়ারিং ভালো হচ্ছে না। তাহলে দেশের ক্রিকেট ভালো হবে কী করে।

ওদের ১১টা দাবি দেখেছি আমি। এর মধ্যে কিছু শতভাগ যৌক্তিক। আবার কোনোটি হয়তো তারও কম। খেলোয়াড়দের কাজ ক্রিকেট খেলা অথচ তাদের এই দাবি নিয়ে নামতে হচ্ছে। এটা ক্রিকেট বোর্ডের জন্যই লজ্জাজনক।

জাতীয় লিগ চলছে। দিন কয়েক পরই ভারত সফর। আশা করব সবকিছুর সমাধান হবে। ক্রিকেটের ক্ষতি হবে এমন কিছু করা উচিত নয় আমাদের।

সামনে শুধু অন্ধকার দেখতে পাচ্ছি

আমিনুল হক

সাবেক ফুটবলার ও

বিএনপির ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক

সত্যিকার অর্থে বললে সামগ্রিকভাবেই দেশের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। অস্থির একটা সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি আমরা। তাই বলে ক্রিকেটেরও এমনটা হবে ভাবিনি। সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ কিংবা তামিম ইকবালের মতো ক্রিকেটাররা যখন অর্থনৈতিক সমস্যা নিয়ে কথা বলেন, তখন সেটা সবার জন্যই বিব্রতকর। কারণ ক্রিকেট বোর্ড তো অর্থনৈতিকভাবে বেশ স্বাবলম্বী। তারা কেন খেলোয়াড়দের বঞ্চিত করবে। আরও আগেই ক্রিকেটারদের সঙ্গে বসে এটা সমাধান করা উচিত ছিল।

তবে এ সমস্যা তো আর রাতারাতি তৈরি হয়নি। দিনের পর দিন বঞ্চনা থেকেই বিস্ফোরণ। আমার অন্তত তা-ই মনে হয়েছে। মানুষ যখন অন্যায় আর সহ্য করতে পারে না, তখনই এভাবে বিস্ফোরণ হয়।

আমি সাকিবকে ধন্যবাদ জানাই। তার দুঃসাহসকে সাধুবাদ। যৌক্তিক দাবি নিয়ে হাজির হয়েছেন তিনি। শুনে অবাক হলাম ঘরোয়া ক্রিকেটে নাকি অনেক ম্যাচে মাঠে নামার আগেই দল জেনে যায় কে জিতবে। সাকিব তো সোমবার নিজেই ঘরোয়া ক্রিকেটের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটেই যদি এমন পক্ষপাতদুষ্ট আম্পায়ারিং আর স্বজনপ্রীতি থাকে, তাহলে দেশের ক্রিকেট এগিয়ে যাবে কী করে। আমি সামনে শুধু অন্ধকার দেখতে পাচ্ছি।

মঙ্গলবার টিভি পর্দায় বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন ভাইয়ের বক্তব্য শোনলাম। তিনি যেভাবে দাম্বিকতা নিয়ে কথা বলেছেন, সেটা বিস্ময়কর। একজন সভাপতি হিসেবে তিনি ক্রিকেটারদের অভিভাবক। তাহলে তিনি কী করে এভাবে কথা বলেন। আবার দেখলাম ক্রিকেটারদের ধর্মঘটে তিনি ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন এটাও হতাশাজনক। সমাধানের পথে না হেঁটে ক্রিকেটারদের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে গেল বিসিবি!

দেশের ক্রিকেটে এমন ঘটনা কাম্য নয়

আহমেদ সাজ্জাদুল আলম ববি

পরিচালক

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড

ক্রিকেট তার নিজস্ব গতিতে চলবে। সাময়িক অবস্থা বিবেচনায় কারোরই মুখোমুখি অবস্থানে যাওয়া যাবে না। ইতিবাচকভাবে চিন্তা করলেই এখান থেকে উত্তরণের পথ বের হবে। দেখুন, যা হচ্ছে এই ব্যাপারটিকে দেশের ক্রিকেটের জন্য অশনি সংকেত বলব না আমি। কেউ-ই চায় না দেশের ক্রিকেট পিছিয়ে যাক। আশা করি, দ্রুতই সবকিছুর সুরাহা হবে। ফের মাঠে ফিরবে ক্রিকেটাররা।

তবে এটাও বলতে হবে, যা হয়েছে তা কারোর কাম্য নয়। আশা করি, সহসাই দুই পক্ষের সমঝোতায় সব ঠিক হয়ে যাবে। সামনেই ভারত সিরিজ। তার আগে এখন চলছে জাতীয় ক্রিকেট লিগ। ভারত সফরের আগেও শুরু করতে হবে জাতীয় দলের অনুশীলন ক্যাম্প। আশা করছি, ক্রিকেটাররা সব জায়গায় অংশগ্রহণ করবে। 

প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগের আম্পায়ারিং নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার উত্তর আমার ওপরের কথাতেই রয়েছে। সবকিছু ইতিবাচকভাবে দেখে দেশের ক্রিকেটের জন্য কাজ করতে হবে আমাদের।

তাছাড়া ক্রিকেটারদের বেশিরভাগ দাবিই যুক্তিযুক্ত। সেগুলো আলোচনা করে মিডল গ্রাউন্ড খুঁজে বের করা জরুরি। তবে বোর্ডকে ভাবতে হবে বিষয়টি দ্রুত এত দূর পর্যন্ত কেন এলো? এসব ভাবতে হবে ক্রিকেটের স্বার্থে।

এর সঙ্গে একটা কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখালেখি হচ্ছে, মঙ্গলবার বিসিবির সভায় নাকি আমাকে ডাকা হয়নি। সেটা ঠিক নয়, মঙ্গলবার বিসিবির কোনো বোর্ড মিটিং ছিল না। যে কারণে আমি সেখানে যাইনি।  

সর্বশেষ..