স্পোর্টস

ক্রিকেট কারিগর আলতাফ হোসেনের জীবনাবসান

ক্রীড়া ডেস্ক: ২০০৯ সালে মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার পর নানা ব্যাধিতে ভুগছিলেন ক্রিকেট কারিগর সৈয়দ আলতাফ হোসেন। একবার তো কোমা থেকেও ফিরে এসেছিলেন সাবেক ক্রিকেটার, বাংলাদেশে ক্রিকেট কোচিংয়ের অগ্রদূত ও জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত এ ব্যক্তিত্ব। তবে গত পরশু ৮১ বছর বয়সে মারা গেছেন তিনি। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
আলতাফ হোসেন ছিলেন মূলত একজন পেসার। তবে ব্যাটিংয়েও ছিলেন পারদর্শী। যা দিয়েই পাকিস্তান ক্রিকেট দলের টেস্ট স্কোয়াডে প্রথম বাঙালি ক্রিকেটার হিসেবে ১৯৬৫ সালে ডাক পেয়েছিলেন তিনি। যদিও সে সময় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে একাদশে জায়গা পাননি তিনি। তবে ১৯৬১ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তান দলের অন্যতম ভরসা হয়ে ছিলেন এ পেসার। ১৯৮২ সাল পর্যন্ত সেটা ধরেও রাখেন। খেলেয়াড়ি জীবনেই ১৯৭০ সালে শুরু করেন আম্পায়ারিং। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের আম্পায়ার হয়ে পরিচালনা করেছেন প্রথম শ্রেণির ম্যাচ। শুধু তা-ই নয়, বাংলাদেশের ক্রিকেটকে গড়ে তোলার কারিগরও ছিলেন।
হুগলিতে ১৯৩৮ সালে জন্ম নেয়া আলতাফ ১৯৮৭ সালে বড় ধরনের ট্র্যাজেডির শিকার হয়। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সে সময় দুই ভাই হারা তিনি। তাই তো মায়ের সঙ্গে চলে আসেন ঢাকায়। এরপর নিজেকে গড়ে তোলেন ক্রীড়াঙ্গনের বটবৃক্ষ হিসেবে।
আফতাফের ক্রিকেট ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল ১৯৫৪ সালে কায়েদে আজম ক্লাবের হয়ে। এরপর মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব, ওয়ান্ডারার্স, পিডব্লিউডি, ইস্ট পাকিস্তান জিমখানা ও শান্তিনগর ক্লাবে খেলেছিলেন তিনি। শুধু তাই নয় ঢাকার তৃতীয় বিভাগ ফুটবল ও বাস্কেবলে পারদর্শী ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত অবশ্য এ পেসার বনে যান পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭১ সালে আলতাফ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কোচ হন। পরে এ পেশাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যান তিনি। যাদের হাত ধরে গড়ে উঠেছে স্বাধীন বাংলাদেশের মাঠের ক্রিকেট, তাদের অন্যতম ছিলেন তিনি। ভারতের পাতিয়ালায় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব স্পোর্টস থেকে কোচিং কোর্স করে আসা বাংলাদেশের প্রথম কোচ তিনি। পরে কোচিং কোর্স করে এসেছেন ইংল্যান্ড থেকেও। ১৯৯০ এশিয়া কাপেও ছিলেন বাংলাদেশ দলের ডেপুটি ম্যানেজার কাম কোচ। ‘এ’ দল ও বয়সভিত্তিক দলগুলোর দায়িত্বে ছিলেন অনেকবার।
এ দেশের নারী ক্রিকেটেও আলতাফের বড় ভূমিকা রয়েছে। তার হাত ধরেই তো ১৯৮৩ সালে ঢাকা আবাহনী প্রথম যায় কলকাতায়। যা দেখে মুগ্ধ হয়ে বিসিবি ১৯৯৭ সালে তাকেই মহিলা দল গড়ে তোলার দায়িত্ব দেয়। ২০০৬ সাল পর্যন্ত সেই দায়িত্ব পালনের সবরকম চেষ্টায় করেছিলেন সাবেক এ পেসার। সে পথ ধরে ১৯৯৯ সালে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ২০০৯ সালে মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার পর কোমায় ছিলেন প্রায় ২৪ ঘণ্টা। সে যাত্রায় ফিরে এলেও গত পরশু সবাইকে কাঁদিয়ে পরপারে পাড়ি দেন ক্রিকেটের এই মহীরূহ। সত্যিই এদেশে যতদিন ক্রিকেট রবে একজন আলতাফ হোসেনও ততদিন সবার মনে থাকবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..