প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ক্রেতা-বিক্রেতার সমান সক্রিয়তায় সূচকের সামান্য উত্থান

মো. আসাদুজ্জামান নূর: সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মূল্য সূচকের মিশ্র প্রবণতায় লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। তবে টাকার অঙ্কে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। লেনদেনের চিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতারা উভয়েই সমান সক্রিয় ছিলেন। এর প্রভাবে শেষ পর্যন্ত প্রধান মূল্য সূচক ২ দশমিক ৪ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে লেনদেন শেষ হয়। তবে অপর দুই সূচক হ্রাস পেয়েছে।

গতকাল লেনদেনের শুরুর দিকে ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও দিনভর সূচকের ওঠানামা দেখা গেছে। লেনদেন শুরুর আধা ঘণ্টার মধ্যেই আগের দিনের চেয়ে ৫৫ পয়েন্ট বেড়ে ১০টা ৩২ মিনিটে সূচক সাত হাজার ৬৯ পয়েন্টে ঠেকে। তবে তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। পরের ঘণ্টায় ক্রমেই শেয়ারদর পতনে ১১টা ৩৮ মিনিটে সূচক সাত হাজার ৩৮ পয়েন্টে নেমে আসে। পরের এক ঘণ্টায় আবারও দরবৃদ্ধির মাধ্যমে সূচক ফিরে পেতে শুরু করে। দুপুর ১২টা ২৪ মিনিটে সূচক দাঁড়ায় সাত হাজার ৫৮ পয়েন্টে। এরপর ধারাবাহিক দরপতনের ফলে সূচক ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। দিন শেষে আগের কার্যদিবসের চেয়ে মাত্র দুই পয়েন্ট সূচকে যোগ হয়।

রোববার ডিএসইতে মোট ৩৭৮টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৮২টির, কমেছে ১৫১টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৪৫টির। এর প্রভাবে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ২ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে সাত হাজার ১৯ পয়েন্টে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএস৩০ সূচক ১৭ পয়েন্ট এবং ডিএসইএস বা শরিয়াহ সূচক শূন্য দশমিক ২৯ পয়েন্ট বেড়েছে।

গতকাল সূচক বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে র‌্যাক সিরামিকস, জিপিএইচ ইস্পাত, ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট, স্কয়ার টেক্সটাইল, ওয়ালটন হাইটেক, ফরচুন শুজ, লিনডে বিডি, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, এনভয় টেক্সটাইল, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল ইত্যাদি কোম্পানি।

খাতভিত্তিক লেনদেন বিশ্লেষণে দেখা যায়, গতকাল ভ্রমণ ও অবকাশ এবং ট্যানারি খাতে বেশি ক্রয় চাপ ছিল। অন্যদিকে টেলিযোগাযোগ এবং বিবিধ খাতে বিক্রয় চাপ ছিল। এছাড়া টেলিকম খাতে শূন্য দশমিক ১৭৪ শতাংশ বাজার মূলধন হ্রাস পেয়েছে। ‘জেড’ ক্যাটেগরির শেয়ারে ক্রয় এবং ‘এন’ ক্যাটেগরির শেয়ারে বিক্রয় চাপ ছিল।

দিন শেষে রোববার ডিএসইতে এক হাজার ৫০৬ কোটি ৮০ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়; যা আগের দিনের চেয়ে ২৬৩ কোটি ৯৫ লাখ টাকা বেশি। আগের কার্যদিবস বৃহস্পতিবার ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল এক হাজার ২৪২ কোটি ৮৪ লাখ টাকার।

লেনদেনে সবচেয়ে বেশি ১৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ অবদান রেখেছে বস্ত্র খাত। এ খাতের ৭৪ শতাংশ কোম্পানির দরবৃদ্ধি দেখা গেছে। এছাড়া লেনদেনে অবদান রাখা শীর্ষ পাঁচ খাতের অপর চারটি হলো: জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ১১ দশমিক ২০ শতাংশ, প্রকৌশল খাতে আট দশমিক ৯৮ শতাংশ, ওষুধ ও রসায়ন সাত দশমিক ৭১ শতাংশ ও বিবিধ খাতে সাত দশমিক ১৬ শতাংশ লেনদেন হয়েছে। এগুলোর মধ্যে বিবিধ খাত ছাড়া সবগুলোতেই দরবৃদ্ধি দেখা গেছে।