মার্কেটওয়াচ

ক্রেতা- সাবধান নীতিমালা করা জরুরি

প্রতি রবি থেকে বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজারের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে এনটিভি ‘মার্কেট ওয়াচ’ অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ে শেয়ার বিজের নিয়মিত আয়োজন ‘এনটিভি মার্কেট ওয়াচ’ পাঠকের সামনে তুলে ধরা হলো:

পুঁজিবাজারের প্রধান অভিভাবক বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন। তবে ব্যাংক খাতে অব্যবস্থাপনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকই দায়ী। আর পুঁজিবাজারের অব্যবস্থাপনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক, মন্ত্রণালয় এবং বিএসইসির ব্যাপক সাংঘর্ষিক চিন্তাভাবনাই দায়ী। এ তিন জায়গায় কেউ কারও কথা শোনে না। তাই এই বাজারে ‘ক্রেতা-সাবধান নীতিমালা’ করা জরুরি। গতকাল এনটিভির মার্কেট ওয়াচ অনুষ্ঠানে বিষয়টি আলোচিত হয়। হাসিব হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক ছিলেন এনবিইআরের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আহসানুল আলম পারভেজ।

সৈয়দ আহসানুল আলম পারভেজ বলেন, পুঁজিবাজারে সামগ্রিকভাবে যা হচ্ছে তার জন্য পুরোপুরি বাংলাদেশ ব্যাংককে দোষারোপ করা যায় না। পুঁজিবাজারের প্রধান অভিভাবক বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। তবে ব্যাংক খাতে অব্যবস্থাপনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক দায়ী। আর পুঁজিবাজারের অব্যবস্থাপনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক, মন্ত্রণালয় এবং বিএসইসির ব্যাপক সাংঘর্ষিক চিন্তাভাবনাই দায়ী। এই তিন জায়গায় কেউ কারও কথা শোনে না। মনে হয় যেন ওখানে এক অদৃশ্য প্রভু আছে। এই বাজারে ক্রেতা সাবধান নীতিমালা করা জরুরি বলে মনে করি। পুঁজিবাজার বাড়বে, কমবে আবার উঠবে এটাই স্বাভাবিক কিন্তু যখন উঠতে উঠতে বাজার এমন জায়গায় চলে যায় যে, প্রতিটি শেয়ারের দর কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তখন ক্রেতা সাবধান পলিসি করা দরকার। বেশ কিছুদিন আগে নতুন তালিকাভুক্ত একটি কোম্পানির ১০ টাকার শেয়ারের দর প্রায় ১০০ টাকা হয়। কোম্পানিটি হয়তো ১০-১২ শতাংশ লভ্যাংশ  দেবে। এখন কথা হচ্ছে, কী কারণে বিনিয়োগকারীরা এত বেশি দরে শেয়ারটি কিনলেন। তিনি বলেন, মানি মার্কেটে আর্থিক খাতের বড় বড় কোম্পানির বিনিয়োগকারীরা মিডিয়াকেও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। শেয়ার মার্কেটে যারা খেলোয়াড় তারা বছরে আয় করে ৩০০-৫০০ কোটি টাকার মতো। এখানে ক্রেতাদের সাবধান হতে হবে। তাদের একটি নির্দিষ্ট টাকার বাইরে শেয়ার না কেনার ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হতে হবে। দেশের পুঁজিবাজারের যে বাজার মূলধন তাতে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু বাজারে খেলোয়াড়রা বা কারসাজিকারকরা কাজ করছে বলে বাজার সম্প্রসারিত হচ্ছে না। আর এগুলো আমরা টক শোতে সব সময়ই বলি। কিন্তু এগুলো দেখভালের দায়িত্ব যাদের তারা কিছু বলছে না। আবার তাদের দেখভালের দায়িত্ব যাদের তারাও চুপচাপ বসে আছে। তাছাড়া বিনিয়োগকারীদেরও সচেতনতার অভাব আছে। তারা যখন ব্যাংকে টাকা রাখতে যায়, তখন বিভিন্ন দিক বিচার-বিশ্লেষক করে। অথচ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের আগে তারা সে রকম কোনো আচরণ করছে না। যথার্থ শিক্ষা ও সচেতনতাই বাজারকে স্থিতিশীল করতে পারে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হতে যাচ্ছে। এর জন্য প্রথমেই বাহবা দিতে হবে দেশের কৃষকদের। তারপর রেমিট্যান্স ও তৈরি পোশাক খাতের কর্মীদের। আর এ তিনটি খাতের ভালো কর্ম দক্ষতার কারণেই আজকে মধ্যম আয়ের দেশে যাওয়ার কথা ভাবছি। অ্যাটলাস পদ্ধতিতে দেশের মাথাপিছু আয় এক হাজার ২৭৪ ডলার। কিন্তু এই এক হাজার ২৭৪ ডলার দেশের সব শ্রেণির মানুষ পাচ্ছে না। কিছু মুষ্টিমেয় মানুষের পকেটে যাচ্ছে সব।

 

শ্রুতিলিখন: রাহাতুল ইসলাম

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..