প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

ক্ষমতার দাপট দেখাবেন না

দলীয় কর্মীদের ওবায়দুল কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক: ক্ষমতার ‘দাপট’ না দেখিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের কথাবার্তায় সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, আমাদের নেতা-কর্মীদের বলব, প্রত্যেককে কথাবার্তায়, আচার-আচরণে দায়িত্বশীল হতে হবে। এই সময়ে দায়িত্বজ্ঞানহীন কোনো কথা বলা সমীচীন নয়, এ সময় ক্ষমতার দাপট দেখানো সমীচীন নয়। ঠাণ্ডা মাথায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে, মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। এটাই আজকে আমাদের সবচেয়ে বড় মেসেজ।

গতকাল শনিবার ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মহিলা শ্রমিক লীগের শোক দিবসের আলোচনা সভায় একথা বলেন তিনি।

দেশে জীবনযাত্রার খরচ বেড়ে যাওয়ার পেছনে আন্তর্জাতিক সংকট প্রভাব রেখেছে, তা জনগণের সামনে তুলে ধরার আহ্বানও জানান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, সারাবিশ্বে সংকটের একটা নেতিবাচক প্রভাব আজকে বাংলাদেশ মোকাবিলা করছে। আমরা জানি, অনেক মানুষের কষ্ট হচ্ছে। কস্ট অব লিভিং যেভাবে বেড়ে গেছে, তাতে মানুষ কষ্ট করছে, এটা ঠিক। কিন্তু আমাদের সামনে কোনো উপায় ছিল না। সারা দুনিয়ায় মূল্য বৃদ্ধি, জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিএনপির সমালোচনা করে কাদের বলেন, পৃথিবীর বহু দেশ আজকে সমস্যায় জর্জরিত। আর এটাকে কেন্দ্র করে ফ্রান্সের বিরোধী দল সরকার উৎখাতে নামেনি, আমেরিকার বিরোধী দল সরকার উৎখাতে নামেনি। এই দুনিয়ায় সংকটে অনেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে, আর বাংলাদেশে তারা সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র করছে।

বিএনপির সমাবেশের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, তাহলে এখন স্বীকার করলেন যে পুলিশ বাধা দিচ্ছে না।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীকে হুশিয়ার করে কাদের বলেন, বেপরোয়া ড্রাইভার এখন ফখরুল সাহেব, বেপরোয়া রাজনীতির চালক কখন যে কোথায় এক্সিডেন্ট ঘটায়! আগুন নিয়ে আসবেন না, বলে দিচ্ছি, সতর্ক করে দিচ্ছি। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে আপনাদের কেউ বাধা দিচ্ছে না। কিন্তু আগুন সন্ত্রাস নিয়ে যদি নামতে চান, মোকাবিলা করতে চান, তাহলে বলব, সমুচিত জবাব দেয়া হবে।

বিএনপির সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যাকে প্রাইম টার্গেট করে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা এর পরও যিনি কোকোর মৃত্যুর পর বেগম জিয়ার বাড়িতে ছুটে গিয়েছিলেন শোকাহত মাকে সান্ত¡না দিতে। তারপরও ঘরের দরজা বন্ধ, বাইরের দরজা বন্ধ, শেখ হাসিনার মুখের ওপরে। তাহলে প্রতিপক্ষের মতো আচরণ আমরা করতে চেয়েছি? গণভবনে সংলাপ করেছি। কিন্তু তারা আমাদের শত্রুই ভেবেছে। শত্রুতাই করেছে বারবার, তারা শত্রুতা করছে।

বঙ্গবন্ধুর হতাকাণ্ড নিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পেছনের বিশ্বাসঘাতক যে রাজনৈতিক শক্তি, সবার নাম আমরা জানি না। সবার ভূমিকা এখনও পরিষ্কার নয়। খুনিরা যখন বঙ্গবন্ধুর বাড়ি আক্রমণ করে, তখন অনেককেই তিনি টেলিফোন করেছিলেন। তার ডাকে ছুটে এসেছিলেন শুধু কর্নেল জামিল। এই কর্নেল জামিলকেও সোবহানবাগ মসজিদের পাশে হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধুর খুনিরা পালিয়ে গেছে কীভাবে? কে পাঠিয়েছে থাইল্যান্ডÑজেনারেল জিয়াউর রহমান। খুনিদের পুরস্কৃত করেছে জিয়াউর রহমান।