সম্পাদকীয়

ক্ষুদ্র আমানতকারীর ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত হোক

স্কুল ব্যাংকিং, কৃষকদের অ্যাকাউন্ট প্রভৃতি ব্যাংক ব্যবস্থার যুগান্তকারী উদ্যোগ। কোমলমতি শিক্ষার্থী ও কৃষকদের সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য তাদের উৎসাহী করতে সফল হয়েছে এসব ব্যাংকিং। সবার আগ্রহও বেড়েছে। শহর-গ্রামে সর্বত্রই হিসাবের সংখ্যা বেড়েছে। ন্যূনতম ১০০ টাকা জমা দিয়ে একজন শিক্ষার্থী এবং ১০ টাকা দিয়ে একজন কৃষক হিসাব খুলতে পারবেন। নীতি অনুযায়ী এ ধরনের হিসাব পরিচালনার জন্য কোনো চার্জও নেয়া যাবে না।

কভিড মহামারির মধ্যে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ফি জমা দিতে হয়েছে। কৃষকদেরও বিভিন্ন সহায়তা পেতে হিসাবটি ব্যবহার করা হচ্ছে।

গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘এগিয়ে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক: ক্ষুদ্র আমানতকারীদের সেবা দিতে আগ্রহ নেই বেসরকারি ব্যাংকের’ শীর্ষক প্রতিবেদনের বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে। এতে বলা হয়, প্রচারণার অভাবে কৃষকরাও জানেন না বেসরকারি ব্যাংকেও কৃষিঋণ পাওয়া যায়। তৈরি পোশাককর্মী, কৃষক ও সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় থাকা ভাতা গ্রহণকারী, মুক্তিযোদ্ধা, হতদরিদ্র ও স্কুলের শিক্ষার্থীরা এ ব্যাংক হিসাব খুলতে পারেন। কিন্তু বেসরকারি ব্যাংকগুলো এ হিসাব খুলতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। নিয়ন্ত্রক সংস্থার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বিশেষায়িত এসব হিসাবের ৮৬ শতাংশই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর।

কৃষকরা ব্যাংককর্মীদের সহায়তা পাওয়া নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ করছেন। ফলে ব্যাংকে যেতে আনীহা তাদের। এ কারণে অনেকে চড়া সুদে গ্রামের মহাজন, ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করছেন, সার-বীজ কিনছেন। ফলে সুদসহ গুনতে হচ্ছে কয়েকগুণ টাকা। কিস্তির টাকা শোধ করতে প্রতি সপ্তাহেই তাগাদা দিচ্ছে এনজিওগুলো। ঋণের জালে আটকে পড়ে হাঁসফাঁস অবস্থা কৃষকের।

সার, বীজসহ উপকরণ কেনার টাকা না থাকায় কৃষকরা বাধ্য হন উচ্চ সুদে ঋণ নিতে। আবার সরকারের বরাদ্দ কৃষিঋণ নিতেও ধরতে হয় দালাল। কমিশনের নামে মোট ঋণের ১০ শতাংশই যায় দালালের পেটে। অনেক ক্ষেত্রেই প্রকৃত কৃষকরা পান না ঋণের টাকা। অনিয়মের কারণে বিভিন্ন জেলায় কৃষকের বরাদ্দের ঋণ চলে যাচ্ছে অকৃষি খাতে। কৃষকের জন্য বিশেষায়িত ‘১০ টাকার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট’ করতেও দিতে হচ্ছে ঘুষ। আবার নির্দিষ্ট সময়ে ঋণ শোধ না করায় বহু কৃষকের গলায় ঝুলছে সার্টিফিকেট মামলা। সেচের জন্য সরকার বিদ্যুৎ বিলে ২০ শতাংশ ভর্তুকি দিলেও এ ক্ষেত্রে কৃষকরা অনিয়মের শিকার হচ্ছেন।

মাঠপর্যায়ের কৃষক সঠিকভাবে ঋণ, ভর্তুকিসহ নানা সুবিধা পাচ্ছেন কি না, সেদিকে সরকারের তদারকি বাড়াতে হবে। সরকারের এসডিজির দুই নম্বর লক্ষ্য অর্জন করতে হলে পিছিয়ে পড়া অঞ্চলে উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর মাধ্যমে ক্ষুধার অবসান, খাদ্য নিরাপত্তা ও উন্নত পুষ্টিমান অর্জন করতে হবে।

শুধু নোটিস পাঠিয়ে সতর্ক করা নয়, তদারকি বাড়িয়েও এ খাতে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর ছাত্র-কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে হবে। প্রয়োজনে ক্ষতিগ্রস্তরা যাতে সরাসরি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে, সে ব্যবস্থা নিতে হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..