সম্পাদকীয়

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সুন্দরবন রক্ষায় ব্যবস্থা নিন

বিদ্যুৎ উৎপাদনে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে ঝুঁকছে উন্নত বিশ্ব। এর অংশ হিসেবে নিরাপদ বিশ্ব তৈরিতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিবর্তে নবায়নযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব বিকল্প পদ্ধতি বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদনের হার যখন বেড়ে চলেছে, তখন বাংলাদেশ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করছে।
সবচেয়ে কম কার্বন নিঃসরণ করেও কার্বন নিঃসরণজনিত কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হওয়া দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। ক্ষতিপূরণ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তন তহবিল থেকে সহায়তা পাচ্ছি আমরা। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর কাছে বাংলাদেশ অঙ্গীকার করেছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৌশলগত পরিবেশ সমীক্ষা (এসইএ) করবে। সরকার ইতোমধ্যে দরপত্র আহ্বান করেছে। আড়াই বছরের মধ্যে (২০২১ সালের ডিসেম্বরে) এই কাজ শেষ হওয়ার কথা। অথচ এর আগেই রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার।
গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত প্রতিবেদন ‘বাংলাদেশ হতে চলেছে কয়লার ভাগাড়’ পাঠকের মনোযোগ কাড়বে বলেই ধারণা। এতে বলা হয়, সারা বিশ্ব যখন জলবায়ু সমস্যা নিয়ে উদ্বিগ্ন, তখন উন্নয়নের দোহাই দিয়ে বাংলাদেশে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ চলছে। শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক সুলতানা কামাল।
আমরা মনে করি, সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়কের বক্তব্যে সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিই প্রতিফলিতে হয়েছে। গত ১০ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বিষয়ক উপদেষ্টা বলেছেন, ‘ইউনেস্কোর কাছে বাংলাদেশ তিনটি কাজ করার অঙ্গীকার করেছে। এর মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৌশলগত পরিবেশ সমীক্ষা (এসইএ) শুরুর জন্য সরকার ইতোমধ্যে দরপত্র আহ্বান করেছে। আগামী আড়াই বছরের মধ্যে এই কাজ শেষ হবে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে ইউনেস্কোর একটি প্রতিনিধিদলকে সুন্দরবন দেখতে আসতে আমন্ত্রণ জানানো হবে। এছাড়া সুন্দরবন নিয়ে একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করছে সরকার।’
কৌশলগত পরিবেশ সমীক্ষা করার আগেই কেন সরকার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ শুরু করল, সেটি আমাদের জানা নেই। তবে এটি জ্বালানি উপদেষ্টার বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়, তা বলাই যায়।
রামপাল প্রকল্প নির্মাতা ভারতীয় কোম্পানি এনটিপিসির সব কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প সে দেশে স্থগিত করেছে। আমরা ওই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ শুরু করেছি। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি উৎপাদন শুরু করলে সুন্দরবনের বৃক্ষ ও জীববৈচিত্র্য হুমকিতে পড়বে। সে ক্ষেত্রে বিপদাপন্ন বিশ্ব-ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পাবে সুন্দরবন। তাই বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হবে বলেই আমাদের প্রত্যাশা।

সর্বশেষ..