সারা বাংলা

খাঁচায় মাছ চাষ বাড়ছে সিরাজগঞ্জে

শরীফ আহমদ ইন্না, সিরাজগঞ্জ: নিজের পুকুর বা খামার ছাড়াও মাছ চাষ করা যায় দেশের বিভিন্ন এলাকায়। আর এ নতুন ভাসমান পদ্ধিতে মাচ চাষের জনপ্রিয়তা ও চাহিদা বাড়ছে সমান তালে। এতে অতি বর্ষায়ও মাছ ভেসে যাওয়ার ভয় থাকে না। আর ভাসমান খাঁচায় মাছ চাষও লাভজনকও। সিরাজগঞ্জের ফুলজোড় ও করতোয়া নদীতে খাঁচায় মাছ চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন যুবক। এ চাষে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া গেলে আরও বেকার যুবক এ পেশায় এসে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি দেশে মাছের চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এ চাষের জন্য তুলনামূক কম স্রোত ও অগভীর নদী বেশি উপযুক্ত। মেঘনা বা পদ্মার মতো খড়স্রোতা নদী নয়। এজন্য শাখা নদী বা উপনদী যেখানে পানি কম থাকে, এরকম নদীতে এ পদ্ধতিতে চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়া যাবে।

খাঁচায় মাছ চাষের আগ্রহের বিষয়ে জানতে চাইলে উল্লাপাড়া উপজেলার চর ঘাটিনার ফজলুল হক জানান, দুই বছর আগে টিভিতে নদীতে খাঁচায় মাছ চাষের ওপর একটি প্রতিবেদন দেখে এ চাষে আসেন তিনি। স্থানীয় মৎস্য অফিসে যোগাযোগ করে রাজশাহী জেলার মোহনপুর উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা ড. আমিমুল এহসানের খোঁজ পান। ওই কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে নদীতে ভাসানো খাঁচায় তেলাপিয়া মাছ চাষের প্রশিক্ষণ নেন। এর পর গত বছরের জানুয়ারিতে তিনি নিজের বাড়ির পাশে করতোয়া নদীতে ৫০টি প্লাস্টিক ড্রাম ফেলে প্রয়োজনীয় বাঁশ, কাঠ ও নাইলন নেট দিয়ে ২০টি কাঁচা তৈরি করেন। এতে ব্যয় হয় প্রায় আড়াই লাখ টাকা।

প্রথমবার এ খাঁচায় দেড় লাখ টাকার ১০ হাজার তেলাপিয়া মাছের পোনা ছাড়েন। চার মাসে এসব পোনা পূর্ণাঙ্গ মাছে রূপ নেয়। প্রতিটির ওজন হয় ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম। চার মাসে মাছের

খাবার ও আনুষঙ্গিক পরিচর্যার জন্য ব্যয় হয় আরও তিন লাখ টাকা। এতে উৎপাদিত হয় প্রায় ১২ লাখ টাকার মাছ।

ফজলুল হক জানান, প্রথম দফায় তার এ প্রকল্পে বিনিয়োগের তুলনায় লাভের পরিমাণ কম। এর পর দ্বিতীয় দফায় চাষে বেশ লাভ হয়। কারণ তখন আর খাঁচা বানাতে হয়নি। তিনি জানান, এ প্রকল্পে গ্রামের কয়েকজন যুবকের অস্থায়ী কর্মসংস্থানও করে দিয়েছেন।

বর্তমানে সিরাজগঞ্জের করতোয়া ও ফুলজোড় নদীতে খাঁচায় মাছ চাষ হচ্ছে। জেলার অন্তত ৫০ যুবক খাঁচায় মাছ চাষ শুরু করেছেন।

মৎস্য কর্মকর্তা আমিমুল এহসান জানান, ২০১২ সালে তার কর্মস্থল ছিল চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়। সেখানে বিজিবির সহযোগিতায় মহানন্দা নদীতে ভাসমান খাঁচায় তেলাপিয়া মাছ চাষে সফলতা পান। এর পর এই প্রযুক্তি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ করেন।

উল্লাপাড়া উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, দেশের প্রথম কুমিল্লায় এ পদ্ধতিতে মাছ চাষ শুরু করা হয়। প্রবহমান নদীর পানিতে ভাসমান খাঁচায় মাছের পোনাগুলোর প্রাকৃতিক স্বাদও অটুট থাকে। ফলে বাজারে এ মাছের চাহিদাও বেশি।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, জেলায় অর্ধশত মাছচাষি প্রায় তিন শতাধিক খাঁচায় মাছ চাষ করছেন। স্থানীয় অনেক বেকার যুবকও এ পেশায় আসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তারা পরামর্শের জন্য আসেন। জেলা মৎস্য অফিস থেকে পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..