বিশ্বসাথে

খাতুনগঞ্জের বাণিজ্যিক কার্যক্রম এখনই রক্ষা করুন

স্বাধীনতার পর চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ-আছদগঞ্জ-চাক্তাইয়ে জমে ওঠা ভোগ্য ও শিল্পপণ্যের বড় পাইকারি এবং খুচরা বাজারকে কেন্দ্র করে গঠিত হয় দেশের প্রধান কয়েকটি শিল্পগ্রুপ। দিনে হাজার কোটি টাকার লেনদেনে সেখানে ব্যাংক খাতের বাড়ন্ত পরিসর অপরিহার্য হয়ে পড়ে। কিন্তু এই বিশাল বাণিজ্যিক কার্যক্রম এখন থমকে গেছে। কমেছে ব্যাংকিং লেনদেন। বেড়েছে খেলাপি ঋণ। স্বনামধন্য অনেক ব্যবসায়ীসহ বহু মধ্যম মানের ব্যবসায়ী ঋণ পরিশোধ না করে বিদেশে লাপাত্তা রয়েছেন। বস্তুত, এখানকার বন্দর, আমদানি-রফতানি বাণিজ্য ও অবকাঠামো সুবিধার কারণে টিকে,
পিএইচপি, কেডিএস, এস আলম, জিপিএইচ, এমইবি, নুরজাহান, বিএসএম-এর মতো বিভিন্ন শিল্পগ্রুপ গড়ে উঠতে সহায়ক হয়েছিল। ছোট-বড় প্রায় ১০ হাজার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের এই বিশাল ব্যবসাকেন্দ্রে সারা দেশের ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন কেবল বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করেই ডিও লেটার বা চেকের বিনিময়ে বাকিতে কয়েকশ কোটি টাকা লেনদেন করতেন।
২০০৬-০৭ সালে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা এবং তার তিন বছর পর প্রায় হাজার কোটি টাকার লেনদেনের নজিরও এখানে রয়েছে। কিন্তু আস্থা-বিশ্বাসের এই বাজার-বাণিজ্যকে প্রতারণা, জালিয়াতি আর শঠতার ঘুণে কামড়ে ধরেছে। উপরন্তু, চার বছর ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যপণ্যের বাজার কমে আসায় ব্যবসায়ীদের পুঁজি কমে আসে। বেশি দামে পণ্য আমদানি করে কম দামে বিক্রি করা এবং বাজারের চাহিদার তুলনায় বেশি পণ্যের স্টক করে তারা একটি নিয়ত লোকসানের মধ্যে পড়েন। ফলে বাধ্য হয়েই তারা ব্যবসা গুটিয়ে নিজেদের লুকিয়ে নেন। ঐতিহ্যবাহী বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের মালিকসহ ২৫ জনের অধিক ব্যবসায়ী পাওনাদার ও ব্যাংকের প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা পরিশোধ না করেই পালিয়ে রয়েছেন। অথচ আগের প্রসিদ্ধ ব্যবসায়ীদের হাত ধরে লাভবান হওয়া গোষ্ঠী মারফাত ব্যাংক ও ব্যবসায়ীর সংখ্যাও ক্রমে বেড়ে ওঠে।
দ্বিতীয় প্রজন্মের গড়ে ওঠা অনেক ব্যাংক এই রমরমা ব্যবসায় বাজারের স্বাভাবিকতা ভুলে বেশি মুনাফার লোভে আটকে পড়ে। ফলে নতুন ও অনভিজ্ঞ ব্যবসায়ী বা উদ্যোক্তারা অসম আর নীতিভ্রষ্ট প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হন। তাতে ব্যবসায়ী ও ব্যাংক উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভালো ব্যবসায়ীরা যেমন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছেন, তেমনি খাতুনগঞ্জের অনেক ব্যাংকের শাখা লোকসানে রয়েছে। ঝুঁকির মধ্যে থাকা ঐতিহ্যবাহী ব্যবসায়ীদের ঋণ দিতে ব্যাংকগুলো আতঙ্ক বোধ করছে এবং লেনদেনও যথেষ্ট কমে এসেছে। এ দৃষ্টান্ত দেশের ব্যবসা-পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। সংকট দীর্ঘায়িত হলে বড় ধসের নজিরও সৃষ্টি হতে পারে। তাই যে কোনো উপায়ে এ ব্যবসাকেন্দ্রের স্বাভাবিকতা পুনরুদ্ধারে সরকার ও কর্তাজনদের সচেষ্ট হতে হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..