দিনের খবর বাণিজ্য সংবাদ শিল্প-বাণিজ্য

খাতুনগঞ্জে দৈনিক বিক্রি কমেছে ৮০ শতাংশ

লকডাউনের প্রভাব

সাইফুল আলম, চট্টগ্রাম: রমজান মাসের শুরুর দিকে ভোগ্যপণের চাহিদা বেশি থাকে। ফলে খুচরা ব্যবসায়ীরা এ সময়ে পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ, আসদগঞ্জ ও চাক্তাই এলাকার পাইকারি বাজারগুলোয় ভিড় করেন। স্বাভাবিক সময়ে রমজানের শুরুর দিনগুলোয় দৈনিক হাজার কোটি টাকারও লেনদেন হতো। কিন্তু চলমান লকডাউন ও করোনাভাইরাসের প্রভাবে এ বাজারের লেনদেন নেমে এসেছে শতকোটির ঘরে। অর্থাৎ লেনদেন কমে গেছে ৮০ শতাংশের ওপরে। মূলত লকডাউনের কড়াকড়ির কারণে খুচরা ব্যবসায়ীরা চলাফেরা করতে পারছেন না। পাশাপাশি বাজারের অতিরিক্ত পণ্য সরবরাহ থাকায় উল্টো বিভিন্ন পণ্যের দাম কমছে।

খাতুনগঞ্জ, আসদগঞ্জ ও চাক্তাই এলাকার পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, রমজান মাস শুরুর আগে এবং চলমান লকডাউনের শুরুর দিকে ভোগ্যপণ্যের চাহিদা বেশি ছিল। তখন চাহিদা অনুসারে পণ্য সরবরাহ দেয়া ছিল রীতিমতো চ্যালেঞ্জিং। ফলে কিছু কিছু পণ্যের দাম বাড়তির দিকে যাচ্ছিল। কিন্তু রমজান ও দ্বিতীয় দফা লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকে খুচরা ব্যবসায়ীরা পাইকারি বাজারে আসা কমিয়ে দিয়েছেন। স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক হাজার কোটি টাকা লেনদেন হতো। চলমান লকডাউন ও করোনাভাইরাসের কারণে বিক্রি নেমে এসেছে ২০ থেকে ৩০ শতাংশের কাছাকাছি। মূলত লকডাউনের কড়াকড়ি আর ব্যাংকের ক্লিয়ারিং জটিলতায় খুচরা ব্যবসায়ীরা লেনদেন করতে পারছেন না। পাশাপাশি বাজারে অতিরিক্ত পণ্য সরবরাহ থাকায় বিভিন্ন পণ্যের দাম কমতে শুরু করেছে। ছোলা, খেজুরসহ বেশকিছু পণ্যের দাম কমতির দিকে। তবে ডাল, চিনি ও ভোজ্যতেলের দাম বাড়তির দিকে।

বাজার পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, পাইকারি পর্যায়ে চাহিদা কমে যাওয়ায় ছোলার দাম কেজিপ্রতি পাঁচ থেকে সাত টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ৫৩ থেকে ৬৫ টাকা দরে। অথচ রোজার আগে ছোলার দর ছিল ৫৮ থেকে ৭০ টাকা। এর মধ্যে মিয়ানমারের ছোলা ৬৫ টাকা, মাঝারি মানের ছোলা ৬০ টাকা ও নি¤œমানের ছোলা ৫৩ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে চিনির দাম সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি তিন টাকা ৭৮ পয়সা বেড়েছে। গত সপ্তাহে পাইকারি বাজারের কেজিপ্রতি চিনির দর ছিল ৬১ টাকা ৫৬ পয়সা, যা চলতি সপ্তাহে বেড়ে হয়েছে ৬৫ টাকা ৩৪ পয়সা।

একইভাবে মসুর ডালের দাম কেজিপ্রতি ৬২ থেকে বেড়ে ৬৫ টাকা, মাঝারি মসুর ডাল ৮৫ থেকে বেড়ে ৯০ টাকা এবং দেশীয় মসুর ডাল ১০০ থেকে বেড়ে ১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে খেজুর, জিরা, দারচিনিসহ আরও বেশকিছু পণ্যের দাম কমেছে। খাতুনগঞ্জের কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, লকডাউনের কারণে চলতি মূলধন সংকটে পড়েছি। এবারের বকেয়া টাকা সঠিক সময়ে ফিরে আসবে না। পাশাপাশি রমজান মাসের নতুন অর্ডারও আসেনি। এটা আমাদের ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আর সামনে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। কারণ এখনও করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এর মধ্যে লেনদেন সীমিত। অথচ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে জাহাজ সংকট, কনটেইনার সংকট, অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যে চাহিদা না থাকা, টাকা বকেয়া থাকাÑসব মিলিয়ে এ বছরও অনেক চাপের মধ্য দিয়েই যাবে। এতে সংকটে পড়বেন ব্যবসায়ীরা।

এ বিষয়ে তৈয়বিয়া ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী ও খাতুনগঞ্জ আড়তদার সমিতির সাবেক সভাপতি সোলায়মান আলম শেয়ার বিজকে বলেন, চলমান লকডাউনের প্রভাবে দেশের সর্ববৃহৎ পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জ এলাকায় ক্রেতা সংকটে ৮০ শতাংশ লেনদেন কমেছে। আবার কিছু কিছু দোকানে লেনদেনই হচ্ছে না। মূলত সর্বাত্মক লকডাউন হওয়ার কারণে দূরের খুচরা ব্যবসায়ীরা আসতে পারছেন না। পাশাপাশি ব্যাংক লেনদেনে জটিলতা দেখা দিয়েছে। সব মিলিয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ব্যবসায়। কাছে ও শহরের কিছু খুচরা দোকানদাররা অল্প মালামাল নিয়ে যাচ্ছে। আর আমাদের বিক্রি কম হওয়ায় দামও কমছে। সব মিলিয়ে খাতুনগঞ্জ এলাকার ব্যবসায়ীরা অনেক চাপে আছে। এছাড়া লকডাউন যদি বাড়ে, তাহলে অনেক ব্যবসায়ী পুঁজি হারিয়ে পথে বসে যাবে। গত বছরও আমরা বিপুল পরিমাণে লোকসান দিয়েছিলাম। এবার একইভাবে লোকসানের শিকার হচ্ছি।

একই এলাকার মশলাজাতীয় পণ্যের ব্যবসায়ী আরাফাত রুবাই শেয়ার বিজকে বলেন, ভোগ্যপণ্যের ব্যবসার লেনদেন ৮০ শতাংশ কমেছে। আর অন্যান্য পণ্যের লেনদেন প্রায় শূন্যের কোঠায়। এসব আইটেমের দোকানগুলো পুরোপুরি বন্ধ। এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসা করে টিকে থাকা কঠিন হবে। তাছাড়া বৈশাখের হালখাতাও হয়নি। তার মানে ৭০ শতাংশ বকেয়া অনাদায়ী রয়ে গেছে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..