দেলোয়ার কবীর, ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহ জেলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি ও চালকল মালিক সমিতির সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন বলেছেন, সরকারিভাবে ধান-চালসহ সব খাদ্যশস্যের মজুত প্রায় দ্বিগুণ করতে হবে। একই সঙ্গে খাদ্যগুদামের সংখ্যাও বাড়াতে হবে। তা না হলে খাদ্যপণ্যের অকারণ মূল্যবৃদ্ধি যেমন রোধ করা যাবে না, সাধারণ মানুষও ন্যয্যমূল্যে তা পাবে না। তাছাড়া দেশের কৃষকও ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হবেন। গতকাল সোমবার ঝিনাইদহ জেলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অফিসে শেয়ার বিজের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ইতোমধ্যে সরকার ক্রয়কেন্দ্রগুলোয় কৃষকদের কাছ থেকে বাজারমূল্যে খাদ্যশস্য কেনার ফলে চাষিরা লাভবান হলেও তা কাক্সিক্ষত মাত্রায় হচ্ছে না। এ জন্য আরও বেশি পরিমাণে কিনে কৃষকদের ফড়িয়া ও দালালদের হাত থেকে বাঁচাতে হবে। তার মতে, এবার রোপা আমন মৌসুমে দেশব্যাপী ধানের আবাদ মোটামুটি ভালো হয়েছে। কিন্তু সরকারি পর্যায়ে সীমাবদ্ধতা থাকায় অধিক হারে তা কেনা সম্বব হচ্ছে না। তাছাড়া সারাবছর সংরক্ষণের জন্য দেশে ২০০০ সালে যেসব খাদ্যগুদাম নির্মাণ করা হয়েছিল, তার ধারণ ক্ষমতা আজও একই রয়ে গেছে। ৮-৯ কোটি মানুষের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে বানানো গুদামে দ্বিগুণ বা তার বেশি মানুুষের চাহিদা অনুপাতে খাদ্যশস্য সংরক্ষণ সম্ভব নয়।
জেলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি বলেন, বর্তমানে দেশের খাদ্য গুদামগুলোয় ধারণক্ষমতা ১৮ লাখ মেট্রিক টনের মতো যা কমপক্ষে ৩০ লাখ টনে উন্নীত করতে হবে। এতে সরকার স্বাভাাবিক ও আপৎকালীন জনগণের খাদ্যচাহিদার পর্যাপ্ত জোগান দিতে পারে। অসাধু ব্যবসায়ীরাও জনগণকে ধোঁকা দেওয়ার সুযোগ কম পাবে।
মোয়াজ্জেম হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, সার, বীজ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের মূল্য বেড়ে গেলেও বাজারে প্রতিমণ ধান সাড়ে ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে ধানচাষির স্বপ্ন মাটিতে মিশে যাবে। এ জন্য সরকারের উচিত বেশি পরিমাণে খাদ্যপণ্য সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে কেনা। এ জন্য আগেভাগেই কৃষকের তালিকা দলমত-নির্বিশেষে নিরপেক্ষভাবে প্রণয়ন করতে হবে। তার মতে, বাজারে প্রতি কেজি মোটা চাল এখন ৪৩ থেকে ৫০ টাকা এবং চিকন চাল মানভেদে ৬৩ থেকে ৮৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে চিকন চালের দাম প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও প্রতি কেজি মোটা চালের দাম ৬ থেকে ৮ টাকা কমেছে।
প্রিন্ট করুন

Discussion about this post