প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

খাদ্যপণ্যের দাম কমাতে লিবিয়ায় বিক্ষোভ

শেয়ার বিজ ডেস্ক: খাদ্যপণ্যের দাম কমাতে লিবিয়ায় গত শুক্রবার থেকে বিক্ষোভ চলছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুৎসংকট ও রাজনৈতিক অচলাবস্থার প্রতিবাদে দেশটিতে বিক্ষোভ হয়েছে। খবর: আল জাজিরা।

লিবিয়ায় কয়েক দিন ধরে লোডশেডিং চলছে। রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে কিছু তেলক্ষেত্র বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ করে দিলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়।

লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় শহর তোবরুকে পার্লামেন্ট ভবনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছেন বিক্ষোভকারীরা। তারা খাদ্যপণ্যের দাম কমানো ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানোর দাবি জানান।

বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্ট ভবনে ঢুকে ভাঙচুর চালান। তারা টায়ারে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে পার্লামেন্ট ভবনের সীমানা ঘেঁষে ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়। তাছাড়া পার্লামেন্ট ভবনের কিছু অংশ পুড়েও গেছে।

বুলডোজার দিয়ে পার্লামেন্ট ভবনের ফটকের কিছু অংশ ভেঙে ফেলেন বিক্ষোভকারীরা। এরপর সহজে পার্লামেন্ট ভবনে ঢুকে পড়েন বিক্ষোভরত লোকজন। কিছু বিক্ষোভকারীকে দাপ্তরিক নথিপত্র ছুড়ে ফেলতে দেখা যায়। তাদের কারও কারও হাতে ছিল গাদ্দাফি আমলের সবুজ পতাকা।

অন্যান্য শহরেও বিক্ষোভ হয়। দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর রাজধানী ত্রিপোলিতে কয়েকশ বিক্ষোভকারী সেন্ট্রাল স্কয়ারে জড়ো হন। তারা সশস্ত্র মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে সেøাগান দেন। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানো ও খাদ্যপণ্যের দাম কমানোর দাবি জানান।

প্রতিনিধি পরিষদ হিসেবে পরিচিত লিবিয়ার পার্লামেন্ট ভবন রাজধানী থেকে কয়েক শ কিলোমিটার দূরে পূর্বাঞ্চলীয় তোবরুকে অবস্থিত। দীর্ঘ সময়ের শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে উৎখাতের তিন বছর পর ২০১৪ সালে রাজনৈতিকভাবে পূর্ব ও পশ্চিম দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায় দেশটি।

দুটি সরকার বর্তমানে লিবিয়ায় ক্ষমতার জন্য লড়াই করছে। রাজধানী ত্রিপোলিতে সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী আবদুল হামিদ দিবাহ। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফাতহি বাশাগা নিজেই ক্ষমতায় থাকার দাবি করেছেন। ফাতহি তোবরুকে অবস্থিত পার্লামেন্টের সঙ্গে জোটবদ্ধ।

লিবিয়াকে রাজনৈতিকভাবে এক করার প্রচেষ্টায় ২০২০ সালে শান্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়। কিন্তু ডিসেম্বরে নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও সেটা হয়নি।

তোবরুকে বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচনের দাবি জানান। একই সময় অন্য বিক্ষোভগুলোয় জীবনযাত্রার মানের অবনতি হওয়ার জন্য প্রতিবাদ জানানো হয়।