প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি ব্যয় সামলাতে নাভিশ্বাস কেপে ভার্দের জনগণের

শেয়ার বিজ ডেস্ক: ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে আফ্রিকার দেশগুলোর ওপরও। এ মহাদেশের ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দেও এর ব্যতিক্রম নয়। যুদ্ধের কারণে খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশটির জনগণ জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। দেশটি রিপাবলিক অব কাবো ভার্দো নামেও পরিচিত। খবর: আফ্রিকা নিউজ।

দেশটির অধিবাসীদের আশা, সরকার খাদ্যের মূল্যস্ফীতি, পেট্রোল ও অন্যান্য সেবার বাড়তি দাম কমাতে কল্যাণমূলক পদক্ষেপ নেবেন।

অনেক ব্যবসায়ী বর্তমানে খাদ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য খাদ্য আমদানিকারকদের কারসাজি বন্ধে পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

কেপ ভার্দের ব্যবসায়ী লেনিন মেন্ডেজ বলেন, দেশের সব পর্যায়ে মূল্যস্ফীতির নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে খাদ্য উৎপাদনে এর প্রভাব মারাত্মক। আমরা আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল, তবে মূল্যস্ফীতির পুরোটা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য যে হচ্ছে তা নয়। প্রায়ই উৎপাদক ও ব্যবসায়ীরা মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে থাকেন। আমাদের দেশে খাদ্য ও খাদ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার আইন নেই। এ খাতের তদারকি করারও কেউ নেই।

দেশটির পরিসংখ্যান ব্যুরো জানায়, গত ফেব্রুয়ারিতে পণ্যের দাম শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে হয় ৭ দশমিক ১ শতাংশ, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। শস্যদানা থেকে অলিভ অয়েল, চাল, এমনকি জ্বালানি তেল, রুটি, চিনি, ময়দা ও মাংসের দাম অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেড়েছে বলে দেশটির নাগরিকরা মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে দাম কমাতে অনুরোধ করেছেন তারা।

সান্তা ক্যাটারিনা মিউনিসিপ্যালিটির ৫০ বছর বয়সী গৃহিণী মারিয়া দা লুজ বলেন, আড়াই ইউরো দিয়ে দুই লিটার তেল কিনেছি। কিন্তু দামের কারণে মুরগি খাবার কিনতে পারছি না। তাছাড়া আমার চালও দরকার। তিনিও অন্যসব নাগরিকদের মতো সরকারের কাছে দাম কমানোর অনুরোধ জানান।

তিনি বলেন, সরকার আমাদের সহায়তার জন্য যুদ্ধ করছে কিন্তু মর্যাদা রক্ষার জন্য তাদের আরও সাহসী পদক্ষেপ নেয়া উচিত। তিনি ‘দরিদ্র’ জনগোষ্ঠীর জন্য দাম ‘সীমিত’ করার প্রস্তাব দিয়েছেন যাতে তারা পর্যাপ্ত পণ্য কিনতে পারেন। এছাড়া ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ হওয়ার জন্য সবাইকে প্রার্থনা করার কথা বলেন তিনি।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ইগুইনিও লিমা বলেন, সরকারের উচিত পণ্যের দাম কমানো অথবা বেতন বাড়ানো। ফল বিক্রেতা মায়রা আন্দ্রে বলেন, ক্রেতাদের সঙ্গে দর কষাকষি অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেড়েছে। চড়া দামে কিনতে হচ্ছে সব ধরনের ফল।

চলতি মাসে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ে ৫ শতাংশ, যা সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমা বলে জানায় দেশটির কর্তৃপক্ষ। অথচ গত বছর জ্বালানির দাম বাড়ে গড়ে ৪২ দশমিক ৬ শতাংশ। গত জানুয়ারিতে যা ছিল ৭ শতাংশ।

দেশের প্রধানমন্ত্রী ইউলিসেস কোরেইয়া ই সিলভা এর আগে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার জন্য জাতীয় ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন। তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে ন্যূনতম মজুরি বাড়ানো হলে বেসরকারি খাতে সমস্যা আরও বাড়বে, এমনকি কর্মক্ষেত্রে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে, যাতে কমে যেতে পারে চাকরির সংখ্যা। বর্তমানে বেসরকারি খাতে দেশটির ন্যূনতম মজুরির হার ১১৭ ইউরো, সরকারি খাতে যা ১৩৫ ইউরো। তবে ২০২০ সালে কভিড-১৯ মহামারির আগে প্রধানমন্ত্রী বেসরকারি খাতে ন্যূনতম মজুরি ১৩৫ ইউরো বাড়ানোর কথা বলেছিলেন, যা এক সংসদীয় সরকারে ৩৫ শতাংশের বেশি। এর আগে ২০১৬ সালে ন্যূনতম মজুরি বাড়িয়ে ৯৯ ইউরো করা হয়।