Print Date & Time : 6 May 2021 Thursday 3:17 am

খাদ্যপণ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার উদ্যোগ জোরদার হোক

প্রকাশ: March 5, 2021 সময়- 12:12 am

আন্তর্জাতিক উম্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে কম সময়ে সাড়ে পাঁচ লাখ টন চাল কেনার উদ্যোগ সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত বলেই আমরা মনে করি। উম্মুক্ত দরপত্র দাখিলের সময়সীমা পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশের তারিখ থেকে ৪২ দিনের পরিবর্তে ১০ দিন করার প্রস্তাবও সবিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কেননা পেঁয়াজ, তেল ও চালের মতো কিছু নিত্যপণ্যের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিদিনই বাড়ে-কমে। সেখানে এত বেশি ধরে দরপত্রের জন্য অপেক্ষা করা সম্ভব নয়। বেশি সময় দিলে প্রতিযোগিতামূলক দাম পাওয়া যাবে না। ফলে বেশি দামে কিনতে হবে। তাছাড়া পরিবেশ পরিস্থিতিও বিবেচনায় নিতে হয়।

এ বছর খাদ্যশস্য উৎপাদন কম হয়েছে। গতবার বন্যা, অতিবৃষ্টি ও মহামারি কভিডের প্রভাবে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন বিপর্যস্ত হয়। ফসল উৎপাদন ও মজুদ কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মহামারি না হলে হয়তো দেশ খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ থাকত।

চাল কেনার বিষয়ে কয়েকটি বিষয় লক্ষ রাখতে হবে। চাল যেন মানসম্পন্ন হয় এবং দামও যেন যৌক্তিক হয়। দরপত্র উম্মুক্ত হলেও এতে একটি সাধারণ শর্ত থাকে, ‘কর্তৃপক্ষ সর্বনিম্ন দরপত্র গ্রহণে বাধ্য নহে’। কোনো মারপ্যাঁচে দেশ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। আর কোনোভাবেই ঘোষিত পরিমাণের চেয়ে বেশি চাল না কেনা হয়। এর আগে ঘাটতি ১০ লাখটনের বিপরীতে ৮২ লাখ আমদানির দৃষ্টান্ত আছে। ফলে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। শুল্কমুক্ত সুবিধায় অতিরিক্ত চাল আমদানি করা হলে অনেকে আমদানিতে ঝুঁকবে।

চাল আমদানি যেন বাজারকে অস্থির না করে। চাল আমদানি স্থায়ী সমাধান নয়। আমদানিতে সমাধান না খুঁজে কৃষি উপকরণ, উন্নত বীজ, সার, সেচ সহজলভ্য করতে হবে। এগুলো দাম বেড়ে গেলে কৃষকের উৎপাদন খরচও বেড়ে যায়। ফলে তারা নিরুৎসাহিত হয়।

পরিসংখ্যান ব্যুরো বলছে, সারাদেশের তুলনায় উত্তরাঞ্চলের চার জেলায় দারিদ্র্য বাড়ছে। অর্থনীতিবিদ ও স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, মূলত ফসলের যৌক্তিক দাম না পাওয়ায়ই দারিদ্র্য বাড়ে।

চাল আমদানিতে কয়েকটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী কলকাঠি নাড়ে বলে অভিযোগ। তারা সংঘবদ্ধ হয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখেন। অনেক সময় সরকারি গুদামে চাল সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে অনীহা দেখায়। তাদের স্বেচ্ছাচারিতা যেন দৌরাত্ম্যে পর্যবসিত না হয়। ধানের ভালো ফলন হওয়ার পর সরকারের উচিত বোরোর আগে কৃষক যাতে ভালো দাম পান, সে জন্য শুল্ককর পুনরায় আরোপ করা। চাল আমদানিতে শুল্ক আরোপ না করতে ‘আমদানি লবি’ সক্রিয় থাকে। পরপর দুই বছর কৃষক ধানের দাম না পেলে তা কৃষি অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। ক্ষতি পোষাতে এবং নিজেদের প্রয়োজনেই  কৃষকরা বেশি বিনিয়োগ করেন ও বেশি জমিতে বোরো ধান করেন। এটির যেন ন্যায্য দাম পায়। চাল আমদানি যেন কোনোভাবেই তাদের দুর্ভোগের কারণ না হয়। বোরো ধান ওঠার সময়ে চাল আমদানি নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। পাশাপাশি খাদ্যপণ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার উদ্যোগ জোরদার করতে হবে।