প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

খাদ্যের চাহিদা ও উৎপাদনের সঠিক হিসাব নিরূপণ হোক

খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন হয়েছে। তবু ভাত এখনও বাঙালির প্রধান খাদ্য। ফলে চালের বাজার একটু এদিক-সেদিক হলে তা আলোচনায় আসে। কারণ সীমিত ও নি¤œ আয়ের লোকজনের ভোগান্তি বাড়ে। এ অবস্থায় গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ বলা হলেও চলছে চাল-গম আমদানি’ শীর্ষক প্রতিবেদন সাধারণ মানুষের মনে উদ্বেগ বাড়াবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, খাদ্য উৎপাদনে বাংলাদেশ ‘স্বয়ংসম্পূর্ণ’Ñএ কথা বিভিন্ন সময় বলা হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী এ কথা প্রায়ই বলে থাকেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রীও এ কথা একাধিকবার উল্লেখ করেছেন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ‘জাতিসংঘ ফুড সিস্টেমস সামিট ২০২১’-এ তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির হার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারকে ছাড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশ খাদ্য ঘাটতির দেশ থেকে খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠেছে। গত ৬ মার্চ একই দাবি করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ, কোনো ঘাটতি নেই।’ যদিও বাস্তব চিত্র তার উল্টো তথ্যই দেখাচ্ছে। নিয়মিতই বাংলাদেশ খাদ্যশস্য আমদানি করে থাকে। প্রধান দুই খাদ্যশস্যও (চাল ও গম) এর বাইরে নয়। বিশেষত গত দুই অর্থবছর গমের পাশাপাশি রেকর্ড পরিমাণ চাল আমদানি করেছে বাংলাদেশ। সরকারি ও বেসরকারি উভয় পর্যায়েই এ আমদানি হয়েছে।

আমরা মনে করি, ভিন্ন তথ্যের কারণে সিদ্ধান্ত নেয়া কঠিন হয়ে পড়ে। চালের দাম স্থিতিশীল রাখতে উৎপাদন, মজুত ও সরবরাহের প্রকৃত হিসাব নিরূপণ করা জরুরি। সঠিক হিসাব থাকলেই করণীয় নির্ধারণ করা যায়।

চালের বাজারে এখন একচেটিয়া ব্যবসা চলে। চালের আমদানি, ধান-চাল কেনা, চাল উৎপাদন, মজুত, অভ্যন্তকরীণ বাজারে সরবরাহ ও বিপণন তদারকি করতে হবে।

কর্তাব্যক্তিরা বলেন, চালের দাম বাড়ার কোনো যুক্তি নেই, আমদানিকৃত চাল আছে, সরকারের গুদামে পর্যাপ্ত চালের মজুত আছে। এ অবস্থায় চালের দাম বাড়তেই পারে না। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। সতর্কতা, অভিযান, জরিমানা সত্ত্বেও দাম বাড়ে, বাড়ছে।

নিজেদের সাফল্য দেখাতে হয়তো এক মন্ত্রণালয় বলবে, উৎপাদন বেড়েছে। আরেক মন্ত্রী বলবেন, গুদামে সরকারি গুদামে পর্যাপ্ত মজুত আছে, ব্যবসায়ীদের গুদামে মজুত নেই এবং মজুতদারদের পাকড়াও করতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিক্রেতারাও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছেন না। কিন্তু কোন তথ্য সঠিক, কোন তথ্য বিবেচনায় নিয়ে চাহিদা-মজুত-দাম নির্ধারণ করা হবে? প্রকৃত তথ্য জানা থাকলে সেদিকে জোর দেয়া যায়। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, ‘চালে যদি আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণই হই, তাহলে চাল আমদানি করতে হচ্ছে কেন?’ একবার এ প্রশ্ন করেছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীও। চিকন চাল, সুগন্ধি চালের দাম বৃদ্ধি নিয়ে সাধারণ মানুষের ভাবনা নেই। কেননা, কেনার সামর্থ্য নেই বলে তারা তা ভোগ করেন না। মোটা চাল যাতে তাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে, সেজন্য সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।