সম্পাদকীয়

খাদ্যে ভেজাল রোধে চাই স্থায়ী ব্যবস্থা

 

রমজান এলে রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ভেজালবিরোধী অভিযান বৃদ্ধি পায়। এ সময়টায় খাবারের ব্যবসা যেমন চাঙা থাকে, তেমনি খাদ্যে ক্ষতিকর উপাদান মেশানো ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরিরও যেন মহোৎসব শুরু হয়। গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে অন্তত সে তথ্যের সত্যতা মেলে। শেয়ার বিজে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বোম্বে সুইটস অ্যান্ড চানাচুর, আলাউদ্দিন সুইটমিট, ফখরুদ্দিন রেস্টুরেন্টের মতো ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানও মেয়াদোত্তীর্ণ কাঁচামাল ব্যবহার করে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদনের দায়ে জরিমানা গুনেছে। প্রতিষ্ঠিত এসব ব্র্যান্ডের কাছ থেকে এমন অনৈতিক ও বেআইনি কর্মকাণ্ড আশা করা যায় না। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, ভোক্তারা তাহলে কাকে বিশ্বাস করবে? ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠানই যদি এমন করে, তাহলে অন্য সব ছোটখাটো প্রতিষ্ঠানের কী হালÑসে প্রশ্নও এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।

ভেজাল ও নকল খাদ্যপণ্য উৎপাদন, খাদ্যে ক্ষতিকর উপকরণ মেশানো, ওজনে কারচুপি, অতি উচ্চমূল্যে পণ্য বিক্রিÑএসব অভিযোগ রয়েছে দেশের ব্যবসায়ীদের একটি বড় অংশের বিরুদ্ধে। একাধিক সংস্থার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় মিলেছে সাময়িক প্রতিকার; তবে ব্যাপক অর্থে এ সমস্যার তেমন সমাধান হয়েছে, সে কথা বলা যাবে না। ভোক্তারা মনে করেন, খাদ্য ও ওষুধের মতো প্রয়োজনীয় পণ্যের উৎপাদক থেকে খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত একটি বড় অংশের মধ্যে দুর্বৃত্তায়ন ঘটেছে। সংগত কারণে এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণের সুযোগ নেই। কিছুদিন আগে খাদ্য ব্যবসায়ীদের একাংশ অবশ্য হাইকোর্টে রিট করেছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে। তাদের অভিযোগ, অনেক সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের অনুপস্থিতিতে আদালত পরিচালনা ও অযৌক্তিক পর্যায়ে দণ্ড প্রদান করেন। এ অবস্থায় আমরা মনে করি, পুরো বিষয়টির একটি প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ প্রয়োজন। একেক সময় একেক সংস্থার ভ্রাম্যমাণ আদালত বিচ্ছিন্নভাবে জেল-জরিমানা করে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে অপরাধের তুলনায় দণ্ড হয় অত্যন্ত লঘু। এদিকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ক্ষতিকর উপাদানে খাদ্যপণ্য উৎপাদন জনস্বাস্থ্যকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলে। দিন দিন এসব খাদ্য গ্রহণে পরোক্ষভাবে মৃত্যুও ঘটছে মানুষের। সেজন্য খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহের পুরো প্রক্রিয়া কঠোর তদারকির মধ্যে নিয়ে আসা প্রয়োজন। আইন সংশোধন করে আলোচ্য অপরাধগুলোর সাজা আরও কঠোর করা যায় কি না, সেটিও রাখতে হবে বিবেচনায়। মাঝেমধ্যে অল্প কিছু প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করলে এ অপরাধ বন্ধ করা যাবে না। মাঠপর্যায়ে এসব তদারকির জন্য স্বাস্থ্য, খাদ্য, শিল্প, আইন প্রয়োগ এসব কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে স্থায়ী তৃতীয় একটি শক্তিশালী সংস্থা গঠন করা যেতে পারে। আর শুধু রমজানে নয়, সারা বছরই সংস্থাটি নিজস্ব লোকবল নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে খাদ্য ও ওষুধের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের বাজারে দেখভাল করবে সে প্রত্যাশা আমরা করতেই পারি।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

সর্বশেষ..