প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ: ছয় গুণ মুনাফা বাড়লেও কমছে লভ্যাংশের হার

 

নাজমুল ইসলাম ফারুক: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ লিমিটেডের মুনাফা প্রতি বছর বাড়ছে। গত পাঁচ বছরে প্রতিষ্ঠানটির মুনাফার পরিমাণ প্রায় ছয়গুণ বেড়েছে। তবে মুনাফা বাড়লেও বছর শেষে লভ্যাংশ দেওয়ার পরিমাণ বাড়েনি, বরং কমেছে। সে সঙ্গে বোনাস লভ্যাংশ দেওয়ার কারণে ডিভিডেন্ড গেইন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা।

তথ্যমতে, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ২০১৪ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। তালিকাভুক্তির পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি বিনিয়োগকারীদের বোনাস লভ্যাংশ দিয়ে আসছে। তালিকাভুক্তির আগের বছর ২০১৩ সালে কোম্পানিটি ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিলেও পুঁজিবাজারে আসার পর বোনাস দিয়ে যাচ্ছে। এবার লভ্যাংশ দেওয়ার পরিমাণও আগের বছরের চেয়ে কমেছে। একদিকে বোনাস লভ্যাংশ, অন্যদিকে পরিমাণ কম দিয়ে বিনিয়োগকারীদের ঠকানো হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোম্পানি সচিব তপন কুমার সরকার বলেন, ‘কোম্পানির শেয়ারসংখ্যা আগের বছরের চেয়ে বেড়েছে। এ কারণে ইপিএসও সামান্য কমেছে। ফলে কোম্পানির পর্ষদ আগের বছরের চেয়ে গত সমাপ্ত বছরে লভ্যাংশ কম দিয়েছে।’

‘বোনাস লভ্যাংশ না দিয়ে নগদ লভ্যাংশ দিচ্ছেন না কেন’ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেওয়া হয়।’

আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কোম্পানিটি তালিকাভুক্তির বছর ২০১৪ সালে বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে। ওই বছর কোম্পানির কর-পরবর্তী মুনাফার পরিমাণ ছিল সাত কোটি ৪৩ লাখ টাকা। পরের বছর বিনিয়োগকারীদের জন্য ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে। ওই বছর কোম্পানির কর-পরবর্তী মুনাফার পরিমাণ ছিল ৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা। গত সমাপ্ত বছরে কর-পরবর্তী মুনাফার পরিমাণ দাঁড়ায় ১০ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। অথচ লভ্যাংশের পরিমাণ ছিল মাত্র ১১ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে মুনাফার পরিমাণ বাড়লেও কমেছে লভ্যাংশের পরিমাণ।

এদিকে বোনাস লভ্যাংশ, সে সঙ্গে তা ধারাবাহিক কম দিলেও প্রতিষ্ঠানটি সম্পদের পরিমাণ বাড়াচ্ছে। গত পাঁচ বছরে কোম্পানিটি তার মোট সম্পদের পরিমাণ বাড়িয়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। জুন ২০১৬ সমাপ্ত বছরে কোম্পানির মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২৩ কোটি ৩১ লাখ টাকা। ২০১২ সালে সম্পদের পরিমাণ ছিল ৬০ কোটি টাকা।

কোম্পানির পাঁচ বছরের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির আগে ২০১২ সালে কর-পরবর্তী মুনাফার পরিমাণ ছিল এক কোটি ৭২ লাখ টাকা। পাঁচ বছরে অর্থাৎ ২০১৬ সালে কোম্পানির মুনাফা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।

শেয়ার লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কোম্পানির শেয়ারদর গত দুবছরে সর্বনি¤œ ১৪ টাকা ৭০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৩৭ টাকা ২০ পয়সা পর্যন্ত ওঠানামা করেছে। সর্বশেষ গতকাল সোমবার শেয়ারের সর্বশেষ দর ছিল ২১ টাকা ৮০ পয়সা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো বাজারে শেয়ার ছেড়ে নগদ অর্থ তুলে নেয়। কিন্তু বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান নগদ লভ্যাংশ দেয় না। নগদ অর্থ দিতে কিছু কোম্পানির আগ্রহ নেই। সুনির্দিষ্ট নিয়মনীতি থাকলে এমনটি হতো না বলে মনে করছেন তারা।

এ সম্পর্কে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক রকিবুর রহমান বলেন, পুঁজিবাজারে দু’ধরনের গেইন করেন বিনিয়োগকারীরা। এর মধ্যে একটি ডিভিডেন্ড গেইন, অপরটি হলো ক্যাপিটাল গেইন। যেসব কোম্পানি বছর শেষে বোনাস লভ্যাংশ দিয়ে থাকে, সেসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে বিনিয়োগ করে বিনিয়োগকারীরা ডিভিডেন্ড গেইন করতে পারেন না। তবে বাজার ইতিবাচক থাকলে ক্যাপিটাল গেইন হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘নিয়ন্ত্রক সংস্থা যদি লভ্যাংশের বিষয়ে নিয়মনীতি করে দেয়, তাহলে ইচ্ছেমতো কোনো কোম্পানি বোনাস লভ্যাংশ দিতে পারবে না।’