প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

খাবার-পানির তীব্র সংকট

শেয়ার বিজ ডেস্ক: আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ও সুনামিতে বিপর্যস্ত প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপদেশ টোঙ্গায় খাবার ও সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। আগামী কয়েক দিনে বিভিন্ন দেশ থেকে ত্রাণ নিয়ে পৌঁছানোর কথা রয়েছে বেশ কয়েকটি জাহাজ ও বিমানের। এ অবস্থায় বিশ্ববাসীর কাছে আরও সহায়তার আবেদন করেছে দেশটি। খবর: বিবিসি, রয়টার্স।

আগ্নেয় ছাইয়ে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা দূষিত এবং সুনামিতে ঘরবাড়ি ধ্বংস হওয়ার পাঁচ দিন পর গত বৃহস্পতিবার নিউজিল্যান্ডের একটি বিমান ত্রাণ নিয়ে টোঙ্গায় পৌঁছেছে। টোঙ্গার প্রধান বিমানবন্দরের রানওয়ে ঢেকে রাখা আগ্নেয় ছাই পরিষ্কার করার পর ওই সামরিক বিমানটি সেখানে নামতে সক্ষম হয়। পানি, তাঁবু, যোগাযোগের যন্ত্রপাতি এবং বৈদ্যুতিক জেনারেটর নিয়ে গেছে বিমানটি।

আর গতকাল শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের জাহাজ এমএইচএনজেডএস অতেয়ারোয়ার টোঙ্গায় পৌঁছায়, যেখানে থাকছে আড়াই লাখ লিটার পানি এবং একটি ডেসালিনেশন প্লান্ট, যেটি সাগরের পানি থেকে প্রতিদিন ৭০ হাজার লিটার ব্যবহারযোগ্য পানি দিতে পারবে।

এছাড়া বৃহস্পতিবারই অস্ট্রেলিয়া থেকে ত্রাণ নিয়ে টোঙ্গার পথে রওনা হয়েছিল একটি বিমান, কিন্তু কারিগরি জটিলতায় মাঝপথে সেটি ফিরে যায়। এছাড়া ব্রিসবেন থেকে ত্রাণ নিয়ে আগামী সপ্তাহে টোঙ্গায় যাওয়ার কথা অস্ট্রেলিয়ার জাহাজ এইচএমএএস অ্যাডিলেডের।

প্রসঙ্গত, গত ১৫ জানুয়ারি দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের জলমগ্ন একটি অগ্নেয়গিরিতে প্রচণ্ড বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হলে সুনামির সৃষ্টি হয়। সুনামির প্রবল ঢেউয়ে নিকটবর্তী টোঙ্গায় অন্তত তিনজন নিহত হন, ভেসে যায় বহু ঘরবাড়ি।

টোঙ্গার দ্বীপগুলো ঢাকা পড়ে আগ্নেয়গিরির উৎক্ষিপ্ত ছাইয়ে। বিষাক্ত ছাইয়ের কারণে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়। ছাই ও সুনামির ঢেউ বেয়ে আসা লবণাক্ত পানিতে দেশটির পানি সরবরাহ ব্যবস্থা দূষিত হয়ে পড়ে। অগ্ন্যুৎপাত ও সুনামিতে সাগরের তলদেশ দিয়ে যাওয়া কেব্ল ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দেশটি পুরো বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক বলেছেন, এ বিপর্যয়ের মধ্যে জরুরি সহায়তা চেয়েছে টোঙ্গা। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে জাতিসংঘ। তিনি বলেন, পুরো দেশে ৫০ হাজার মানুষ কীভাবে খাবার ও পানি পাবে, তা নিয়ে আমরা সত্যিই উদ্বিগ্ন। দ্বীপগুলোর পানির অবস্থা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। আপাতত বেশিরভাগ মানুষ বোতলের পানির ওপরই ভরসা করছেন। তিনি জানান, আগ্নেয় ছাই আর সাগরের লবণাক্ত পানির কারণে ফসল, গবাদিপশু ও মাছের যে ক্ষতি হয়েছে, তার সরাসরি প্রভাব পড়বে অন্তত ৬০ হাজার মানুষের ওপর।