প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

খাল রক্ষা ও পুনরুদ্ধার সত্যিই জরুরি

রাজধানীতে আগে যেসব খাল ও জলাশয় ছিল, সেগুলো অতিরিক্ত পানি, বিশেষত অতিবৃষ্টির পানি ধারণ ও অপসারণে কী ভ‚মিকা রাখত, সেটা সবারই জানা। অপরিকল্পিতভাবে জমি উন্নয়নের জন্য জলাশয়গুলোর সিংহভাগই নিশ্চিহ্ন হয়েছে এবং দখলে নিঃশেষ হয়েছে অধিকাংশ খাল। রাজধানীতে অব্যাহতভাবে বেড়ে চলা মানুষ ও তার ক্রমবর্ধমান চাহিদাই যে এর দৃশ্যমান কারণ, তা কাউকে বুঝিয়ে বলতে হবে না। নগর ব্যবস্থাপনায় সুশাসনের অভাব এর ভেতরগত কারণ বলতে হবে। রাজউক, ওয়াসা ও সিটি করপোরেশনের মতো সংস্থার উদাসীনতা এবং কাজের ক্ষেত্রে তাদের সমন্বয়হীনতা খাল ও জলাশয়গুলো বিনষ্ট হওয়াকে বলা যায় অনিবার্য করে তুলেছে। বিভিন্ন প্রকৃতির সরকারের আমলে বিরামহীনভাবে এ কাজ চলেছে। তাতে নগরে উপস্থিত বিপুলসংখ্যক মানুষের ‘সুখ-সুবিধা’ নিশ্চিত হলেও অতিবৃষ্টির পানি নিষ্কাশনে সৃষ্টি হয়েছে বড় জটিলতা। রাস্তার নিচ দিয়ে যে পয়ঃপ্রণালি গড়ে তোলা হয়েছে, তার অকার্যকারিতাও এ সময়ে স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে। সময়ে সময়ে এগুলোর সক্ষমতা বাড়িয়েও ক্রমবর্ধমান তরল বর্জ্য ও অতিরিক্ত পানি সহজে নিষ্কাশন করা যাচ্ছে না। এগুলো সচল রাখার প্রচেষ্টাও লক্ষণীয় নয়। বর্জ্য নিক্ষেপে ব্যাপক অসতর্কতাও পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছে। এ অবস্থায় নগর পরিকল্পনাবিদরা অনেক দিন ধরেই বলছেন নগরীতে একসময় সচল থাকা খালগুলোর অন্তত কিছু পুনরুদ্ধারের কথা। বাস্তবতার খাতিরেই সব খাল পুনরুদ্ধার আর সম্ভব নয়। রাজধানী ঘিরে রয়েছে যেসব নদী, সেগুলোয় অতিবৃষ্টির পানি সহজে নিষ্কাশনের জন্যই যে কিছু খাল অন্তত পুনরুদ্ধার করা দরকার, সেটা সরকারও স্বীকার করছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে এর গুরুত্ব তুলে ধরে সম্প্রতি বক্তব্য রেখেছেন দেখে মানুষ আশাবাদী হয়েছে। একটি সহযোগী দৈনিকে সম্প্রতি এমন খবর প্রকাশ হয়েছে যে, কিছু খাল রক্ষা আর কিছু পুনরুদ্ধার করে সেগুলোকে রাজধানী ঘিরে থাকা চারটি নদীর সঙ্গে যুক্ত করে দিলে জলাবদ্ধতার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে। ইতোমধ্যে বর্ষাকাল প্রলম্বিত হয়ে পড়েছে এবং বাংলাদেশসহ এ অঞ্চলে বৃষ্টিপাতও বেশি হচ্ছে। এতে কেবল ঢাকা নয়, আমাদের অপর গুরুত্বপূর্ণ নগরী চট্টগ্রামও মাঝে মাঝে বিপন্ন হয়ে পড়ে। বন্দরনগরী বলে চট্টগ্রামের রয়েছে বাড়তি সমস্যা। সেখানেও খাল ও জলাশয় বিনষ্ট হওয়ার প্রভাব রয়েছে জলাবদ্ধতার ওপর। চট্টগ্রামেও রয়েছে এগুলো রক্ষায় প্রশাসনের বিরাট ব্যর্থতা আর দীর্ঘ উদাসীনতা। এখন দেরিতে হলেও এদিকে দৃষ্টি পড়েছে, এটা অবশ্য ইতিবাচক। সম্প্রতি হাইকোর্টের একটি বেঞ্চকে দেখা গেল ঢাকা জেলা প্রশাসনকে এমন নির্দেশ দিতে যে, এর খালগুলোর ওপর নির্মাণসহ দখল কার্যক্রম যেন বন্ধ থাকে। খাল ও জলাশয়ে অবৈধ দখল উচ্ছেদে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জানানোরও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। হাইকোর্টের এ রুল স্বতঃপ্রণোদিত। এ বছরে ঘন ঘন বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় মানুষের অশেষ দুর্ভোগ দেখে উদ্বিগ্ন হয়েই আদালত এমন অবস্থান নিয়েছেন বলে আমরা মনে করি। নির্বাহী বিভাগের অংশ হিসেবে প্রশাসন তার বিধিবদ্ধ দায়িত্ব পালন করলে এমন রুলের প্রয়োজনই হতো না। আমরা আশা করব, উচ্চ আদালতের নির্দেশে হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে এর খালগুলো রক্ষা ও পুনরুদ্ধারে উদ্যোগী হবে। অতিবৃষ্টির পানি নিজ নিজ বাসভবনের ভ‚গর্ভস্থ অঞ্চলে ছাদ থেকে নামিয়ে জমা রাখার ব্যবস্থাও এক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।