প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন

খুব দ্রুত শ্রীলঙ্কার পরিণতি বরণ করতে চলেছে বাংলাদেশ : মির্জা ফখরুল

প্রতিনিধি, ঠাকুরগাঁও: বাংলাদেশের অবস্থা দ্রুতই শ্রীলঙ্কার মতো হতে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এ দেশের পরিস্থিতি শ্রীলঙ্কার মতো হতে বাধ্য। কারণ এখানকার অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

এদেশে ঋণ বাড়ছে, যা সাধারণ জনগণের ঘাড়েই চাপানো হচ্ছে। এসব কারণে দেশে সমস্যা বাড়বে এবং মানুষ পথে নামতে বাধ্য হবে। গতকাল বিকালে ঠাকুরগাঁওয়ে সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের খারুয়াডাঙ্গা এলাকায় নির্বাচনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে সরকারের পদত্যাগ করা উচিত বলে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, বাণিজ্যমন্ত্রী নিজে একজন বড় ব্যবসায়ী মানুষ। তার ব্যবসায়ীদের চরিত্র সম্পর্কে ধারণা থাকা উচিত ছিল। সেক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের বিশ্বাস করে তাদের সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছেন। গোটা যে অবস্থাটা, সে অবস্থায় আমরা দেখতে পাই সরকারের পরিচ্ছন্ন মদতে এই দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করা হচ্ছে। তাদের সিন্ডিকেট দায়ী এই দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, তারা সম্পূর্ণভাবে এই রাষ্ট্রকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করেছেন। তাদের পদত্যাগ করা উচিত, কারণ গোটা দেশের মানুষ জানে তাদের সব ক্ষেত্রে ব্যর্থতার কথা। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, টাকা পাচার ও অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দেয়াÑসব মিলিয়ে তাদের পদত্যাগ করা উচিত।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান, অর্থ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম, ইউনিয়ন সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম ও জেলার অন্য সংগঠনের নেতারা।

এদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে ‘সত্য কথা’ বলার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘আমি ওবায়দুল কাদের সাহেবকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, কারণ তিনি সত্য কথা বলেছেন। তার দলের লোকেরা কোটি কোটি টাকা পাচার করেছে। এ ধরনের লোকগুলো তাদের দলে আছে। এই দলের এমপি-মন্ত্রীরা দেশের টাকা লুট করে দেশের অর্থনীতিকে ভঙ্গুর করে দিয়েছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেমন হয়েছিল, তা আপনারা দেখেছেন। জনগণ সেই নির্বাচনকে বর্জন করেছে। ১৫৪ সংসদ সদস্যকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে। সে সময়ে নির্বাচনী সহিংসতায় এ এলাকায় দুজন নিহত হন এবং একজন আহত হন। প্রতি বছরের মতো আজকে তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমরা এসেছি।

তিনি বলেন, এ সরকারের অধীনে নির্বাচন হওয়ায় আজকে এই অবস্থা। আগামীতে নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা দিয়ে নির্বাচন পরিচালনা করতে হবে, যাতে করে জনগণের ভোটের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচিত হয়ে আসতে পারেন। আজকে দেশের অর্থনীতি একেবারে ভঙ্গুর। বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি নিজেই একজন বড় ব্যবসায়ী। বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সম্পর্কে তার স্পষ্ট ধারণা থাকা উচিত ছিল।